প্রবন্ধ / নিবন্ধ

যে মায়ের জন্ম হয়নি

সোমবার, ৩০ আগস্ট ২০২১ | ৯:২৮ অপরাহ্ণ | 353 বার

যে মায়ের জন্ম হয়নি

|| সুমন কুমার ||


 

১.

কিছুদিন আগে একটা কেসস্টাডি পড়েছিলাম, কোন ওয়েব পোর্টালে আর কোন দেশের ঘটনা তা মনে করতে পারছি না। ঘটনাটি এমন- বিবাহবিচ্ছেদজনিত কারণে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব কে পাবেন তা নিয়ে মামলা কোর্টে উঠেছিল। মামলার এক পর্যায়ে সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করার পর দেখা গেল মায়ের ডিএনএ স্যাম্পলের সাথে সন্তানের স্যাম্পল মিলছে না। অথচ এই সন্তান প্রসবের সাক্ষী অনেকেই ছিলেন। সৌভাগ্যবশত ওই নারী তখনও ছিলেন অন্তঃসত্তা। সে কারণে কোর্ট গর্ভস্থ সন্তান প্রসব হওয়ার পর তার ডিএনএ টেস্ট করা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত প্রদান করেছিলেন। প্রসবের পর দেখা গেল ওই সন্তানের ডিএনএ স্যাম্পলও মায়ের স্যাম্পলের সাথে মিলছে না। অথচ কোর্টের প্রতিনিধিও প্রসবকালে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসবে সহায়তাকারী ডাক্তার-নার্সগণও অবাক! ঘটনাকালে আজকের মতো চিকিৎসা ব্যবস্থা এত উন্নত ছিলো না। তখন কেবল মুখ থেকে ডিএনএ স্যাম্পল গ্রহণ করা হতো। এরপর জননাঙ্গ থেকে স্যাম্পল গ্রহণ করা হলো পরীক্ষামূলকভাবে। এটা দুটি সন্তানের স্যাম্পলের সাথেই মিলে গেল। মিলে গেল সন্তানদের নানির মুখ এবং জননাঙ্গ থেকে সংগৃহিত স্যাম্পলের সাথেও। বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কোর্ট রায় দিলেন সন্তানের দায়িত্ব পাবেন মা। আশ্চর্যের বিষয় কোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বললেন এই সন্তানদ্বয়ের বায়োলজিক্যাল মায়ের প্রকৃতপক্ষে জন্মই হয়নি, ‍যিনি বাচ্চাটি গর্ভে ধারণ করেছেন এবং প্রসব করেছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে তার মাসি। তখন থেকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে মুখ এবং জননাঙ্গ থেকে স্যাম্পল গ্রহণের প্রচলন শুরু হলো।

বিষয়টি পড়ে আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম। এটা নিয়ে আলাপ করেছিলাম অনেক বন্ধুর সাথেও। বেশিরভাগ বন্ধুই বুঝতে পারেনি, বিজ্ঞান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলে বিষয়টি অনুধাবণ করা সত্যি কঠিন। আমি নিজে বোঝার জন্য এভাবে বিশ্লেষণ করেছিলাম- সন্তানদের নানির ডিম্বানু নিশিক্ত হয়েছিলো দুটি শুক্রানু দ্বারা। তবে ওই দুই শুক্রানু জমজ শিশু কিংবা জোড়ালাগা শিশু হিসেবে বড়ো না হয়ে একে অপরের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলো এবং তারা একটি শরীর নিয়ে বেড়ে উঠে জন্ম নিয়েছিলো। যেহেতু আলোচ্য মায়ের মুখ এবং জননাঙ্গের ডিএনএ স্যাম্পলের মিল ছিলো না ফলে সহজেই বোঝা যায় জননাঙ্গটি সেই মায়ের যিনি আলাদা শরীর নিয়ে জন্মগ্রহণ করতেই পারেননি।

 

২.

