ঈদ সাময়িকী ॥ রম্যগদ্য

তাড়া খাওয়া ভূতের জীবন

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০ | ১০:৫৪ অপরাহ্ণ | 311 বার

তাড়া খাওয়া ভূতের জীবন

র ম্য গ দ্য
তাড়া খাওয়া ভূতের জীবন
॥ তাপস রায় ॥

ভূত ভীষণ রকমের অদ্ভুত, সেইসঙ্গে কিম্ভূতও বটে। কিরূপে কী ঘটে এই কুজ্ঝটিকার কুঞ্চিত রহস্য ধরায় এখনও অধরা। যে কারণে সেই ধাঁধার অবসান এই কলিতে এসেও হয়নি। কস্মিনকালে হবে সে আশায় গুড়েবালি। গুরুদেব তো কবেই বলে দিয়েছেন: ‘চিরকাল এইসব রহস্য আছে নীরব/রুদ্ধ ওষ্ঠাধর’।

 

 

 

কবিগুরুর কথা শিরোধার্য। তাছাড়া তিনি নিজে অদ্ভুতকর্মা। সুতরাং অনুমান করি, এই পঙ্ক্তি লেখার সময় তাঁর পিলে চমকায়নি। বরং শুভ্র গোফের আড়ালে তাঁর ওষ্ঠচাপা হাসিই দেখতে পাচ্ছি।
তবে হ্যাঁ, বিতর্ক চলমান। যদিও ভূত আপনার আমার বিশ্বাসের ধার ধারে না। তারপরও বিশ্বাসীরা অবিশ্বাসী গোল গোল চোখে, মুখ বাড়িয়ে, গলা নামিয়ে বলছে, আছে আছে, এখনও আছে। অবিশ্বাসীরা বলছে, হ্যাহ্ ওসব মনের ভুল!
সমস্যা হলো, এই তর্কে ভূত স্বয়ং ভর করে অবিশ্বাসীর দলে। কারণ বিশ্বাসবাবুর প্রতি তাদের অনাস্থা চিরকালের। আচ্ছা করে বুঝিয়ে বলার পরও আপনি যদি ভূত বিশ্বাস করেন তাহলে আপনার যা শাস্তি, না-করলেও তাই। সেই শাস্তির নাম ভয়।
ভল্টেয়ার যতই বলুন, অপরাধ থেকেই ভয়ের জন্ম। সম্ভবত ব্রহ্মদৈত্যের কোপানলে তিনি কখনও পড়েননি। পড়লে তোতলাতে তোতলাতে ভূতের নামটিই আগে নিতেন।
কিম্ভূতরূপে ভয় হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানির মতো মনের পর্দায় কখন ঝলসে উঠবে কেউ জানে না। চোখের পর্দার কথা আপনি তখন ভুলে যেতে বাধ্য। এতটাই চমকে উঠবেন, চমৎকার দেখানোর সুযোগই পাবেন না।

তবে হ্যাঁ, চিৎকার দেয়ার শেষ ইচ্ছেটা পূরণ হতে পারে। শুনেছি অতি বাহাদুরের উপস্থিত বুদ্ধির ঘটও তখন উপুড় হয়ে গড়াগড়ি খায়। অবস্থাটা এই, মনজুড়ে টাইফুন, অথচ মাথা খা খা। শূন্য মগজে হাঁ করে শ্বাস নেয়াটাও তখন বাহাদুরী বটে! বিশ্বাসবাবু এ অবস্থায় বড় বেকায়দায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়। রাজলক্ষ্মীর বাধা উপেক্ষা করে শশ্মানে গিয়ে সাহসী শ্রীকান্তকে এ কারণেই শয্যা নিতে হয়েছিল। তাতে তার শখ কতটা মিটেছিল জানা না গেলেও, শরৎবাবু তাকে ভয় পাইয়ে ছেড়েছিলেন।
ভয় পেয়েছিলেন তারাশঙ্করের রামকালী শর্মাও। জাতে ব্রাহ্মণ, পেশায় লেখক, তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে বলতেন, অল ঘোস্টস মুর্দাবাদ। তাই তারই কাঁধে ‘ভূতপুরাণ’ লেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ভূতপতি নন্দী। সেই রামকালীকে যখন মাগুর মাছের মতো চেপে ধরে ভূতমাতা গয়েশ্বরীর কাছে আনা হলো, তিনি পাঁচশ লোকের পোলাও রান্না করার ডেকচির মতো মাথা দেখেই ভয়ে তোতলা হয়ে গেলেন।

সুতরাং শিব ঠাকুরের এই চ্যালারা যে তারই মতো দর্শনধারী হবেন না সে কথা বলাবাহুল্য। তাদের শ্রী নেই, সবই বিশ্রী এবং অবশ্যই বহুরূপী। কারো নখ নরুনের মতো, দাঁত নিড়ানির মতো; কারো দাঁত সাদা মুলা, কারো কান কচুপাতার মতো, কারো কুলা। গায়ের রং কেশ কালো আঁধার কালো তার চেয়েও কে কে (কুচকুচা) কালো। কোথাও কোনো আলো নেই চোখ দুটো ছাড়া। কপালগুণে ওই কপালের ওপর সবেধন লালমণি চোখ একটা থাকলেও সমবেদনা জানানোর সুযোগ নেই। ঝাউবনের মতো ভ্রুর নিচে সেই চোখে দাউ দাউ জ্বলছে কাঠকয়লার আগুন। সেই আগুনে মেজাজ নিয়ে তারা দিব্যি চলছেন আমাদেরই পাশঘেঁষে।
এই শহরের অলিগলিতে তাদের নিত্য চলাচল। চট করে চেনা যায় না তাই বাঁচোয়া। এ জন্য চাই দিব্যদৃষ্টি। দশ ঘাটের পানি খেয়ে জীবনের ঘানি ঘোরাতে ঘোরাতে ঘোড়েল না হলে কলিতে কারো দিব্যদৃষ্টি হয় না। সেই দৃষ্টিতেই শুধু ধরা পড়ে এই সমাজ, সংসারে কত অযুত, নিযুত রাম নাম জপতে জপতে দুর্নীতির কাদাজলে গঙ্গাস্নান সেরে নেয়ার অভিনয় করছেন। কত শত সরকারি টাকা চলে যাচ্ছে ভূতের বাপের শ্রাদ্ধে। যাদের জন্য এই আয়োজন এক জীবনে জানতেই পারলো না তারা কতটা ভূতগ্রস্ত!
সংসারে উল্টোটাও আছে। ভূতের বেগার খাটাই সার, ভাগ্য ফিরছে না এমন উদাহরণও বিস্তর। ঘাড়ে ভূত চেপেছে এমন লোকের সংখ্যাও সংসারে নেহায়েত কম নয়। পঞ্চায়েত সে খবর রাখে। বিলক্ষণ দেখেছি, বঙ্গরমণীরা কোমরে আঁচল পেঁচিয়ে ঝাটা দিয়ে সেই ভূত নামাতে পারেন, ফার্স্টলেডিরা পারেন না। পারলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাটা অন্তত থাকে না।

শুনেছি দেবী দুর্গা যখন মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন তার সৈন্যবাহিনীতে অনেক ভূত ছিল। তারা অট্ট অট্ট ঘট্ট ঘট্ট ঘোর হাসিতে হুম হাম থুম থাম ভীমশব্দে শত্রু নাশ করেছে। সেই ভীমশব্দ অনেক রাষ্ট্রপ্রধানের কণ্ঠেও আজকাল শুনতে পাই। তাদের ঝুপ ঝাপ দুপ দাপ লম্ফ ঝম্ফে ভূতল কাঁপে। তাদের শান্তির বাণী ভূতের মুখে রাম নামের মতো মনে হয়।
পৃথিবীজুড়ে ভূতেদের গোপন শো-রুম। সেখানেও আছে ক্লাসিফিকেশন। পেতনী, ব্রহ্মদৈত্য, কন্ধকাটা, গেছো ভূত, বেড়ে ভূত, মামদো ভূত, ভুলো ভূত, ডাকিনী, মায়াবিনী, শাঁকচুন্নী, গোদানা, নিশি, পানিমুড়া সেজে যে যেখানে যেভাবে পারছে ঘোর বশে মুক্ত কেশে অট্ট হেসে খ্যামটা নেচে ক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছে।
যদিও যার যার ডিপার্টমেন্ট তার তার। পানিমুড়ার কারিশমা পানিতে, সে গাছে ওঠে না। গেছো ভূত টিনের চৌরঙ্গীতে লম্বা লম্বা পা ফেলে নেমে আসে না। নিশির কাজ শুধু রাতে, ঘুমিয়ে থাকারাই তাদের লক্ষ্যবস্তু। ভুলোর কাজ জেগে থাকা মানুষদের নিয়ে। নইলে মায়ায় সে ভোলাবে কী করে! তবে হ্যাঁ, একটা জায়গায় সব ভূত একাট্টা। সেখানে মানুষকেও তারা লজ্জায় ফেলেছে। তারা জাত-পাত, ধর্ম-বর্ণ, উন্নত, উন্নয়নশীল, প্রগতি, দুর্গতি কেয়ার করে না।
উন্নত দেশগুলোতে হরর ফিল্মের রমরমা ব্যবসা। বিজ্ঞানের প্রবল বেগে সেসব দেশ থেকে ভূত পালিয়ে ঠাঁই নিয়েছে রুপালি পর্দায়। তাদের হরর ক্লাব আছে। হইহই করে ছুটির দিনে ভূত দেখার আয়োজন করে তারা। বেছে বেছে সেইসব রেস্টুরেন্টে তারা যায় যেখানে দপ করে নিভে যায় আলো। ব্যাকগ্রাউন্ডে দুম দুম ধুপ ধাপ শব্দের সঙ্গে ভেসে আসে খিলখিল খোনা ভূতুড়ে হাসি।

