সাহিত্য শুধু লেখক-পাঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় : মনোয়ার মোকাররম

সোমবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২১ | ২:১০ অপরাহ্ণ | 235 বার

সাহিত্য শুধু লেখক-পাঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় : মনোয়ার মোকাররম

দেশের বইয়ের একটি নিয়মিত আয়োজন পাঁচটি প্রশ্ন। লেখক-প্রকাশকের কাছে বই প্রকাশনাসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নগুলো করা। আজকের পাঁচটি প্রশ্ন আয়োজনে আমরা মুখোমুখি হয়েছি তরুণ লেখক মনোয়ার মোকাররম -এর

 

 

 

প্রশ্ন  প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা জানতে চাই

প্রথম বই প্রকাশিত হয় অনেকটাই অপ্রত্যাশিতভাবে, ২০২০ বইমেলায়। আমি বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে লেখালেখির চর্চা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। অনলাইনেই এই চর্চাটা বেশি ছিল। এর মধ্যে কিছু কিছু প্রিন্ট ও অনলাইন সাহিত্য ম্যাগাজিনে গল্প ছাপাও হচ্ছিল। তবে বই প্রকাশের কথা কখনো সেভাবে ভাবিনি, নিজ থেকেও তেমন একটা তাগিদ অনুভব করিনি যে বই প্রকাশ করতেই হবে। ভেবেছি যতটা সম্ভব চর্চাটা চালিয়ে যেতে যাতে লেখা একটা নির্দিষ্ট মান অর্জন করতে পারে। কর্মসূত্রে দিল্লীতে থাকাকালীন এক বইমেলায় বাংলাদেশের প্রায় দশটি প্রকাশনা সংস্থা অংশগ্রহণ করে। সেই বইমেলা পরিদর্শনে গিয়ে শিশু একডেমি, ভাষাচিত্র, মূর্ধণ্য, সন্দেশ, ঐতিহ্য, জয়তী প্রকাশনার অনেকের সাথে পরিচয় হয়। তাদের প্রত্যেকের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। তবে তাদের সাথে আমার লেখালেখির ব্যাপারে কোনও কথা হয়নি। ভাষাচিত্র’র প্রকাশক খন্দকার মনিরুল ইসলামের সাথেও এভাবেই সেখানে প্রথম পরিচয়, জানাশোনা। তারপর ফেসবুকে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এরপর হঠাৎ একদিন ফেসবুকে তার বার্তা, “আপনার কিছু কবিতা অনলাইনে দেখলাম, শুনেছি আপনি গল্প আরো ভালো লিখেন। আপনার কিছু গল্প আমাকে পাঠাবেন, পড়ে দেখবো। আমার তো তারুণ্যেই শক্তি।” তিনি কীভাবে জেনেছেন সেটা ভেবে একটু আশ্চর্য হলাম। আমি তখন তাকে বলেছি, আসলে আমি আমার লেখা নিয়ে সবসময়ই সংকোচে থাকি, আর কাউকে জানাইও না। পরিচিতজনদেরতো আরো বেশি না। তিনি বললেন, ‘কিছু গল্প আমাকে পাঠান’। তিনি গল্প চাইলেন, কিন্তু আমি কি মনে করে এ পর্যন্ত লেখা কবিতাগুলো পাঠালাম। তারপর অনেকদিন কোন সাড়া নেই। আমার একটু মন উশখুশ করতে লাগলো, মনে মনে ভাবলাম, কবিতা ভালো নাই লাগতে পারে, সৌজন্য করেও তো কিছু বলতে পারতেন! এরপর হঠাৎ একদিন তিনি আমাকে চমকে দিয়ে আবার বার্তা পাঠালেন, “আপনার কবিতা পড়ে আমি মুগ্ধ! আপনার পাণ্ডুলিপি ছাপানোর অনুমতি প্রার্থনা করছি।” আনন্দে আমার চোখ ছল ছল করে উঠলো। বলা যায় একান্তই তার ইচ্ছায়, আন্তরিকতায় এবং উদ্যোগে অনেকটা আচমকা এবং অপ্রত্যাশিতভাবে ২০২০ বইমেলায় আমার প্রথম বই (কাব্যগ্রন্থ) “সুখ পোড়ানো ছাই” প্রকাশিত হয়। ২০২১ বইমেলায় বের হবে আমার দ্বিতীয় বই “শবপুষ্প” (গল্পগ্রন্থ)। সুতরাং প্রথম বই প্রকাশ অনেকটা প্রকৃতির ইচ্ছা বলা যায়। ভাষাচিত্র প্রকাশকের সাথে এভাবে পরিচয় না হলে হয়তো বই প্রকাশ হতে আরো অনেক সময় লেগে যেত, কিংবা কখন প্রকাশ হতো সেটা হয়তো সময়ই বলে দিত।

 

প্রশ্ন  লেখালেখির ইচ্ছেটা কেন হলো?

