বইয়ের খবর

মোহিত কামালের উপন্যাস ‘পথভ্রষ্ট ঘূর্ণির কৃষ্ণগহ্বর’

সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১ | ১:২২ অপরাহ্ণ | 191 বার

মোহিত কামালের উপন্যাস ‘পথভ্রষ্ট ঘূর্ণির কৃষ্ণগহ্বর’

শামীমা ইসলাম


 

বই : পথভ্রষ্ট ঘূর্ণির কৃষ্ণগহ্বর
লেখক : মোহিত কামাল
প্রকাশনী : বিদ্যাপ্রকাশ
প্রচ্ছদ : মোবাশ্বির আলম মজুমদার
মূল্য : ৩০০ টাকা


“দূরের থেকে যতই যাবে দূরে
কাছে আসবে ততই বেশী টানে
হারায় না সে কোনও গ্রহের ফেরে
যে-শত্রুকে ধরে রাখলে প্রাণে।”

 

কাহিনী সংক্ষেপ
সময়টা ২০১৩। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যতোটা উত্তাল ঠিক ততটাই উত্তাল ঈপ্সিতা ও তার মা সানজানা চৌধুরীর সম্পর্ক।

প্রচণ্ড জিদ্দি আর মাত্রাতিরিক্ত একগুঁয়ে মেয়ে ঈপ্সিতা। শৈশব থেকে তার মনে নব পল্লবের মতো পরিস্ফুটিত হয়েছে মালয়েশিয়া যাওয়ার স্বপ্ন। তার স্বপ্নকে পূর্ণতা দেওয়ার পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদানে মায়ের অসম্মতিতে ক্ষুদ্ধ হয়ে নিজেকে ঠেলে দেয় জীবনের চোরাস্রোতে। গুপ্তঘাতকের হাত ধরে স্বপ্নপূরণের সিঁড়ির সাক্ষাৎ পেলে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে নির্ভীক এই তরুণী। আর্নেস্ট উইলিয়ামের সহযোগিতায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় তার। সেখানে যাবার এই অদম্য ইচ্ছের পেছনে শক্তিশালী কারণ দুটো। একটি হচ্ছে পিতৃত্বের শেকড়ের টান আর অপরটি জানতে হলে আপনাকে বইটি পড়তে হবে।

আর একটু জট পাকিয়ে দিতে বলে রাখি, স্বপ্ন পূরণ হয়তো ঈপ্সিতার হয় কিন্তু খোয়া যায় অনেক কিছুই। অসম সাহসী এই মেয়েটি জড়িয়ে পড়ে মাতৃত্বের দৈবপাকে তবে তার সন্তানও কি কোনো একদিন তারই মতো পিতৃত্বের শেকড়ের টান খুঁজতে পথভ্রষ্টের ঘূর্ণিপাকে জড়িয়ে যাবে?

পাঠ প্রতিক্রিয়া
ঘটনার শুরু ঢাকার একটি ফ্ল্যাটে মাতা-পুত্রীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মাধ্যমে হলেও ঘটনাপ্রবাহ এয়ারপোর্টের সোনা পাচারকারী, গোয়েন্দা পুলিশ হয়ে মালয়েশিয়ার জোহর বারুই, এশিয়ার দক্ষিণের শেষবিন্দু তানজুং পিয়াই হয়ে ঢাকার একটি ক্লিনিকে নবজাতকের প্রাণস্পন্দনে এসে শেষ হয়েছে। মাঝখানে উঠে এসেছে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের কাহিনি, অবৈধভাবে মালয়েশিয়াতে বসবাসরত তরুণদের মানবেতর জীবনযাপনসহ দেশের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

 

বইটিকে চাইলেই চকলেটের সাথে তুলনা করা যায়। বাইরের আবরনের অভ্যন্তরে চকচকে আর একটি আবরণে যেমন সুখাদ্যটি সংরক্ষিত থাকে তেমন ঘটনা পরম্পরায় ঘটনার আড়ালে আরও নিঃগূঢ় ঘটনা মূল বিষয়বস্তুকে মুড়িয়ে রেখেছে। কথার মারপ্যাঁচে যুক্তির আড়াল থেকে পাঠককে ঘটনার পরতে পরতে পর্দা উন্মোচন করে নিরাভরণ করতে হবে সত্যিকার ঘটনাকে।

সত্যি বলতে এত চমৎকার কথাসাহিত্য আমি আগে খুব কম পড়েছি। প্রতিটি বাক্যে কথার কি চমৎকার মেলবন্ধন। লেখক মনোচিকিৎসক বলেই হয়তো পাঠকের মস্তিষ্কের মধ্যে শব্দের কীট ঢুকিয়ে দিয়ে আবার নিয়ন্ত্রণও করেছেন দক্ষতার সাথে।
তবে শেষটায় এসে মনে হয়েছে, এটা কি হলো এবং কেন হলো? এভাবেই কি প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পথভ্রষ্ট হবে আর প্রতিনিয়ত পতিত হবে দৈব ঘূর্ণির কৃষ্ণগহ্বরে?
আর আমরা বলতেই থাকবো,
“সে কোথায় গেল ফিরে এলো না”

আর হ্যাঁ যেটা না বললেই নয়, প্রচ্ছদটা দেখতে একদম আইসক্রিমের মতো। ভ্যানিলা-স্ট্রবেরী ফ্লেভার।


[ বই-পুস্তক-প্রকাশনা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের যে কোনো সংবাদ প্রকাশের জন্য আমাদের ই-মেইল করতে পারেন : desherboi@gmail.com ]

Facebook Comments Box