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি জাতি হলো পাঞ্জাবি এবং বাঙালি। এছাড়া সিন্ধুর মতো কয়েকটি প্রদেশ যারা ভাগাভাগিতে যেতে রাজি ছিলো না। তারা কিছু মনঃপীড়ায় ভুগতে পারে তবে ক্ষতিটা উল্লিখিত দুটি প্রদেশের মতো নয়। গান্ধী, নেহেরু, প্যাটেল বাংলাকে ভাগ করতে চেয়েছিলেন বলেই ভাগ হয়েছে। বাংলা ভাগ না করার প্রস্তাবে জিন্নাহর বক্তব্য ছিলো কংগ্রেস নেতাদের মতামতের মুখাপেক্ষী। উল্লিখিত চারজন নেতার কেউই বাংলাভাষী ছিলেন না এবং প্রত্যেকে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজনীতি করতেন। ভাগাভাগির দাবি দাওয়া এদের মাধ্যমেই ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের কানে পৌঁছাতো। কংগ্রেসপক্ষের নেতারা বাংলার উর্বর ভূমি চাচ্ছিলেন তবে পুরো বাংলা নয়। এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিশেষ কোন তথ্য প্রমাণ দরকার পড়ে না। কারণ স্বাধীন হতে যাওয়া ভারত তখন ভূকৌশলগত কারণে বাংলার পুরো জমি চাইলেই পেতে পারতো, এখানে মেজরিটি মাইনরিটি পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। এমনকি বাংলার কিছু নেতা সে জন্য প্রস্তুতও ছিলো।

অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি ছিলো মুসলিম মেজরিটির ভূমি। বাংলা মুসলিম মেজরিটির ভূমি, তখনও এখনও। তারাও জোর দাবি করলে পুরো বাংলা পেতে পারতো। বাংলা সে জন্যও প্রস্তুত ছিলো। কিন্তু তারাও পুরো বাংলা নিতে চায়নি ফলে বাংলা ভাগ প্রশ্নে জিন্নার নিজস্ব কোন বক্তব্য ছিলো না। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় বাংলার একটি অংশ পাকিস্তান কেন হলো? ওটা এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, জমি সে যার হোক, যেমন হোক, যতটুকু হোক- বিনামূল্যে পেলে কে ছাড়ে!

আবার বাংলা স্বাধীন থাকার জন্যও প্রস্তত ছিলো- সে দাবি কেন্দ্রীয় নেতারা ভিন্নভাষী হওয়ার কারণেই অগ্রাহ্য হয়েছিলো বলে বিশ্বাস করা যায়। যে কোন পরিচয়ে বাংলা অখণ্ড থাকলে পূর্ব বাংলার অসংখ্য মানুষকে ৪৭ পরবর্তীকালে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের শিকার হয়ে বাংলার বাইরে উড়িষ্যার দণ্ডকারণ্য কিংবা আন্দামানে নির্বাসনে যেতে হতো না। নির্বাসন এই জন্য যে, বাঙালি পূর্ব অংশ থেকে পশ্চিমে শরণার্থী পরিচয়ে গিয়েছিলো কেবল বাংলায় বসবাসের দাবি নিয়ে। বাংলার বাইরে কোথাও বিতাড়িত হওয়ার জন্য নয়। তারা উন্নত রাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর উদ্দেশে তখন কোলকাতায় গিয়ে উঠেছিলো তা নয়। এই দুর্ভাগ্যের জন্য তারা নিজেরা নয় দায়ী ছিলো রাজনৈতিক নেতারা, অথচ তারা ওই সকল মানুষকে বাংলার বাইরে পাঠিয়ে দিলেন। যাইহোক এভাবে ভাগাভাগিতে কার কী স্বার্থ রক্ষিত হলো সে বিষয়ে আলোকপাত করলেই বাংলা দ্বিখণ্ডিত হওয়ার কারণ অনুধাবন সহজ হবে।

বর্তমান ভারতের সংসদে দুটি কক্ষের আসন বন্টনের দিকে খেয়াল করুন। সমগ্র বাংলা একত্রে ভারতভুক্ত হলে রাজ্যসভায় ৫০, লোকসভায় ১২০ বা তার বেশি আসন থাকতো। আর কোন রাজ্যের এই পরিমান আসন নেই। অর্থাৎ ভারতের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতো বাঙালিরা। মনে রাখা দরকার ভারতে হিন্দিভাষীর সংখ্যা বেশি হলেও তারা একই নৃগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির নয় এবং আলাদা আলাদা রাজ্যে বসবাস করে।