অনুন্নত দেশের মানুষের কাছে এ সবই হাসির বিষয়। শুধু হাসি নেই ভূতেদের মুখে। তাদের সোনালি দিন ফুরিয়েছে। তারপরও বিভূতিভূষণের তারানাথ তান্ত্রিকের ব্যবসা মন্দ নয়। চলিতেছে ঝাড়ফুক। সুতরাং ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবেন সে হবে না।
সমাজতন্ত্রী সমাজেও ভূত দিব্যি দাঁত কেলিয়ে আছে। ভূত তাড়ানোর মন্ত্র সেখানে উচ্চারিত হয়, গোপনে। গণতন্ত্রীরাও প্রকাশ্যে তাদের স্বীকার করে না। উল্টো বলে, ভূত বলে কিছু নেই, সবই ভবিষ্যত। ভবিষ্যতের আখেড় গোছাতে বর্তমানকে লুটেপুটে নিয়ে তারা চেটেপুটে খাচ্ছে। এ কাজে গণতন্ত্রীরা এতটাই ব্যস্ত যে, অতীত ভুলে বসে আছে। অথচ অতীত ভুললে ভবিষ্যত যে ভূপাতিত সে কথা ভূতেরাও জানে। তাই তো তারা সুযোগ পেলেই অস্তিত্ব জানান দেয়। পিলে চমকে দিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে, ভুঁলো নাঁ, ভুঁলো নাঁ।
এক সময় গ্রাম বাংলায় ভূত ছিল পরিবারেরই একজন। ভরদুপুরে ঢিল পড়ত, সন্ধ্যা হলেই গা ছমছম, রাতে নাকি সুরে গান শোনা যেত, ছায়ামূর্তিরা দলবেঁধে বেল গাছ, বট গাছ, তেঁতুল গাছ, নিম গাছ থেকে নেমে আসত লম্বা লম্বা পা ফেলে। দুই গ্রামের দুই তালগাছ ধরে ঝুলত গেছো ভূত। হেঁসেলে মাছ রান্না হলে ইনিয়ে বিনিয়ে চাইত শাঁকচুন্নী। তাদের পানে চেয়ে চোখের তারা উল্টে যেত কিশোরী বধূর।

ইলিশ মাছের মতো নববধূর শরীরে হলুদের ঘ্রাণও নাকি ভূতেদের প্রিয়। ডাইনোসরের মতো পদ্মার ইলিশের ঘ্রাণ প্রায় বিলুপ্ত। বডি স্প্রে আর ডিওডোরেন্টের কল্যাণে খাঁটি হলুদের ঘ্রাণ উধাও। অথচ আধুনিকতা মোটেই পছন্দ নয় ভূতেদের। বয়কাট চুল দেখে আজকাল তারাও প্রতারিত হচ্ছে।
খোলা চুলে বাঁশঝাড়ের নিচে এখন আর কেউ কারো প্রতীক্ষায় থাকে না। আফশোস, বাঁশঝাড় কেটে তৈরি হয়েছে ঘর। ভূতেরা খেয়েছে অদৃশ্য ঘাড়ধাক্কা। সেই অপমান তারা ভোলেনি! ঘরহারা ভূতেরা এসে ভর করেছে নাগরিক জীবনে।
পাশাপাশি পথ চলতে চলতে হঠাৎ পাশের জন নেই। দিনে-দুপুরে ভূতুড়ে কা-! আতিপাতি খুঁজে দেখা গেল উন্মুক্ত ম্যানহোলে তিনি ঠাঁই নিয়েছেন। অগত্যা হাত ধরে টেনে তুলতে তুলতে একজন আরেকজনকে বলছে, শিট ম্যান! দেখে চলতে পারো না?
পাশেই বিলবোর্ডে জনগণনন্দিত নেতা মিটিমিটি হাসছেন। বিতৃষ্ণায় ওদিকে তাকাতে গিয়েই যে এই বিপত্তি কে বুঝবে সে কথা!
ওদিকে অনেকদিন থেকেই শুনছি নায়লা ভাবির কথা। বিয়ের তের বছর কাটল। সে আর কবে মা হবে স্বামী নাদের আলী জানে না। তার জন্য পাওয়া গেছে বিফলে মূল্য ফেরত চিকিৎসা। শ্বাশুড়ি সেই গল্প শোনান আর বুকে ফুঁ দেন।
ওদিকে গিন্নির সান্ত¦নার হাজার ফুঁতেও মেজাজ ঠান্ডা হচ্ছে না হাসান সাহেবের। সারাদিন লোক হাসান। এবার নিজেই হাসির পাত্র হয়েছেন। আমুদে লোক। চোখ মুদে পাবলিক বাসে ঝিমুচ্ছিলেন। ঝাকি খেয়ে যখন চোখ মেললেন, দেখেন বেলা তো নেই-ই, বেইলও নেই। মোবাইল, মানিব্যাগ উধাও। কোন ভূতের কা- কে জানে! তাকে যে জানে মেরে রেখে যায়নি স্ত্রী, পরিজন এতেই খুশি।