এটার আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। যতদুর মনে পড়ে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় ১৯৯৫ সালের দিকে প্রথম কিছু কবিতা লিখেছিলাম, সেটা আসলে সিরিয়াস কোনো লেখা ছিল না। যদিও তখন আমার কাছে তা যথেষ্ট সিরিয়াস মনে হয়েছিল! আমার সাথে আমার দুই সহপাঠীও ছিল। আমার প্রথম কবিতার নাম ছিল ‘ভেলা’। তবে আমাদের অন্য কিছু সহপাঠী আমাদের বাংলা স্যারকে মজার ছলে জানিয়ে দিলে স্যারের ধমক খেয়ে কবিতা লেখা বাদ দিয়ে ছিলাম। এরপর যতদুর মনে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার পরে অবসরে ক্রীড়ালোক এবং ক্রীড়াজগত নামে দুটি ক্রীড়া ম্যাগাজিন নিয়মিত পড়া শুরু করলাম। পরে সেখানে ক্রীড়াবিষয়ক লেখাও পাঠাতে শুরু করলাম এবং সেগুলো ছাপাও হতো। এসব লেখার মধ্যে ছিল ক্রিকেট বিষয়ক বিশ্লেষণমূলক লেখা, তথ্যমূলক গ্রন্থনাধর্মী লেখা, ক্রীড়াবিষয়ক ছোট ছোট গল্পসহ নানা রকমের লেখা। সে সময় দৈনিক পত্রিকা জনকণ্ঠ-তেও আমার ক্রীড়াবিষয়ক  ছোট ছোট কিছু লেখা ছাপা হয়েছিল। সিরিয়াস লেখা বলতে গেল এসবই ছিল। তখন আবারও কবিতা লেখা শুরু করেছিলাম, তবে সেসবও ছিল অপরিপক্ক লেখা। লেখালেখি আবার শুরু করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর। তখন গল্পও লেখা শুরু করলাম। সেসব লেখা কিছুটা মানসম্পন্ন ছিল বলা যায়। তখন অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণমূলক লেখাও কিছু লিখেছি যার কয়েকটি দৈনিক প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছিল। সিরিয়াস লেখার শুরু আসলে তখন থেকেই। ধীরে ধীরে তা পরিপক্ক হয়ে উঠেছে বলা যায়। এখনো হচ্ছে। তবে এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে কেনো লিখি, বলবো মূলত “সৃষ্টিশীলতার” আনন্দের জন্যই লেখা। যখনি কিছু একটা লিখি তখন একটা কিছু সৃষ্টির আনন্দ লাভ করি। পরে যখন সেটা কোথাও ছাপা হয় এবং পাঠকের পজিটিভ প্রতিক্রিয়া পাই তখন আনন্দ আরো বেড়ে যায়। আর একটা কারন হতে পারে পৃথিবীতে নিজের একটা চিহ্ন রেখে যাওয়া। অবশ্য সেটি পেশাগত অর্জন বা অন্যভাবেও করার সুযোগ রয়েছে। তবে লেখালেখিতে সেটা ভিন্ন ধরনের আনন্দ দেয়, কারন এ সৃষ্টি একান্তই নিজের।

 

প্রশ্ন  লেখক জীবনের মজার কোনো অভিজ্ঞতা জানতে চাই

লেখক জীবনের মজার ঘটনা অনেক আছে। ছোট ছোট ঘটনা, তেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়তো নয়, তবে ঘটনাগুলো ভালো লাগার। দু একটি যদি বলি, তাহলে প্রথমেই আসবে প্রথম বই প্রকাশের আনন্দ যার পিছনের ঘটনা শুরুতেই বলেছি। আরো ভালো লেগেছে সেই বইয়ের “চন্দ্রের স্নিগ্ধতা” শিরোনামের একটি কবিতা অভূতপূর্ব পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। সেই কবিতার একটি লাইন “তুমি কি আমার স্নিগ্ধতার চন্দ্র হবে?” পাঠকরা দারুণ পছন্দ করেছেন। একদিন ফেসবুকে এই লাইনটি বাংলায় লিখে সার্চ দিয়ে দেখলাম অসংখ্য মানুষ তাদের প্রোফাইল পিকচারের ক্যাপশন হিসেবে “তুমি কি আমার স্নিগ্ধতার চন্দ্র হবে?” লাইনটি ব্যবহার করেছে। অনেকে আবার তাদের অনলাইন শপের বিভিন্ন প্রডাক্টের বিজ্ঞাপনে এই লাইনটি ব্যবহার করেছে। এদের কাউকেই আমি চিনি না। এটি আমাকে আসলেই অভিভূত করেছে। মাঝে মাঝেই ফেসবুকে সার্চ দিয়ে দেখি, ভালো লাগে! তবে আবার কিছুটা খারাপও লাগে যখন দেখি অনেকেই ক্রেডিট ছাড়া লাইনটি ব্যবহার করছে। তারপরেও তারা কবিতাটি পছন্দ করেছে সেটাও এক ধরনণর আনন্দ দেয়।