বাংলা তখন স্বাধীন রাষ্ট্র হলে তার আয়তন হতো তিনলক্ষ বর্গকিলোমিটার বা তারও বেশি। এখানে খুব ক্ষীণ অংশ ছাড়া সবাই বাঙালি। যে কোন হিসেবে বর্তমান ভারতের চেয়ে ওই বাংলা সক্ষমতায় এগিয়ে থাকতো। তখনকার পাকিস্তান বিরোধী নেতারা এ রকম ভবিষ্যতে ঘটতে দিতে চাননি। এটাকে ওই সকল নেতাদের বাংলার স্বার্থ বিরোধী দূরদর্শিতা মনে করা যায়। কারণ নিকটে চীনের মতো বিরাট এবং বাংলার মতো অর্থনৈতিক শক্তিশালী আর ভাবি স্বাধীন ও শত্রুভাবাপন্ন দেশ যা পাকিস্তান নামে সার্বভৌমত্ব লাভ করতে যাচ্ছে তা কেউ যেচে চাইবে না।

বাংলা পুরোটা পাকিস্তানে চলে গেলে তখন কোলকাতা হতো রাজধানী। কারণ ঐতিহ্য, অবকাঠামো, অর্থনৈতিক শক্তি এবং জনসংখ্যা বাংলাকেই পাকিস্তানের ক্ষমতাকেন্দ্র হওয়ার স্বপক্ষে শক্তি যোগাতো। স্বাভাবিকভাবেই ওই রকম রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণও থাকতো বাঙালির হাতে। ফলে পাকিস্তানপন্থী লাহোর-করাচির নেতারা তাই অখণ্ড বাংলার স্বার্ভভৌম পরিচয় কিংবা বাংলা ভাগ নিয়েও উচ্চবাচ্য করেননি।

 

 

৩.

বাঙালি মুসলমানদের পাকিস্তান ইস্যুতে এমন ভুল বোঝানো হয়েছিলো যে তাদের হিসেব নিকেশ গুলিয়ে গিয়েছিলো আগেই। মুসলিম লিগ নেতারা তাদের বলেছিলো পূর্ব বাংলায় মুসলমানরা কষ্টে আছে। অথচ মুসলমানরাই পূর্ব বাংলার মেজরিটি। কিন্তু কেউ তাদের বলেনি পুরো বাংলা মিলেও মুসলমানই মেজরিটি, এখনও, তখনও।

হিন্দুদের বোঝানো হয়েছিলো বাংলা ভাগ না হওয়া মানে এই পুরো জমি পাকিস্তানে চলে যাওয়া বা সার্বভৌমত্ব নিয়ে একটা ভার্চুয়াল পাকিস্তান তৈরি হওয়া। কিংবা ভবিষ্যতে পাকিস্তানের জমি বৃদ্ধিপাওয়ারই নামান্তর। এমন প্রচারণা বল্লভাই প্যাটেলের প্রেসক্রিপসনে ড. শ্যামাপ্রসাদ তাঁর হিন্দুমহাসভার মাধ্যমে সাফল্যের সাথেই করতে পেরেছিলেন। কারণ অল্পদিন আগেই কোলকাতা ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন‘ নামে এক ভয়াবহ দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করেছিল। তখন বাংলার মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুসলিম লিগের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি। যেহেতু সরকারী দল আয়োজন করেছিলো ফলে এটা সরকারী প্রনোদনা প্রমাণ করতে কোন বেগ পেতে হয় না। শুরুতে যেহেতু হিন্দুগণ আক্রান্ত হয়েছিল, পরে মুসলমানরা একপ্রস্থ আক্রান্ত হলে ওই দাঙ্গা নোয়াখালী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলো এবং হিন্দুরা প্রচণ্ডভাবে আক্রান্ত হয়েছিল ফলে ভবিষ্যতে হিন্দুদের কপালে এমনটা ঘটতেই থাকবে এই প্রচারণা দ্রুতই বিস্তার লাভ করেছিলো। কিন্তু প্রাদেশিক রাজনীতিবিদ হিসেবে মূখ্যমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দির হয়ত তেমন কিছু করারও ছিলো না, সেটা হিন্দুগণ বিশ্বাস করার চেয়ে অবিশ্বাস করাই সহজ।

বাঙালি হিন্দুদের তখন কেউ বলেনি কোটি কোটি মানুষের অভিবাসন কখনওই সম্ভব নয়। ফলে যেভাবেই ভাগাভাগি হোক কিছু মানুষকে তাদের ধর্মীয় পার্থক্য বজায় রেখেই একত্রে বসত করতে হবে, চিরকাল। এমনকি অল্পকাল পরেই সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানের দুই অংশ মিলে যে মুসলিম জনগণ প্রায় তার সমপরিমাণ মুসলমানকে ভারতে বসবাস করতে বাধ্য হতে হয়েছিলো।

বাঙালির অর্থনৈতিক ও ক্ষমতার কোমর এই প্রক্রিয়ায় চিরতরে ভেঙে পড়বে এটা কোনপক্ষই তাদের সমর্থকদের বোঝায়নি। বর্তমান বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মিলে যে ভৌগোলিক স্থান তা একক হিসেবে একটি বৃহত বাজার এবং উৎপাদন কেন্দ্র। কিন্তু দুর্ভাগ্য কেবল রাষ্ট্রিয় ভাগাভাগির কারণে বাঙালি অসংখ্য বড়ো বড়ো উদ্যোগ ও ব্যাবসা শুরুই করতে পারবে না কখনও। নিজেদের উৎপাদিত পণ্য এপার ওপার হওয়ার কারণে বাঙালিকে অধিক মূল্যে ভোগ করে যেতে হবে চিরকাল।

বাংলার সার্বভৌম পরিচয় যাইহোক না কেন যদি একত্রে থাকতো তবে বর্তমান বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসাম, বিহার, উড়িষ্যা ও ঝাড়খণ্ডের কয়েকটি বাঙালি সংখ্যাগুরু জেলা মিলে এর আয়তন হতো তিনলক্ষ বর্গকিলোমিটার বা তারও বেশি। এই ভূমির সংখ্যাগুরু নৃগোষ্ঠী তথা বাঙালির বর্তমান সংখ্যা দাঁড়াতো ত্রিশ কোটি। হিন্দু-মুসলিম অনুপাত দাঁড়াতো যথাক্রমে কমবেশি ৪০ ও ৬০ শতাংশ। চমৎকার শান্তিজনক ডেমোগ্রাফিক ডিস্ট্রিবিউশন। মোটামুটি একই ভাষা ও সংস্কৃতির এই ভূমির আজকের দিনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশি থেকে একশো বিলিয়ন ডলারের মতো থাকতো। এমন একটি সার্বভৌম ভূমি বৈশ্বিক রাজনীতির ক্ষেত্রে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিঃসন্দেহে গুরুত্ববহন করতো সে কথা বলাই যায়।

সমগ্র ভারত ভাগের প্রসঙ্গেও মেজরিটি মাইনরিটির হিসাবটাও কেউ ঝালিয়ে দেখেনি তখন। তাহলে হয়তো ভারতীয় উপমহাদেশে একাধিক রাষ্ট্রগঠন ব্যাপারটাই ভেস্তে যেত। বর্তমান ভারত, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় একশত পচাত্তর কোটি যেখানে আশি কোটি হিন্দু, ষাট কোটি মুসলিম এবং বাকিরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বি। অর্থাৎ মেজরিটি হিন্দুদের সাথে তুলনা করলে মুসলমান এবং অন্যান্যরা মিলে সমান সমান। এই হিসেবটা দেশভাগের সময়েও একই অনুপাত হওয়ার কথা।

এমন জনসংখ্যার অনুপাত আমরা সাম্প্রতিককালে রুয়ান্ডাতে প্রত্যক্ষ করি। যেখানে প্রধান দুটি নৃগোষ্ঠী হুতু এবং তুতসিদের অনুপাত উপরোল্লিখিত অনুপাতের কাছাকাছি। আমরা বিংশ শতকের ৯ এর দশকে সেখানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধও প্রত্যক্ষ করেছি। এখন বিশ্বশান্তি সম্পর্কে পড়তে গেলে রুয়ান্ডার শান্তি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের জানতেই হয়। ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পর বিবদমান দুটিপক্ষের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত শান্তির এমন নজির দ্বিতীয়টি মেলে না। ফলে মনে করা যায় ৪৭ পরবর্তি নিকট ভবিষ্যতে এ ধরনের কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যদিওবা বাংলা প্রত্যক্ষ করতো তবে এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো রুয়ান্ডার চেয়েও মজবুতভাবে।

