সেই যে ঘাড়টা ত্যাড়া করে দিলেন, আর যত্রতত্র নত করতে পারি না…

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ | 154 বার

সেই যে ঘাড়টা ত্যাড়া করে দিলেন, আর যত্রতত্র নত করতে পারি না…

॥ রুমা মোদক ॥
আমার কাছে সর্বদাই মনে হয়, কোনাে আগস্টে নয়। স্যারের মৃত্যু হয়েছে ফেব্রুয়ারির এক রাতে। স্যারের প্রিয় ক্যাম্পাসে। বাস্তবিকই কি তা নয়?

 

 

যে বাংলাদেশ তিনি চাননি, ফেব্রুয়ারির সেই রাতে তিনি তো সেই বাংলাদেশই দেখেছিলেন, স্যারের মৃত্যু হয়েছে সেদিনই।
স্যার সম্পর্কে অসংখ্য মিথ ভেসে বেড়ায় বাংলা বিভাগের আকাশে-বাতাসে।আমার মতো ফাঁকিবাজ শিক্ষার্থীরা তাঁর কোর্স এড়িয়ে চলি। তাঁর কোর্সে ক্লাস, টিউটোরিয়াল, পরীক্ষা কিচ্ছু ফাঁকি দেয়ার জো নেই৷
শেষ পর্যন্ত ফাঁকি দিতে পারিনি, ভাইভা দিলাম তাঁর বোর্ডে। কী জানতে চেয়েছিলেন স্পষ্টই মনে আছে, নাম্বার কত পেয়েছিলাম তাও। ৬৫। সে বছর এটাই ছিল ভাইভায় দেয়া সর্বোচ্চ নাম্বার। আর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন, সেই ভাইভা বোর্ডে স্যারের ধমক, আমার কোর্সে তোমাকে পাইনি কেন? এমফিল কর‍তে আসবে।

রেজাল্টের পর সাময়িক সনদ আনতে যখন গেলাম তখন স্যার চেয়ারম্যান। আবেদন লিখলাম ‘জনাব, অধীনের বিনীত নিবেদন এই যে…’ স্যারও বিনীত ভঙ্গিতে সেই আবেদন ফিরিয়ে দিলেন৷ পূর্বের এবং ভবিষ্যতে যে সব মূর্খ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবো, সবকিছু ভেঙেচুরে দিয়ে তিনি বললেন, আমাকে এই চেয়ারটিতে বসানো হয়েছে, তোমাদের এই কাজগুলো করে দেয়ার জন্য। এর জন্য তোমাকে ‘অধীনের বিনীত নিবেদন’ লিখতে হবে না। আর এর জন্য ‘কৃতজ্ঞতাভাজন’ও হতে হবে না, এটা আমার দায়িত্ব। আবেদনপত্রের এই নতজানু ভাষা কলোনিয়াল দাসত্বের ভাষা।
স্যার, ফাঁকি দিতে চেয়েছিলাম আপনার কঠোর শিক্ষাকে। পারলাম কি! সেই যে ঘাড়টা ত্যাড়া করে দিলেন, আর যত্রতত্র নত করতে পারি না…

 


দেশের বই পোর্টালে লেখা পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments