অমর একুশে বইমেলা ২০২১

সময়ের আগেই বন্ধ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১ | ৬:০৯ অপরাহ্ণ | 161 বার

সময়ের আগেই বন্ধ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

আগামী ১২ এপ্রিল ২০২১ বইমেলার শেষ দিন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। মেলার শেষ দিন হিসেবে পূর্বনির্ধারিত ছিল ১৩ এপ্রিল ২০২১। বর্ধমান কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং লকডাউনের কারণে একদিন আগেই সমাপ্তি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৪ এপ্রিল থেকে কড়া লকডাউনে যাবে দেশ, এর কারণে যাতে স্টল ও বই সরিয়ে নেওয়ায় প্রকাশকদের বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে না হয় তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নীতিনির্ধারকমহল।

প্রতিবছর ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু হলেও কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের বইমেলা শুরু হয় সময় পিছিয়ে ১৮ মার্চ। স্টল বন্টন, কালবৈশাখীর ঝাপটা, বারবার সময় পরিবর্তনসহ নানান প্রতিকূলতার কারণে বইমেলা শেষতক প্রহসনে পরিণত হয়েছে বলে অনেক লেখক-প্রকাশক মন্তব্য করেন।
প্রথমদিকে বইমেলা ১৪ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত চালুর ঘোষণা দিয়েছিল বাংলা একাডেমি। পরবর্ততে একদিন কমিয়ে ১৩ এপ্রিলের ঘোষণা দেয়া হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে আরও একদিন পেছানো হলো অমর একুশে বইমেলা।

এই প্রসঙ্গে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও লেখক গিয়াস আহমেদ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ চলমান কোভিড পরিস্থিতির কারণে পাঠক-লেখক যেহেতু মেলায় আসতে পারছে না তাই মেলা বন্ধ হওয়া বা চালু থাকা বিশেষ কোনাে প্রভাব ফেলবে না। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও করোনা বিবেচনায় সময়ের আগে বন্ধ হবার সিদ্ধান্তই বরং সময়োপযোগী। তবে এবারের মেলা যেহেতু অমর একুশে বইমেলার মূল প্রতিপাদ্যকে অর্জন করতে পারেনি তাই প্রকাশক ও পাঠকদের অনলাইনভিত্তিক মেলা বা বইসংগ্রহের ব্যাপারটি নিয়ে ভাবতে হবে।’

বইমেলা সম্পর্কে এমন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির যুগ্ম-নির্বাহী পরিচালক ও চারুলিপি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী হুমায়ূন কবীর জানান, ‘দুইদিনের লস গুণতে হচ্ছে না। কারণ দুইদিন আগেই মেলা শেষ হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক দিক বিবেচনায় আমি খুব খুশি।’
অপরদিকে আনন্দ-বিষাদময় মন্তব্য প্রকাশ করেছেন উৎস প্রকাশনীর প্রকাশক মোস্তফা সেলিম। তিনি দেশের বই’কে জানান, ‘কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলা আগে শেষ হবার সিদ্ধান্তে জীবনের ঝুঁকি খানিকটা কমছে। তবে বাংলা একাডেমি বইমেলা বিষয়ে যে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে তাতে আমরা প্রকাশকরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা অনেক আগেই নাজুক পরিস্থিতির সীমারেখা পার করেছি। কিন্তু বাংলা একাডেমির এমন আচরণে আমাদের মনোবল ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো যেহেতু সৃজনশীলতার চর্চা করে, প্রজন্মের বিবেক গঠনে ভূমিকা পালন করে তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। ‘
মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মীরা বইমেলা দুইদিন আগে বন্ধ হবার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলে মতামত জানিয়েছে। কোভিডের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বইমেলায় যাওয়া-আসা ও আগত পাঠকদের সাথে যোগাযোগ রাখাটাও তাদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Facebook Comments Box