রুয়ান্ডা প্রসঙ্গ আসার কারণ হলো- কেউ কেউ মনে করতেন অখণ্ড বাংলা হতে পারে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের নরকভূমি। লক্ষ্যণীয় যে হুতু ও তুতসিদের সংস্কৃতির অপরাপর কিছু দিক ও ধর্ম এক হলেও নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় ভিন্ন। অন্যদিকে বাঙালির কেবল ধর্মীয় পরিচয় আলাদা। এই ধরনের অনুপাত শক্তির ভারসাম্য তৈরি করে। ফলে অখণ্ড বাংলায় প্রধান দুটি ধর্মীয়পক্ষের নতুন প্রজন্ম বৈচিত্র্য ও মতামতের বহুত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অধিকতর সহনশীল হয়ে বেড়ে উঠতো।

 

৪.

মুশকিল হলো ৪৭ এর আগে বাংলার নেতারা মুসলিম লিগের ছায়াতলে পাকিস্তান আন্দোলন কিংবা কংগ্রেসের ছাতার নীচে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত। একটি ভূখণ্ড হিসেবে বাংলার একক স্বার্থ নিয়ে কেউ ভাবছিলো না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠায় বাঙালিরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করলেও ৪৭ সাল পর্যন্ত তার নিয়ন্ত্রণ অবাঙালিদের হাতে চলে গিয়েছিলো। ফলে বাঙালিরা হয়ে পড়েছিলো কেবল প্রাদেশিক নেতা, সেটাই স্বাভাবিক।

বাঙালি অতীতে কখনও দখলদার ছিলো না। ইতিহাসের কোন পর্যায়ে কখনও পররাজ্য আক্রমণ করেনি। যে কারণে রাজনীতির কেন্দ্র কোলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হলেও তারা ওখানে রাজনীতি করতে যায়নি। ফলে ভাগাভাগির সময়ে সেখানে বাঙালি ছিলো অনুপস্থিত। অনাগ্রাসী বাঙালি সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কখনও সদ্য স্বাধীন হতে যাওয়া ভারত কিংবা পাকিস্তানের সর্বেসর্বা হয়েই উঠতে চায়নি। ব্রিটিশ শাসনামলে বাঙালি স্বাধীন জাতি গঠন করতে চায় এমন কোন আন্দোলনও ছিলো না। সেই সময়ে যদি ক্ষীণ আকারেও কোন গোষ্ঠী স্বাধীন বাংলা আন্দোলন করে রাখতো তাহলে একটি রেফারেন্স থাকতো। রেফারেন্স ছিলো না বলেই সোহরাওয়ার্দি, শরৎ বসু, কিরণশঙ্কর রায় প্রমুখগণ শেষ মুহূর্তে অপমানিত হয়েছিলেন গান্ধী, নেহেরু, প্যাটেলদের সামনে।

গান্ধী ও নেহেরুর সম্মুখে বাংলার নেতারা হাতে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। এক. স্বাধীন বাংলা, দুই. অখণ্ড ভারতে যোগদান এবং তিন. অখণ্ড পাকিস্তানে যোগদান। গান্ধী ও নেহেরু কোন জবাব না দিয়ে তাদের সর্দার বল্লভাই প্যাটেলের কাছে পাঠালেন। প্যাটেল কংগ্রেস নেতা শরৎ বসুকে ধমকে বললেন বাংলায় ফিরে যাও। যে কোন মূল্যে কোলকাতা ভারতের থাকবে সেই জনমত তৈরি করো। অন্যদিকে একই প্রস্তাব জিন্নার কাছে নিয়ে গেলে তিনি কেবল এটুকু বললেন- কংগ্রেসের আপত্তি না থাকলে আমার কোন আপত্তি নেই। লক্ষ্যণীয় যে তিনি শক্ত করে বললেন না বাংলা ভাগ হওয়ার প্রশ্ন আসছে কেন? বাংলা অখণ্ড থাকবে এবং পাকিস্তানেই থাকবে, যেহেতু এখানকার নাগরিকগণ মুসলিম মেজরিটি। হয়ত তিনিও চাইছিলেন না পাকিস্তানের ক্ষমতাকেন্দ্র পূর্বাংশে স্থাপিত হোক।