‘ভুলো’র ডাকে ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। ফিরে না আসার ঘটনাও ঘটছে। যারা ফিরছেন তারা বাধ্য হয়ে কাটাচ্ছেন ভূতগ্রস্ত জীবন। ভুস করে কোনো মাইক্রোবাস পাশে এসে দাঁড়ালেও ভূত দেখার মতো চমকে উঠতে হয়। ব্যাংকে রাখা যক্ষের ধন আজকাল মানছে না দেশকালের গণ্ডি। হিঁ হিঁ হিঁ হিঁ হাসছে হ্যাকাররা।
অন্যদিকে বছরপাঁচেক আগেও এই ভূম-লে ভবের আলীর কিছু ছিল না। এখন গুলশানে আলিশান বাড়ি। নিজের গাড়িতে ভেঁপু বাজিয়ে গড়গড়িয়ে চলেন। ভূতও তাকে দেখে লজ্জা পায়, পথ ছেড়ে দাঁড়ায়। ভোজবাজির মতো পাল্টে গেছে জীবন। কোন ভূতে টাকা জোগায় সবাই জানে। জানে না শুধু প্রশাসন; ভূত তাড়ানোই ছিল যাদের দায়িত্ব। কিন্তু সরষের মধ্যেই যে ভূত! আগডুম-বাগডুম জাদুমন্ত্রে তারা বশ হয়ে আছে।
গয়েশ্বরীর কথা বলছিলাম। তিনিই আমাদের জানাচ্ছেন, ভূত বুড়ো হয়েও মরে না, রোগেও মরে না। ভূত মরে অপঘাতে। আমরা মরছি ঘাটে ঘাটে। সুতরাং তারা আছে। আমাদের আশপাশেই আছে। তারা আমাদের দেখছে, আমরা দেখছি না। আমাদের শরীর আছে, তাদের নেই- পার্থক্য এতটুকুই।
সেকালের ছেলেমেয়েরা ডাইনি বুড়ির থলে পড়ে জেনে যেতো ভূতেদের ডেইলি লাইফ। একালে এত সময় কোথায়? তারা ড্রইংরুমে বসে হরর ফিল্ম দেখছে আর পপকর্নের জাবর কাটছে। লম্বকর্ন, রক্তবর্ণ ঠোঁট, ঝুলে পড়া চামড়ার অশরীরী আত্মা তাদের অন্তরাত্মায় এতটুকু কাঁপন ধরায় না। কারণ তারা ভূত মানে না। অথচ তাদের অবচেতন মনের অনেকটাই যে ভূতেদের দখলে সে কথাও তারা জানে না।

কারো পোশাক একটু ঝলমলে দৃষ্টিকটু হলেই তারা ঠোঁট বাকিয়ে বলে, ভূতের মতো লাগছে! পাওনাদার সামনে এসে দাঁড়ালেই ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে। আবার সেই ভূত দেখার জন্যেই তাদের আয়োজনের খামতি নেই। এ জন্য ভূতের বেগার খাটতেও তারা রাজি। শুনেছি সুখে থাকলেও নাকি মানুষকে ভূতে কিলায়। অথচ তান্ত্রিকেরা কিলিয়েই ভূত ছড়ায়। তখন ভূতের মুখেই শোনা যায় রাম নাম। এখন আমার নামটিও যদি ভুলভাবে ছাপা হয় তাহলেও কিন্তু দোষ গিয়ে পড়বে ঐ ব্যাটা ছাপাখানার ভূতের ঘাড়েই। সত্যি বড়ই দুর্দিন চলছে ভূতেদের। সেইসঙ্গে ভূতগ্রস্ত এই আমাদেরও নয় কি?

 


দেশের বই পোর্টালে লেখা পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments