দেশের বই ঈদ সাময়িকী

মিনা শারমিন-এর ছোটগল্প ‘শেষ ঠিকানা’

বুধবার, ১৯ মে ২০২১ | ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ | 831 বার

মিনা শারমিন-এর ছোটগল্প ‘শেষ ঠিকানা’

শেষ ঠিকানা
।। মিনা শারমিন ।।


 

ফ্রেমে বাঁধানো চশমার অন্তরালে দুইজোড়া চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে ধীরে ধীরে।
হৃদয় অলিন্দের মোড়ে মোড়ে দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে সহস্র পর্বতসম বাঁধ। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বয়ে চলা অনুভূতিরা আজও এতটা অমলিন হৃদয়ের স্বর্ণকোটরে! বাহ্যিকতা বুড়িয়ে যায় কিন্তু অনুভূতিরা কখনও কি বৃদ্ধ হয়? জগতের এত নিয়ম-কানুন, এত এত বাধা-নিষেধ, শত কুৎসা বা অপবাদ কখনও কি পারে অনুভূতিগুলোকে বিন্দুমাত্র ভুলিয়ে দিতে? নিশ্চয়ই না। হয়তো বা সেই কারণে আমিও পারিনি সারাটা জীবন ধরে টেনে চলা জীবন জোয়ালে নিজের অনুভূতিটুকুকে ভাসিয়ে দিতে। জীবনের হাজারো সম্ভবের ভিড়ে এ এক অসম্ভব। কারণ এই যে আমি, আমার বেঁচে থাকার সবটুকু সুখ। ভালোবাসা কি কেবল কাছেই টানে, দূরে থেকেও কি ভালোবাসা যায় না? সমাজ পায়ে শেকল পরাতে পারে, কলঙ্কিনীর অপবাদ দিতে পারে কিন্তু মনকে শেকল পরানোর সাধ্য কি কারো আছে? এমনই হাজারো প্রশ্নপত্র এসে আমাকে দিগ্বিদিক করে দিয়ে যাচ্ছে। পাশে বসে থাকা মানুষটিও কি আমার মতন এমনি করেই প্রশ্নপত্রের জালে আটকা পড়েছে? কী জানি… হয়তো বা, হয়তো বা না।

 

বাসের সুপারভাইজারের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেলাম। ভাবনার ঝড় থামিয়ে সুপারভাইজার সাহেব জিজ্ঞেস করতে লাগলেন,
‘পলি লাগবে আন্টি?’
‘হ্যাঁ দিন’, বলে হাত বাড়ালাম। পাশে বসে থাকা লোকটিও হাত বাড়িয়েছে পলির জন্য। বুকটা কেঁপে উঠল আজও আমাদের স্বপ্নঘেরা মুহূর্তগুলো হাতে বয়ে বেড়াচ্ছে লোকটি? ত্রিশটি বছর ধরে কারো স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা কতটুকু ভালোবাসার নিদর্শন সেই উপলদ্ধিটুকু ভেতরটাকে তোলপাড় করে দিচ্ছে।
চোখের নীরবতা ভেঙে লোকটি আমাকে জিজ্ঞেস করল,
‘কেমন আছো সোহানা? ঢাকাতে কোথায় এসেছিলে? সিঙ্গেল সিট নিয়ে বসেছো যে? স্বামী বা ছেলেমেয়েরা কোথায়?’
প্রশ্নগুলো শুনে এক কাষ্ঠহাসি আমার চোয়ালে রেখা টেনে দিল। বললাম,
‘ভালো আছি। চোখের সমস্যায় ভুগছি কিছুদিন। তাই ঢাকাতে ছোটবোনের বাসায় এসেছিলাম ডাক্তার দেখাতে। বেশ কিছুদিন ঢাকাতে থাকতে হলো। এখানে আর ভালো লাগছিল না। তাই বোনের ছেলেকে বললাম আমাকে ফরিদপুরের গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে যেতে।’
‘তোমার স্বামী-সন্তানরা আসেনি? এই বয়সে একা বের হয়েছ কেন?’
‘সারাজীবন ধরেই তো একা। একা চলার অভ্যাস হয়ে গেছে। তুমি বরং আমার কথা বাদ দাও। নিজের কথা বলো। তোমার সংসারের সবাই কেমন আছে?’
‘সংসার তো নেই সোহানা। আমিও একা মানুষ। হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। ঢাকাতে ডাক্তারের কাছে এসেছিলাম। ডাক্তার অপারেশন করাতে বলল। কিন্তু এই বয়সে আর অপারেশনের ঝক্কি-ঝামেলায় যাবো না বলেই ফিরে এলাম।’
‘সংসার নেই মানে? বিয়ে করোনি?’
‘না। বিয়েটা আর করা হয়নি। জানি না কোন অপরাধে ভাগ্যবিধাতা বিয়েটা লিখতে গিয়েও উঠিয়ে নিলেন কপাল থেকে!’
আমি বলতে লাগলাম, ‘আমাদের বিয়ে ভেঙে যাবার কয়েকদিন পর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই অসুখ থেকে বাবা আর ফেরেননি। বাবার মৃত্যুর কিছুদিন পর তোমার খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম তোমাদের অফিসে। অফিস থেকে জানালেন, তুমি ময়মনসিংহে বদলি হয়ে চলে গেছো।’
‘তোমার আমার বাগদানের পর দেনমোহরসহ বিভিন্ন বিষয় দুই পরিবারের ঝামেলা হলো। দেনমোহরের টাকার পরিমাণ শুনে আমার বাবা ক্ষেপে গেলেন। আমার পরিবার তোমার জন্য গহনা বানানো বন্ধ করে উলটো তোমার বাবাকে বললেন, মেয়েকে সাজিয়ে দিতে। শুরু হয়ে গেল দুই পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য। এরপর বাবা কঠিন এক কসম দিয়ে আমাকে আটকে রাখলেন। বিয়ে না করতে বাধ্য করলেন। আমি পারিনি সোহানা, তোমার বাবার মৃত্যুর খবর শুনেও এই কাপুরুষোচিত মুখ নিয়ে তোমার পরিবারের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে। তোমার কান্নাভেজা মুখটার দিকে তাকানোর সাহস করে উঠতে পারিনি আমি। তাই বদলি হয়ে ময়মনসিংহ চলে গেছি। চাকরি আর আমি এই করেই কর্মজীবন কাটিয়ে শেষ জীবনের অবসর কাটাতে ফের ফিরে আসি ফরিদপুরে। তবে সুদীর্ঘ এতগুলো বছরের প্রতিটি দিনের শেষে তোমার স্মৃতিটুকুই একমাত্র আমাকে পরবর্তী দিনের পথচলার খোরাক জুগিয়েছে।’
আমি তাকিয়ে দেখছি মানুষটার দিকে। ত্রিশ বছর ধরে বদলে যাওয়া এক মানবদেহের পরিবর্তনগুলো খুব সহজেই দৃষ্টির সমীকরণে ধরা দিচ্ছে। সেই ঘন কালো চুলগুলো বেশ পাতলা হয়ে গেছে। সাদা চুলে ছেয়ে গেছে পুরো মাথা। চামড়া কুঁচকে গেছে। সুঠাম দেহের সেই সুদর্শন পুরুষটির জায়গায় এক জীর্ণ-শীর্ণ গুটিসুটি বৃদ্ধ বাসের সিটে বসে আছে। আমার চোখ দুটি জলে ভরে যাচ্ছে। চোখের সামনে ভেসে উঠছে ফেলে আসা সেইসব ভালোলাগার দিনগুলি। লোকটির সাথে প্রথম পরিচয়ের চির অমূল্য সেই মুহূর্ত…

 

ঘড়িতে সময় বিকেল চারটা বাজে। স্যারের বাসায় পড়া শেষ করে রিকশার জন্য রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু রিকশার টিকিটা পর্যন্ত রাস্তায় নেই। হঠাৎ চারপাশ কালো হয়ে ঝড়ো বাতাস আর বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করল। পাশেই ছিল একটি চায়ের দোকান। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে এই চায়ের দোকানটি বেশ জমে ওঠে। চায়ের দোকানের মালিক এখনো আসেনি। আমি চায়ের দোকানের ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। আশেপাশে কেউ নেই। হঠাৎ একটু দূরে এক মোটরসাইকেল আরোহীকে এদিকে আসতে দেখলাম। ততক্ষণে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। মোটরসাইকেল আরোহী তার সাইকেলটিকে চায়ের দোকানের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখেই আমার কাছে অনুমতি চাইতে লাগলেন,
‘ঝড় বৃষ্টিতে গাড়ি নিয়ে বড়ই বিপদে পড়ে গেছি ম্যাডাম। বৃষ্টি থামা পর্যন্ত গাড়ি আর গাড়ির মানুষটাকে আপনার টংঘরে এতটুকু আশ্রয় দিন। আবেদন গ্রহণ করুন টং রাণী।’
আমি মুচকি হেসে সামনে থেকে একটু পিছনে সরতে সরতে বলছিলাম,
‘আমার টংঘর মানে? আমাকে আপনার চা বিক্রিওয়ালি মনে হলো? আমিও আপনার মতোই ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি মাত্র। আমার কাছে অনুমতি চাওয়ার কিছু নেই। আপনি ভিজে যাচ্ছেন। দ্রুত ছাউনির নিচে এসে দাঁড়ান।’
‘চা বিক্রিওয়ালি ভাবিনি, টং রাণী ভেবেছি। বৃষ্টিস্নাত দিনের টং রাণী। রাণীর অনুমতি না নিয়ে টং ঘরে প্রবেশ করে প্রাণটা হারাবো নাকি! প্রাণটার জন্য যে বড্ড মায়া হয় গো রাণী।’
এদিকে ঝড়ের গতি বাড়তে লাগল। বৃষ্টির ছাঁট এসে ভিজিয়ে দিতে লাগল আমাদের। তবুও আমরা সরতে পারছিলাম না ওখান থেকে। কারণ আশেপাশের মুদির দোকানপাট সব বন্ধ। ধারে-কাছে আশ্রয় নেওয়ার কোনো স্থান চোখে পড়ছিল না। কিছুক্ষণ দুইজন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার পর লোকটিই প্রথমে নীরবতা ভেঙে বলতে লাগল,
‘এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কোনো মানে হয়! আমরা কী রোবট নাকি মানুষ? ভাব ধরে দাঁড়িয়ে না থেকে আসুন পরিচিত হই!