শেরে বাংলা আবুল কাসেম ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট একাধিক রাষ্ট্রের কথা বলেছিলেন। পরে জিন্না ওই প্রস্তাবপত্রের ‍States শব্দটির শেষের ‘এস’ বর্ণকে একটি টাইপিং মিসটেক হিসেবে অভিহিত করে সেখানে State শব্দটি প্রতিস্থাপন করেছিলেন। ফলে ভারতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট আরও রাষ্ট্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছিলো। নয়ত একটি অখণ্ড ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীন বাংলা গঠন সহজ হতো কারণ বাংলায় মুসলমানগণই মেজরিটি।

পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনকালে জিন্না মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের পরিকল্পনাই করেছিলেন, কিন্তু পরে খাজা নাজিমুদ্দিনসহ অপরাপর নেতাদের অদূরদর্শীতার কারণে তা ভেস্তে গিয়েছিলো। তবে বাংলা মানুষের চরিত্রে সহজাত সহনশীলতা বিদ্যমান যে কারণে বাংলায় এ ধরনের রাষ্ট্র গঠনও সহজ ছিলো। হতে পারে জিন্না তখন থেকেই চাইছিলেন ভারত ভেঙে আরও খণ্ড তৈরি না হোক, কিংবা মুসলমানরা একই রাষ্ট্রের নাগরিক হোক। তিনি পাকিস্তান স্বপ্নে এতই বিভোর ছিলেন যে কোথাও তার সমর্থকগণ আপাতদৃষ্টিতে ছিটমহলের নাগরিক হয়ে পড়বে কিনা তা নিয়ে কোন চিন্তাই করতেন না।

অখণ্ড বাংলা কোনপক্ষই চায়নি সেটা আগেই বলা হয়েছিলো। স্বাধীন অখণ্ড বাংলা ভাবি ভারত রাষ্ট্র বিশেষভাবে চায়নি কারণ তাতে ভারতের পশ্চিম অংশ থেকে পূর্ব অংশে যাওয়ার কোন পথ থাকতো না। তাতে পাকিস্তানের মতো দূরত্ব তৈরি হতো দুটি অংশে। এতে তাৎক্ষণিক কিংবা পরে পূর্বাংশের জমি ভারতের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যেত। এছাড়া ভৌগোলিক কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আসাম হয়ত বাংলা সাথেই যোগ দিতো। কারণ বঙ্গভঙ্গকালে আসাম বাংলা সাথে শাসিত হওয়ার ইতিহাস খুব নিকটকালের অতীত ছিল।

 

৫.

বাংলা কখনও এপার-ওপার কিংবা একাধিক খণ্ডে বিভক্ত ছিলো না। বরং বিভিন্ন সময়ে পার্শবর্তী বিভিন্ন প্রদেশ ও তার অংশবিশেষ যুক্তভাবে বাংলার সাথে শাসিত হয়েছিলো। ব্রিটিশ রাজের সময় আংশিক সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু তত্ত্ব ভাগ করো শাসন করো নীতিকেই সহায়তা করেছিলো। ফলে ১৯০৫ সালে যখন বাংলাকে প্রথমবার ভাগ করা হলো তখন এর বিপক্ষে এবং স্বপক্ষে অসংখ্য মানুষকে পাওয়া গিয়েছিলো। এই বিভক্তিই ব্রিটিশকে শক্তি যুগিয়েছিল তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে।

ওই সময়ে উভয়পক্ষে যাদের অবস্থান ছিলো তারা স্থায়ীভাবে পরস্পর বিরোধী অবস্থানে চলে গিয়েছিলো। পরে কেউ কাউকে আর কখনই বিশ্বাস করতে পারলো না। অথচ একটু বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখবো ১৯০৫ এ যারা ভাগের বিরোধিতা করেছিলো তাদের অনেকেই কিংবা তাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারগণ ৪৭ এর ভাগাভাগির সময় ভাগের পক্ষে ছিলেন, এই মতের বিপরীত দিকটা বিশ্লেষণ করলেও একই রকম ফলাফল আসবে। এই পারস্পারিক বিরোধিতার উত্তরাধিকার আমরা আজও বহন করে চলেছি।

দেশভাগ প্রসঙ্গ বর্তমান সময়েও যে কোন আড্ডায় উত্থাপিত হলে অবধারিতভাবে চলে আসে বাংলার পশ্চিম অংশ বিশেষ করে কোলকাতার অবকাঠামোগত উন্নয়নের তুলনায় ঢাকার দুরবস্থা। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার কোলকাতা দীর্ঘ সময় ছিলো সমগ্র ভারতের রাজধানী। পরে যুক্ত বাংলার রাজধানী। বিষয়টি আমরা এইভাবে সহজে বুঝতে পারি- অবকাঠামোগত উন্নয়ন রাজধানী থেকেই শুরু হয়। কারণ রাজধানীর সাথে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ তুলনামূলক অগ্রসর এবং দেশের সব প্রান্তের মানুষের সহজ গন্তব্য।

১৯০৫ সালের পূর্বে এবং কোম্পানি শাসনের পর থেকে ঢাকার সাথে কৃষ্ণনগর, বর্ধমান, শিলিগুড়ি, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বা ময়মনসিংহ শহরের স্ট্যাটাসগত কোন পার্থক্য ছিলো না। অথচ আমরা কখনও বলছি না তখন ওই শহরগুলোকেও অবহেলা করা হয়েছিলো। কারণ রাজধানী এগিয়ে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক, আর রাজধানী বলতে ১৯০৫ এর পর ঢাকার স্ট্যাটাসকেই আমরা বাংলাদেশের বাঙালিরা বুঝে থাকি।

এখন আমরা বাংলাদেশের অধিবাসীগণ মনে করি কোলকাতার ওই উন্নয়ন শুধুই ঢাকাকে অবহেলা করার নামান্তর। এ রকম ভাবনা প্রকৃতপক্ষে তৈরি হয়েছে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রভাবে। এর ফলে এমনকি ১৯০৫ পূর্ব কোন আলোচনায়ও আমরা পুরো বাংলাকে আমাদের দেশ মনে করতে পারি না। সব সময়ই আমরা এখনকার সময়ে কিংবা ১৯০৫ থেকে ১৯১১ সালে মধ্যে দাঁড়িয়ে কথা বলছি যেখানে রাজধানী হিসেবে ঢাকার প্রতি আমাদের গভীর আবেগ বিদ্যমান, একইভাবে বর্তমান পশ্চিম বাংলার মানুষের আবেগও কোলকাতার প্রতি থাকবে, সেটাও স্বাভাবিক।

 

৬.

বাংলার ভাগাভাগির সাথে এমনকি পাঞ্জাবের ভাগাভাগিরও অমিল রয়েছে। পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রীও ছিলেন মুসলিম এবং পাকিস্তানপন্থী। সেখানে বলা হয়েছিল তিনি যে দেশেই থাকুন না কেন সেই দেশ নিয়ন্ত্রিত অংশে পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী থাকবেন। অথচ বাংলার বেলায় বলা হল এখানে মূখ্যমন্ত্রী পুনরায় নির্বাচিত হবেন। পাকিস্তান আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী সোহরাওয়ার্দি পাকিস্তানের ভাগে পড়া বাংলা অংশের মূখ্যমন্ত্রী পদে লড়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে খাজা নাজিমউদ্দিনের কাছে পরাস্ত হলেন। এমনকি ভাগাভাগির পরে তার জন্মস্থান ভারত নিয়ন্ত্রিত বাংলার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় পূর্ব বাংলায় তাকে অনুপ্রবেশকারী বলে গ্রেপ্তার করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিলো। একইভাবে পাকিস্তানপন্থী হিসেবে ভারতেও তিনি হেনস্তার শিকার হচ্ছিলেন।

মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে খাজা জিতলেন, তখনও ভারত ভাগাভাগি হয়নি। কিন্তু খাজা সাহেব পাকিস্তানে বাংলার কোন কোন জায়গা অন্তর্ভুক্ত হবে তা বুঝে না নিয়েই কোলকাতা ত্যাগ করেছিলেন। তিনি সোহরাওয়ার্দি প্রভৃতি নেতাদের বলে এসেছিলিন ঢাকা হবে পূর্ববাংলার প্রাদেশিক রাজধানী, আমি সেখানে যাচ্ছি। অথচ ইতিহাস বলছে একটু শক্তি প্রয়োগ করলে, একটু চাপ দিলে, একটু দরদাম করলে ভাগাভাগির পরও কোলকাতাসহ আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং আরও কিছুটা জমি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত বাংলার পূর্ব অংশেই থাকতে পারতো।

ভারত বিভাজনকালে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন একজন ব্রিটিশ অফিসারকে পূর্ববাংলার গভর্নর হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠির উত্তরে ওই অফিসার জানিয়েছিলেন তুলনামূলক অনুন্নত এবং অত্যধিক গরম আবহাওয়ার পূর্ববাংলায় তিনি দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক। সে সময় ব্যাটেন পরবর্তি চিঠিতে ওই অফিসারকে লিখেছিলেন- পূর্ববাংলার ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে তোমার কোন ধারণাই নেই। এখানে রয়েছে লন্ডনের সমতুল্য এক আধুনিক শহর এবং বসবাসযোগ্য চমৎকার আবহাওয়ার অসাধারণ শীতল শহর। এতে বোঝা যায় ব্যাটেনের পরিকল্পনায় কোলকাতা এবং শিলিগুড়ি পূর্ববাংলাতেই ধরা ছিলো।

অন্যদিকে প্যাটেলও তা জানতেন বলেই মনে করা যায়। তিনি তাঁর পরিকল্পনায় যেকোন মূল্যে কোলকাতা শহর চাইছিলেন, এমনকি তা যদি হাওড়া পর্যন্ত পাওয়া যায় তাতেও চলবে। আরও অগ্রসর হয়ে যশোর, রাজশাহী, রংপুর কিন্তু তিনি চাননি। ফলে জমি বুঝে না নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে খাজার কোলকাতা ত্যাগ বৃহত বাংলার স্বার্থ সাপেক্ষে নির্বুদ্ধিতার চরম বলে মনে করা যায়।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করেই জানা যায়-ভাষা, ধর্ম আর দেশ এক সময় বৃহত, শক্তিশালী আর একত্রিত হতে থাকে। তারপর ক্রমে ক্ষুদ্র, দুর্বল হয় এবং বিচ্ছিন্ন হয়। এটা একটা চক্র। বিগত শতকের ৪ ও ৫ এর দশকে ভারতীয় উপমহাদেশে এইরকম ভাঙাগড়া ঘটে গেছে। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করে ভারতের স্বাধীনতা আদায়ে তথা পাকিস্তান ও ভারত প্রতিষ্ঠায় বাঙালিই রেখেছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অথচ স্বাধীন দুটি রাষ্ট্রেই বাঙালি ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে ছিটকে বাইরে চলে গেল। আঞ্চলিক কিংবা মহাযুদ্ধের মত বিরাট ঘটনা, চূড়ান্ত গৃহযুদ্ধ কিংবা মহাদুর্যোগ ঘটলেই কেবল ম্যাপ পুনর্বিন্যাস ঘটে। বাঙালিদের বাসভূমিতে পুনরায় সেটা আগামীকাল ঘটবে নাকি চলতি শতকে ঘটবেই না সেটা কেউ জানে না। জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দশকে দশকে আসে না, প্রতি শতকেও আসে না। অখণ্ড স্বাধীনরাষ্ট্র গঠনের যে সুযোগ পেয়েছিলো বাঙালি তেমন সুযোগ আবার কবে আসবে তা কে জানে!

ধর্ম কখনও কোন একক ভূখণ্ড ও সংস্কৃতির ধারক মানুষকে স্থায়ীভাবে আলাদা করতে সমর্থ নয়। আমরা বাংলা ভাগ প্রসঙ্গে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে যে তর্ক বিতর্ক এবং তৎকালের ভিন্নপক্ষ এবং ধর্মাবলম্বী নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ ও হীন করে দেখার প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করি তা মূলত উভয়পাশের মানুষের নিজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর একত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ। ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রে বসত করলেও যার ক্ষয় নেই।

পৃথিবীর অনেক মানুষের কাছে তাদের দেশ হচ্ছে পিতৃভূমি। ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের কাছে এটা মাতৃভূমি। ফলে আমরা বলি দেশমাতৃকা। দেশ আমাদের মা, আমরা তার সন্তান। মাতৃভূমি গভীর আবেগের প্রসঙ্গ। ১৯৭১ সালে নয় মাস পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে যে ভূমি বাঙালির নিয়ন্ত্রণে এসেছে সেই ভূমি আমাদের মা- বাংলাদেশ। কিন্তু ১৯০৫ সালের পূর্বে যে ভূমি বাংলা নামে পরিচিত ছিল ওটাই হওয়ার কথা ছিলো বাঙালির প্রকৃত দেশমাতৃকা, যে মায়ের জন্ম হয়নি।

Facebook Comments Box