সমূহ প্রবঞ্চনা ও সমুদ্রসম আর্তনাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ২:২১ অপরাহ্ণ | 261 বার

সমূহ প্রবঞ্চনা ও সমুদ্রসম আর্তনাদ

‘কবিতা প্রতিদিন’ দেশের বই-এর নতুন আয়োজন। এই আয়োজনে প্রতিদিন তরুণ কবিদের একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হয়। আজ প্রকাশিত হলো আলোক আজম’র কবিতা


 

অনাথ

বিষণ্ন দুপুর হেঁটে যাওয়া অবয়বটি বাবা, যা এখন আলো-ছায়াময়। মা তো অপেক্ষার নাম; চোখে লুকিয়ে সাতসমুদ্র, অবিচল স্থির দরজায়। ভাই মানে চারটি ধাবমান ঘোড়া; ছোটে ধুলো ছড়িয়ে; চোখে পড়ি না তাদের ধুলোমাখা আমি। বোনটি অবিরত আহাজারি; পৃথিবী মাথায় তোলে, আমাকেই ভুলে যায়। থাকি এতিমখানায়; প্রাপ্ত ঘৃণা-করুণাকে ভালোবাসা ধরে কাটাই জীবন…

…কোথাও কেউ নেই। ‘যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন’ বিশ্বাসে পথে নামি; মাটির হৃদয়ে পুঁতি মাথা, প্রতিদিন পাঁচবার।

ঘুম

পাহাড়ি লালমাটি মমতায় জড়িয়ে। নিরাপত্তা বলয় হয়ে ঘেরা বাঁশের বেড়া। একদিন পৃথিবীর সবুজতম ঘাসেরা ছাদে গালিচা সাজাবে। নাম না-জানা ফুলেরা দেবে মেশকে-আম্বর। দখিন হাওয়ারা দেবে দোলা, পাখিরা শোনাবে গান। ঘুমের অতলে ডুবেও তুমি পাবে সেইসব অপার্থিব মায়া। সমস্ত জাগতিক দায় ছেড়ে, বুকে নিয়ে অভিমান, ঘুমিয়ে গেলে। ঘুমাও; তোমায় আর জাগাব না। ভাঙাব না কাঁচাঘুম।

নিরবে ঘুমাও বাবা হৃদয়ে আমার।

উম্মি

খরস্রোতা নদীর দুকুলে দুঃখ, নিষ্কলঙ্ক চাঁদের কক্ষপথে বেদনার আলোছায়া ছাপিয়ে গালেব হয় স্নেহের জল-জোছনা; রোদের নিষ্ঠুরতা নিজে বয়ে আমাদের দেয় সবুজ ছায়া, বৃক্ষটি। হৃদয়ের সমূহ নির্যাসে যিনি আত্মজের সংসার সাজান, নিরবে তাঁর পৃথিবী পোড়ে রুক্ষতায়। মানুষ হয়ে ফিরব বলে অবিচল দৃষ্টি; অথচ, পড়তেই পারি না সেই প্রতীক্ষার অশ্রু!

স্নেহাশীষ বুক সর্বদা থাকে অফুরন্ত স্নেহার্দে ভরা; মা আমার ভালোবাসার আলোকিত বসুন্ধরা।

ফেরা

ঘরের সাথে অভিমান পুষে করলে পথবাস। জীবন ও মৃত্যুর দূরত্ব মাপা বুকের শূভ্র গুহায় ঘড়ির কাঁটার মতো লম্পমান ব্যাকুল টিকটিকি বুঝায় ফেরার সমূহ সাধ। মগজে ক্যান্সার নিয়ে ফিরলে। অনেকে বেজার হলো। কামনা করল দ্রুত প্রস্থান! সমূহ প্রবঞ্চনা আর সমুদ্রসম আর্তনাদ সঙ্গে করে ফের ফিরে গেলে অন্ধকারে।

কেটে গেল একটি বছর। কেমন অনড় শুয়ে আছো বাবা চিরায়ত তিমির অরণ্য শয্যায়।


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box