শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লেখার সঙ্গে থাকতে চাই : হারুন পাশা

শনিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | 518 বার

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লেখার সঙ্গে থাকতে চাই : হারুন পাশা

দেশের বইয়ের একটি নিয়মিত আয়োজন পাঁচটি প্রশ্ন। লেখক-প্রকাশকের কাছে বই প্রকাশনাসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নগুলো করা। আজকের পাঁচটি প্রশ্ন আয়োজনে আমরা মুখোমুখি হয়েছি কথাসাহিত্যিক ও সম্পাদক – হারুন পাশা-এর


 

প্রশ্ন ১। প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

প্রথম বই বা উপন্যাস প্রকাশের অভিজ্ঞতায় টেনশন আছে এবং আছে প্রাপ্তি। প্রকাশককে বলেছিলাম ২৭ ডিসেম্বর বই লাগবে। কারণ ওইদিন প্রকাশনা অনুষ্ঠান হবে। ব্যানার করা এবং পরিচিতদের বলা হয়ে গেছে। কিন্তু যে বই নিয়ে আলোচনা সেই বই ছাপা হয় নাই এক সপ্তাহ আগেও। প্রকাশককে বললাম বই কি ছাপা হয়েছে? তার দেওয়া উত্তর আমাকে টেনশনে ফেলে। বলেছিলেন ছাপ হয় নাই এবং ২৭ তারিখ দিতে পাবেন কি না তাও নিশ্চিত না। বই বাদে আর সব আয়োজন সম্পন্ন। টেনশনে সময় কাটতেছিল। সবশেষ ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে বই মঞ্চে আসে। মঞ্চেই দেখি প্রথম উপন্যাস।

বলছিলাম ‘তিস্তা’ উপন্যাসের কথা। এরপর অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে বের হওয়া এ উপন্যাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পায় এক মাসের মধ্যে। একটি ‘শওকত ওসমান সাহিত্য পুরস্কার’, অন্যটি ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার’।

আমার ‘তিস্তা’ উপন্যাস প্রকাশের পর অনেকেই তাদের গল্প-উপন্যাসে বর্ণনা কৌশল বদলিয়েছেন। তিস্তা নদী নিয়ে অনেকেই গল্প ও কবিতা লিখেছেন। প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা এমনই।

প্রশ্ন ২। লেখালেখির ইচ্ছেটা কেনো হলো?

শৈশব-কৈশোর আর প্রথম যৌবন বিশ্লেষণ করে দেখলাম লেখক হওয়ার মন নিয়েই আমি বেড়ে উঠেছি। জীবনে কিংবা চারপাশে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতাম, বিস্মিত হতাম, পুলকিত হতাম, বিশ্লেষণ করতাম। শেয়ার করার মতো তো কাউকে পেতাম না, নিজের কাছেই রেখে দিতাম সেইসব চিন্তা, পুলক, বিস্ময় এবং বিশ্লেষণ।

লেখক হওয়া হুট করে হয় নাই। আস্তে ধীরে নিজেকে গুছিয়েছি। সচেতনভাবে কিংবা অবচেতনভাবেই গোছানোর কাজটা হয়ে গেছে। লেখক হব এবং হয়ে উঠব বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ লেখক, এমন ইচ্ছাও আপনা-আপনি ভেতরে জেগে ওঠে।

আমি প্রথমে গান লিখতাম। পরে কবিতা। এরপর গল্প-উপন্যাস। স্কুলজীবনে গান লিখেছি। আমার লেখক হওয়ার বীজ স্কুলজীবনেই বপিত হয়েছিল। তারপর তা বিকশিত হচ্ছে।

প্রশ্ন ৩। লেখক জীবনের মজার কোনো অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

লিখছি নয় বছর ধরে। এ সময় খণ্ডেই জমা হয়েছে অনেক মজার অভিজ্ঞতা। লেখক জীবনের প্রথম পর্বে অনেক আলোচনা-সমালোচনা পেয়েছি। আমার পরিচিতরা মনে করত এবং বলত একদিন আমার বই পড়বে তাদের নাতি-নাতনিরা। তখন তারা বলবে এই লেখকের সঙ্গে আমরা গল্প করেছি, আড্ডা দিয়েছি, মজা করেছি।

তারা ভবিষ্যতের কথা বলে, কিন্তু বর্তমানে পড়বে না। বর্তমানে আমার লেখার নামও পড়বে না। মজাটা তখনই ঘন হয় যখন ‘তিস্তা’ উপন্যাস পুরস্কার পায়। পুরস্কার পাওয়ার কারণে জাতীয় দৈনিক কিংবা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং মাসিক পত্রিকা নিউজ করেছে। তারা তো বিসিএস প্রত্যাশী। এজন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়তে হয় এবং পড়তে হয়েছে ‘তিস্তা’ নিয়ে হওয়া নিউজও। তখন চলছিল চল্লিশতম বিসিএস পিরিয়ড। তাদেরও মুখস্থ করতে হয়েছে আমার উপন্যাসের নাম। যেটা তারা চেয়েছিল আরো বিশ-ত্রিশ বছর পরে। সেটা এতো ইমিডিয়েট ঘটবে তা চায় নাই। নাম এবং বিষয়বস্তু জানতে হয়েছে পরীক্ষায় আসুক বা না-আসুক। যে বিসিএস ক্যাডার হয়ে নাতি-নাতনিদের শোনাবে আমার গল্প, সেই বিসিএসের জন্যই তাদের পড়তে হয়েছে আমার উপন্যাস। ব্যাপারটা মজার ছিল।

প্রশ্ন ৪। বাংলাদেশে সৃজনশীল লেখালেখির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।

ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। উপন্যাস এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে অন্য আর সব মাধ্যম থেকে। উপন্যাস পৌঁছবে উজ্জ্বলতর ভবিষ্যতে। গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ-নাটক-ছড়া নিজেদের গতিতে এগুবে। বিষয়গত জায়গা থেকে কেউ লিখবে প্রেমাখ্যান, আবার কেউ লিখবে সামাজিক আখ্যান। আগে যেমন লেখা হয়েছে, বর্তমানে যেমন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। হয়তো প্রেমাখ্যান বেশি লেখা হবে কিংবা সামাজিক উপাখ্যান হবে বেশি লেখা। সবমিলিয়ে ভবিষ্যৎ আলোকময়। অন্ধকার পাবে না তারে ছুঁতে।

প্রশ্ন ৫। লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন?

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লেখার সঙ্গে থাকতে চাই।


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box