৬০ পূর্তিতে নোনা ব্যঞ্জনার কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু হাসান শাহরিয়ার

মঙ্গলবার, ০৯ জুলাই ২০১৯ | ২:১৬ পূর্বাহ্ণ | 181 বার

৬০ পূর্তিতে নোনা ব্যঞ্জনার কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু হাসান শাহরিয়ার
কেক কাটছেন কবি আবু হাসান শাহরিয়ারসহ অন্যান্যরা

রূপকথায় নুনের মতো ভালোবাসা কন্যাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন রাজা। পরে অবশ্য বুঝেছেন, নোনা ভালোবাসার যথার্থতা। কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু হাসান শাহরিয়ারের ৬০তম জন্মদিনে ভাষাচিত্র থেকে প্রকাশিত কবির নতুন বই ‘নোনা
ব্যঞ্জনার শিলালিপি’র গৃহপ্রকাশ ও পাঠ-উন্মোচনেও ছিলো নোনা ব্যঞ্জনার কথকতা। তিনি সার্বভৌম কবি, কবিবৃক্ষ উপাধিও তাঁরই। সাংবাদিক হিসেবেও তিনি প্রথিতযশা। ব্যক্তিজীবনে স্পষ্টবাদী, দৃঢ়চেতা ও আপসহীন। কারো ভুলটি ধরিয়ে দিতে যেমন সাত-পাঁচ ভাবেন না, তেমনি নতুনকে বরণ করে নিতেও আবু হাসান শাহরিয়ার দ্বিধাহীন চিত্তের অধিকারী। গীতল এবং ছন্দময়তায় তাঁর কবিতা অনন্য। মুক্তকণ্ঠ পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক থাকার সময় আট পৃষ্ঠার বর্ণিল সাময়িকী
‘খোলা জানালা’ বের করে শিল্প-সাহিত্যেপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়েন।

মঙ্গলবার বিকেলে গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের সেমিনার হল লোকে লোকারণ্য। তাঁর জন্মদিনে ভিড় জমিয়েছেন বাল্যবন্ধুরা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, প্রকাশকসহ তাঁর গুণমুগ্ধ ভক্তরা। ফুল, স্মৃতিকথা আর শুভেচ্ছায়সিক্ত বিদগ্ধ এই
মানুষটি, ডাক্তারের বারণ সত্ত্বেও আপ্লুকন্ঠে অনর্গল সবার সাথে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন। পাঠে পাঠে গৃহপ্রকাশ এবং কবিতাগন্ধা আড্ডা নামের দুটি বিশেষ পর্বে দ্যুতি ছড়ায় তাঁর জন্মদিনের আয়োজন।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান এই কবি তার মেধাবী সৃষ্টিকর্মের জন্য আলোচিত, স্বীকৃত। আবার প্রচ- জেদী, স্পষ্টবাদী এবং একগুঁয়ে স্বভাবের কারণে কারো কারো কাছে অপ্রিয়ও বটে। কথায় নেই কোন রাখঢাক। । তাঁর মস্তিষ্ক যেন এক চলমান কম্পিউটার। কী কবিতা, কী গল্প, কী প্রবন্ধ, কী ছড়া সবটাতেই তার সমান নৈপূণ্য, সমান দখল।

তার সম্পাদনায় দুই বাংলার শক্তিমান লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের পাশাপাশি তরুণরা দু’হাতে লিখতেন মুক্তকন্ঠের ‘খোলা জানালায়’। আবু হাসান শাহরিয়ার যুগান্তরের সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আমাদের সময় পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিন এবং সংকলনগ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অন্তহীন মায়াবী ভ্রমণ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। এই প্রকাশনার মধ্য দিয়ে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার ভুবনে দৃঢ়পদক্ষেপে প্রবেশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রাণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম এবং প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন খ্যাতিমান কবি কামাল চৌধুরী। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা স্বভাবসুলভ রসবোধে কবির সাথে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, প্রথিতযশা সাংবাদিক মুন্নী সাহা স্মৃতিচারণে তার মুন্নীত্বের গল্প শোনান। সে গল্পে কবি আবু হাসান শাহরিয়ার এক জল¡জ্বলে নক্ষত্র।
১৯৫৯ সালের ২৫ জুন রাজশাহীতে কবির জন্ম। পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের কড্ডাকৃষ্ণপুর। তার বাবা শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ সিরাজউদ্দীন ছিলেন একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও সরকারি কলেজের অধ্যাপক। মা লেখিকা রাবেয়া সিরাজ। এ দম্পতির একমাত্র পুত্র সন্তান আবু হাসান শাহরিয়ার। কথাসাহিত্যিক মনিরা কায়েস তার জীবনসঙ্গিনী।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অন্তহীন মায়াবী ভ্রমণ’ থেকে শুরু করে নোনা ব্যঞ্জনার শিলালিপি পর্যন্ত কবি আবু হাসান শাহরিয়ার বাংলা সাহিত্যকাশে আলো ছড়িয়েছেন, পেয়েছেন পাঠকপ্রিয়তা। তার অপ্রিয় সত্যবচন, অন্যায় অবিচারের কাছে মাথা নত না করা, সাহসের সাথে কলমের দৃপ্ত উচ্চারণ যেনো রূপকথার সেই নুনের মতো ভালোবাসা। যার যথার্থতা বুঝতে হয়তো আরও কিছুটা সময় লাগবে আমাদের।


লেখাটি দৈনিক আমাদের নতুন সময়-এ প্রকাশিত