দ্বিতীয় যে ঘটনাটি আমাকে এখনো নাড়া দেয় সেটি ২০১২ সালের ২৩ মার্চ দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত আমার একটি লেখা। তার আগের দিন এশিয়া কাপের ক্রিকেট ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ মাত্র দুই রানে হেরে যায়, এই লেখাটি সেই পরাজয়ের বেদনা থেকে লেখা।  “খবরদার কখনো কাঁদবে না” শিরোনামের লেখাটি ছিল তখনকার জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে লেখা একটি খোলা চিঠি। লেখাটি প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণের প্রথম পাতায় সবার উপরে ছিল। এই লেখা ছাপা হবার পর আমি অভুতপূর্ব সাড়া পাই পাঠকদের কাছ থেকে। অনলাইনে সম্ভবত সেই লেখাটি ছিল সেদিনের সর্বাধিক পঠিত লেখাসমূহের মধ্যে তৃতীয়। অনেক অনেক পাঠক মন্তব্য করেছিলেন লেখাটিতে। একজনের মন্তব্য ছিল এরকম, “ভাই শুধু আপনার লেখাটিতে কমেন্ট করতে আজ আমি প্রথম আলোতে একাউন্ট খুললাম। আপনি ৩২ কোটি চোখের পানির কথা এত সুন্দর ভাবে বললেন তাতে কমেন্ট না করলে আপনার উপর অবিচার হবে।”

এছাড়া লেখায় উল্লেখিত আমার ব্যক্তিগত ই-মেইলে আমি অসংখ্য মন্তব্য পাই, যেখানে সবাই লেখাটির প্রশংসা করে এবং আমাকে লেখালেখি চালিয়ে যেতে অনুরোধ করে। আমার ফেসবুকে ঐদিন অসংখ্য ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাই। পাঠকের এই অভূতপূর্ব ভালোবাসার পর আমি আমার লেখালেখি নিয়ে আরো সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা শুরু করি। আরো মজার ঘটনা হচ্ছে প্রায় বছর পাঁচেক পর আমার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজনের সাথে আমার পরিচয় হয়, তাকে কথা প্রসঙ্গে এই লেখাটির কথা বললে, তিনি অবাক হয়ে বলেন, ও আপনি সেই ব্যক্তি। এই লেখাতো আমি তখনি পড়েছি!

সম্প্রতি আমার একটি গল্প এক স্প্যানিশ লেখক ইংরেজি থেকে স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং সেটি তীরন্দাজ আয়োজিত International Fiction Festival এ ভার্চুয়ালি উপস্থাপিত হয়েছে। সম্ভবত বাংলাদেশ এবং স্পেনের গল্পকারদের গল্পের একটি সংকলন তীরন্দাজ প্রকাশ করবে এবং সেখানে আমার গল্পটিও থাকবে। এটি একটি বিশেষ আনন্দের ব্যাপার।

ছোটবেলার একটি মজার স্মৃতি আছে। আমি যখন ক্রীড়াজগতে লেখালেখি শুরু করি পাঠক হিসেবে, তখন সেসব লেখা ছাপা হলে তারা ডাকযোগে মানি অর্ডারের মাধ্যমে সম্মানি পাঠাত। পরিমাণও একদম কম ছিল না। লেখার আকারের উপর নির্ভর করত সম্মানির পরিমাণ। তো সেসময় প্রায়ই ডাকপিয়ন এসে মানি অর্ডারের টাকা দিয়ে যেত। সেই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

 

প্রশ্ন  বাংলাদেশে সৃজনশীল লেখালেখির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই

বাংলাদেশের সৃজনশীল সাহিত্যের আছে গৌরবজ্জোল অতীত এবং সমৃদ্ধ বর্তমান। সুতরাং ভবিষ্যৎ নিয়েও আমি আশাবাদী। সময়ের সাথে সাথে অনেক পরিবর্তন এসেছে সৃজনশীল লেখালেখির জগতে। সাহিত্য চর্চার ধরণেও এসেছে নতুনত্ব। যেমন এখন লেখা প্রকাশের সুযোগ অনেক বেশি। আগে যে সুযোগটা ছিল না। এখন লোকজন বিভিন্ন মাধ্যমে লিখছেন। ফেসবুক, ব্লগ, ওয়েবজিন, অনলাইন পত্রিকাগুলোতে লেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে করে অনেক নতুন প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে। আমরা নতুন নতুন লেখক পাচ্ছি। তাদের অনেকেই চমৎকার লেখা দিয়ে বোদ্ধা এবং পাঠকের নজর কাড়ছেন। সময়ের সাথে বাংলা সাহিত্যের পাঠকও বেড়েছে। এখন অনলাইনে পাঠকরা বাংলা সাহিত্যের লেখকদের লেখা পড়তে পারছেন। সাহিত্যের সহজলভ্যতা এবং সহজবোধ্যতা পাঠক বাড়িয়েছে। তাছাড়া দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার বর্ধিত সুযোগের কারণেও পাঠক বেড়েছে। এসবই সৃজনশীল লেখালেখির জগতে আশার আলো দেখায়।

আবার এটাও ঠিক যে সৃজনশীল লেখালেখির জগতে পেশাদারিত্বের দিকটিতে এখনো অনেক কাজ করার আছে। এখনো একটি বড় অংশই লেখালেখি করেন নিজের মনের তাগিদে। এ কথাটি অনেকেই বলে থাকেন যে ইচ্ছে থাকার পরেও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার নিরিখে লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন না। সেই সুযোগ খুব সীমিত। আবার লেখা প্রকাশের সুযোগ এবং প্লাটফর্ম অনেক বেশি থাকার কারণে গুণগত মান নিশ্চিত করার ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে ঘিরে বই-কবিতা-সাহিত্য নিয়ে এক ধরণের উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। তবে একুশে বইমেলার বাইরে সারা বছর জাতীয়ভাবে এরকম বড় ধরণের উৎসব আর খুব কমই হয়। লিট ফেস্ট, খণ্ড খণ্ড-ভাবে বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক বছরব্যাপী অনেক সাহিত্যভিত্তিক অনুষ্ঠান/আলোচনা হয়, তবে সেগুলোতে জনমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহনের সুযোগ কিছুটা কম থাকে। কিন্তু আমরা যদি ইউরোপ আমেরিকার দিকে তাকাই সেখানে কিন্তু সারা বছরই সাহিত্য নিয়ে উন্মাদনা থাকে। ‘কবিতার মাস’ বা ‘Month of Poetry’, ‘Poem in Your Pocket Day’ ইত্যাদি দিবস উদযাপনের মাধ্যমে কবিতা বিষয়ক আলোচনা, সংলাপ, লেখালেখি এবং আবৃত্তিতে অংশ নেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত-অপ্রতিষ্ঠিত, চেনা-অচেনা, নবীন-প্রবীন সকলকে উৎসাহ যোগানো হয়। এছাড়া স্কুলে, কলেজে, কফি শপে, পার্কে, দোকানে, রাস্তায়, লাইব্রেরীতে, কর্মক্ষেত্রে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহিত্য আলোচনাকে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে সাহিত্য শুধু লেখক-পাঠক (সাহিত্যানুরাগী) এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আমাদেরও এই জায়গায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

আমাদের অনুবাদ সাহিত্যের দিকে আরো নজর দিতে হবে। অনুবাদ বলতে আমরা যেটা বুঝি সেটা হচ্ছে অন্য ভাষার সাহিত্যকে আমাদের ভাষায় অনুবাদ করা, যেটি আসলে হয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের সাহিত্যকে ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে তাকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবার কাজটি উল্লেখযোগ্যভাবে হচ্ছে না, যদিও কিছু কিছু কাজ সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়েছে। যদি এ কাজটি আমরা ব্যপকভাবে করতে পারি তাহলে আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনের সাথে আমাদের সম্পৃক্ত হবার আরো সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্যের ভাণ্ডারকে অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া যাবে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বইয়ের ব্র্যাণ্ডিং-এর উপর নজর দিতে হবে। কাগজে ছাপা বইয়ের আবেদন যেমন রয়েছে, আবার অনেক পাঠক এখন ইবুকের দিকেও ঝুঁকছেন। কিন্তু এ দিকটাতে আমরা এখনো খুব বেশি আগাতে পারিনি। কাগজে ছাপানো বইয়ের পাশাপাশি ইবুক তৈরি করে সেটি যদি অল্প খরচে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়া যায় তাহলে হয়তো তা পাঠক বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।

 

প্রশ্ন  লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন?

আপাতত যেটুকে বলতে পারি তা হচ্ছে, প্রাথমিক লক্ষ্য যতটুকু সম্ভব লেখালেখিতে নিয়মিত হওয়া এবং পাঠকদের ভালো কিছু উপহার দেয়া। দ্বিতীয় লক্ষ্য জীবদ্দশায় ন্যূনতম ১৫ টি মানসম্পন্ন বই যেন লিখতে পারি।

Facebook Comments

প্রেম করে পুরো জীবন কাটাবার কথা ভেবেছিলাম : নূরুননবী শান্ত