দেশের বই ঈদ সাময়িকী

হোসনেয়ারা বেগম-এর একগুচ্ছ কবিতা

মঙ্গলবার, ২৫ মে ২০২১ | ১০:১১ অপরাহ্ণ | 105 বার

হোসনেয়ারা বেগম-এর একগুচ্ছ কবিতা

হোসনেয়ারা বেগম-এর একগুচ্ছ কবিতা


 

।। বাতাসে তোমার গন্ধ ভাসে ।।

বাতাসে তোমার গায়ের গন্ধ ভাসে
তুমি কি এসেছিলে এই পথে
মনভুলে কিংবা কোনো অজুহাতে?
চারদিকে মৌ মৌ পুরনো সেই গন্ধটাই
না ‘টমি গার্ল’ না ‘মেন ভার্সাস’।
তোমার শরীরের সেই আদিম গন্ধটাই
ভাসছে বাতাসে অকাল সন্ধ্যায়।
সব মান-অভিমান হারজিত
ভেঙ্গে ভেঙ্গে চূড় হয় পুরাতন বাসনায়।
তুমি কি এসেছিলে পথ ভুলে
এইদিকে কোথাও!
পাখিরাও কথা বলে ফিসফাস
ফুলে-ফুলে নীরব গুঞ্জন
পাতায় পাতায় এ তবে কীসের আয়োজন!

 

।। নিমগ্নতা ।।

বহু বহুদিন পর কে যেন ডেকে গেল ইশারায়
দূর বহুদূর হতে দাঁড়ালো এসে অস্তিত্বের সীমানায়
ছুঁয়ে না দিয়েও ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেল আমার ধূসর সময় বিমূঢ় নিস্তব্ধতা।
সুখ নয় দুঃখ নয়
বুকের উঠোনে অযথাই কেঁদে ওঠে ঝরা পাতা।
তৃষ্ণার্ত চোখ আকাশের নীলে
এক টুকরো মেঘের খোঁজে আবারও যখন দিশেহারা।
বহুদূরে মহুয়ার বনে মাতাল বাতাস
তখন মেঘ ডেকে আনে
বৃষ্টিও বুঝি নেমে আসে অঝোরে
অথচ এ চোখে তখনও অকাল খরা।
কণ্ঠে তাঁর হাজার বছরের লুকোনো আকুলতা
যতবার ডাক দিয়ে যায়
বিষাদের দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়ে
সুদূরে মিলায়।

অথচ বহুকাল আমি তারই ধ্যানে নিমগ্ন ছিলাম।

 

।। আমি তোমায় অভিশাপ দেব ।।

যদি একটিবারও চিবুক ছুঁয়ে ‘ভালোবাসি’ না বলো
তোমায় আমি অভিশাপ দেব।
রমন বিলাসে মগ্ন সময় তোমাকে একদিন
ভালোবাসার কাঙাল করে তুলবেই।
যদি একটিবারও গোলাপের নির্যাস এনে
তৃষ্ণার্ত এই ঠোঁট রঞ্জিত না করো
তবে আমি তোমায় আরও একবার অভিশাপ দেব।
তুমি সহস্র বছর ধরে পৃথিবীর সব জনপদ ঘুরে
ফিরে পাবে না কখনও আর প্রেয়সীকে
প্রেয়সীর অবয়ব ভুলে যাবে তুমি চিরতরে।
যদি একবারও এই বসন্তে
না ডাকো প্রিয় নাম ধরে
তোমায় আমি শেষবার অভিশাপ দেব।
ভালোবাসার ত্রিমোহনায় নদী ও সাগরের মিলন হলেও বিরহের উপত্যকায়
প্রণয় তৃষ্ণা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে তুমি অনন্তকাল
আমারই অপেক্ষায়।

 

।। উদাসী প্রেমিক ।।

হয়তো দেখেছ হয়তো দেখোনি
উদাস চোখে শুধুই চেয়েছিলে অবুঝ অন্ধকারে-
দেখোনি তুমি আমার বক্ষে
রুবির লকেটে দুর্বিনীত দোলায়
ধ্রুপদী প্রেমের দোল
অথচ আকাশ গঙ্গার জাগ্রত তারারা
রাতভর ভালোবেসে আলো জ্বেলে
বিলাসী চোখে চেয়ে চেয়ে দেখেছে আর
নাকফুলে মেখেছে মহুয়া পরাগ ইজেল।

সহস্র বছর ধরে ফিরে ফিরে এসেছ কেবল
ছুঁয়ে তো দেখোনি মরাল গ্রীবার বিনম্র বাসনার তিলক।
উত্তাল পায়ের নূপুরের ছন্দে সুরধ্বণী শুনেও শুনোনি তুমি
ফিরে গেছ অন্ধ অহংকারে।
অথচ মৃগয়া ঠোঁটের প্রলুব্ধ চুম্বন
তোমার স্পর্শ লোভে রক্তজবার মতোই আজন্ম কাতর।

 

।। এসো তবে ।।

আবার যদি আসো
সাগরের ঢেউ হয়ে এসো
পৃথিবীর সব উচ্ছ্বাস আর আনন্দ উল্লাস নিয়ে এসো
আঁধার অন্তনীল ক্ষীয়মাণ আলো হয়ে নয়।
সুদূর নক্ষত্রের নিমগ্ন ধ্যানের সুধাটুকু ঢেলে
একটি রঞ্জিত পুষ্প নিয়ে এসো
এসো তবে আবার
সদ্যোজাত শিশুর কান্নার পবিত্র অনুরণন হয়ে চরাচর প্রকম্পিত করে
চোরাগলির নিঃশব্দ আততায়ী হয়ে নয়।
যদি আসো আবার
এসো তবে সহস্র বসন্তের সৌরভ আর সৌন্দর্যের নির্যাস ছড়িয়ে
দখিনা বাতাসে ভেসে ভেসে
বৈশাখের তাপদাহে অন্তরীক্ষে ঝড় তুলে নয়
আমি অনন্ত অপেক্ষায় মহাকালের ত্রিমোহনায় রয়েছি দাঁড়িয়ে।

Facebook Comments Box