সঙ্গমক্লান্ত রাতের পর

শনিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২১ | ৩:২৫ অপরাহ্ণ | 180 বার

সঙ্গমক্লান্ত রাতের পর

‘কবিতা প্রতিদিন’ দেশের বই-এর নতুন আয়োজন। এই আয়োজনে প্রতিদিন তরুণ কবিদের একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হয়। আজ প্রকাশিত হলো রায়হান মুশফিক’র কবিতা


 

তুমি আমার গৃহপালিত সুখ

সমস্ত দিনের শেষে ক্লান্ত দেহে নেমে আসে নিশ্চলতা-
তোমার কাছে ছুটে যাই,
এক পা
দুই পা
তিন পা

পায়ে পায়ে পৌঁছে যাই দরজার এপাশে-
ওপাশে তুমি; অপেক্ষায়…

যার ছোঁয়ায় সুখ নেমে আসে!

কেবলি নিবিড় আলিঙ্গন-
ছুঁয়ে দিলে সংসারে নেমে আসে সন্ধ্যা!

তুমি সেই সুখ-
যাকে যত্ন করে পুষি, লালন করি, ধারণ করি বুকে!

সমস্ত ক্লান্তি মুছে দিতে তাই : তুমি মমতাময়ী হয়ে ওঠো এইসব জোছনাগলা রাতে-
প্রতিটা দিনমানে!

আর আমি আচ্ছন্ন থাকি প্রতিটাক্ষণ তোমার বলয়ে!

উম্মে কুলসুম

কুলসুম-
এদিক দেখি পাতার এলোমেলো
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে দরদ গান
ঘুমিয়ে তুমি? এবার চোখ মেলো
হালকা রোদে গুমোট আসমান।

হাওয়ার কাছে শুনছি একা বসে
তোমার নাকি মন খারাপ আর জ্বর
কিসের ব্যথা পাখির গানে ভাসে
জ্বরের তাপে পুড়ছে মনের ঘর-

এমন করে দিন ফুরিয়ে যাবে
এমন করে বইবে হাওয়া দ্রুত
দিন গুনছি কবে দেখা হবে
গুটিয়ে যাবে দূরত্বের এই সুতো-

জানুয়ারি ফুলকে

ডানায় রৌদ্রের রঙ মেখে-
বসে আছে জোড়া কবুতর
মেঘহীন আকাশ এক নীলের জমিন
এরই নাম ছোট্ট সুখী পরিবার!
পাখালির ডাক ওড়ে হাওয়ায় হাওয়ায়
কার শাড়িতে মাখে ডালিমের লাল
শুকনো খড়ের কাছে গবাদিপশু-
বাড়ন্ত যুবতীর বুক বড় বেসামাল!

আহত হওয়ার নাম ভালোবাসা
প্রিয় থেকে প্রিয়জন কাঁদালো যেদিন
এ কি সেই শীতের সকাল-
সস্তার সবজির নাম শীতকালীন?

তাকে দেখেছি গোলাপরাঙা ঠোঁটে
প্রেমিকার চোখে-মুখে জানুয়ারি ফুল ফোটে!

বাদাম ফুলের কাছে

পায়ের কাছে
আরও একটু নতজানু হয়ে আছি;
অভিমান জল হবে না তোমার?
এই সান্ধ্য আয়োজন শেষ হলে পর-
কোথাও ডেকে যায় ঝিঁঝিঁ কাছাকাছি।

কিসের নেশা ধরে পোড়ে অনুতাপ
সময়ের সাতকাহন পড়ে থাকে একা
অস্পষ্ট পাতার ফাঁকে, হয়নি দেখা
কারুকার্য সেই- রেখে যাওয়া ছাপ।

আরও কিছুক্ষণ
কেটে যাবে বিচ্ছেদ বিচ্ছেদ চিন্তায়
সন্ধ্যারও ক্ষণ শেষে রাতের শুরু-
খুলে ফেলা সেইসব পুরোনো আব্রু
ক্ষত শুকিয়ে গেলেও দাগ থেকে যায়।

বাদাম ফুলের কাছে লুকিয়েছে ঘ্রাণ
যা ছিলো জমে যাওয়া অভিনয়
ফিরে পায় সংবিৎ, আর কিছু নয়
ক্ষমা করো প্রিয়, টেনে নাও এ প্রাণ!

এলোমেলো চতুর্দশী

তারা কাছে আসে, পাতাদের ভীড় ঠেলে
উষ্ণতা ছড়াক, আজিকার অবেলায়
শৈত্য প্রবাহের মতো- কারা কারা এলে!
আয়ু নেই আর তার, সূর্য ডুবে যায়।

এই অকারণ টান, টেনে আনে সব :
পাখিদের নীড়ে নীড়ে, রঙিন ডানায়-
ডানায় বাজে কার গোপন কলরব
পরিযায়ীদের ভীড়ে এ কেমন ভয়!

আজ এবেলায় কারা পাখির সুহৃদ-
মৌনতা পুষে রাখে নিবিড় বিমূঢ়তায়
প্রকৃত প্রেমিক তার, চোখে নেই নিদ
আজ রাতজুড়ে একা গাছের ছায়ায়!

তারার সাথে মিতালি করে জেগে থাক-
সে, রাত দেখে তার যাবতীয় অবাক!

তাঁকে, অথবা তাঁকে!

পুরুষ হয়ে ওঠার আগে ঝরে গেছে
আলপথে বেড়ে ওঠা ধানশালিক-
তারও বহু আগে মেঘ জমেছিল-
ঘোর সন্ধ্যার ক্যানভাসে।

আর কিছু পারেনি বইতে-
ব্যথাবুক কাঁদে
আমফানের আঘাতে
ঝিরিঝিরি বাতাসের মতো!

তার
শরীরের
ঘ্রাণ
তুলে
রেখেছি

মখমলি জামার আস্তিনে!

এখানে চোখ পাহারা দেয়-
রাত্রির ল্যাম্পপোস্ট!

সঙ্গমক্লান্ত রাতের পর
জেগে ওঠে কাকডাকা ভোর;
যুগলের অদেখা প্রতিটি দিনের
হিসেব লেখা হয় লকডাউন ক্যালেন্ডারে-


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box