দুজনের পরিচয়পর্ব শুরু হয়। অনেকটা সময় ধরে বয়ে চলা পরিচয়পর্ব শেষে বৃষ্টিও থেমে যায়। এরপর আমার আপত্তি সত্ত্বেও লোকটির মোটরসাইকেলে উঠতে বাধ্য হই। সে মোটর সাইকেলে করে আমাকে বাসার সামনে পৌঁছে দিয়ে চলে যায়।

 

এরপর কাকতালীয়ভাবে মার্কেটে, কলেজ মাঠ বা রাস্তায় বিভিন্ন সময় দেখা হয়ে যায় লোকটির সাথে। চোখে চোখে ভালো লাগা বাড়ে, চেনা-জানা তৈরি হয়। হঠাৎ একদিন আমার কলেজের এক বন্ধু ফারহান আমাকে একটা খাম দিয়ে বলে বাসায় গিয়ে খামটা খুলবি। খামের ওপরে আমাদের কলেজের সিলমোহর দেখে আমি ভেবেছিলাম কলেজের কোনো চিঠি হয়তো। বাসায় এসে খামটা খুলতেই দেখতে পাই এক চিরকুট। তাতে লেখা,
‘টংঘরের ঝড়ো সময়টা যদি জীবন হতো, তবে পাশে থাকার তীব্র অনুভূতিতে কারো জীবনবধকারী বজ্র হতাম। আর এই বজ্রপাতকে গ্রহণ করাতে কেবল ভালোবাসা দিয়েই মাটিকে ছুঁয়ে দিতাম। তীব্র চাওয়াটাকে ডাকে পাঠালাম। আর ফিরতি ডাকের প্রত্যাশায় রইলাম।’

ইতি
এক বজ্র

 

চিরকুটটি পড়ে আমি কাঁপতে লাগলাম। কী বলবো, আমার কী কিছু বলা উচিত? সারারাত চিন্তায় হিমশিম খেলাম। তবু চিঠির চাওয়াটাকে প্রত্যাখান করার সাহস বা ইচ্ছে কোনোটারই সায় খুঁজে পেলাম না। বরং লজ্জার মাথা খেয়ে ফিরতি চিরকুটে লিখলাম,
‘বজ্র মাটিকে ভালোবাসতে পারলে, বজ্রপাতে পুড়তে মাটিও রাজী।’
এরপর দুই বছরের দাপিয়ে বেড়ানো প্রেমময় প্রাঙ্গণে আমাদের ছুটোছুটি চলতেই থাকল। কত স্বপ্ন কত আশা বুকে হাতে হাত রেখে পথ চলতে লাগলাম দু’জন। এর মধ্যে হঠাৎই আমার বিয়ের সম্বন্ধ এলো। আমি আঁকড়ে ধরলাম আমার মানুষটিকে। দু’জনে হাতে হাত রেখে শপথ করলাম,
‘শুধু জীবন নয়, জীবনের শেষ সময়ে যখন আমরা মৃত্যু দুয়ারের পথযাত্রী হবো সেদিনও দু’জন এভাবেই দু’জনের পাশে থাকব। কোনো পার্থিব ঝড়ই আমাদেরকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আলাদা করতে পারবে না। বরং ঝড় শুরু হলে এই হাতটি ধরেই ওপারের শেষ ঠিকানায় নিশ্চিন্তে পৌঁছে যাব।’
শপথ করেই দু’জন সাহস করে গিয়ে দাঁড়ালাম দু’জনের বাবা-মায়ের সামনে। ওর বাবা-মা রাজি হলেও আমার বাবা-মা ওকে চাকরি জোগাড় করে আসতে বললেন। সবই ঠিক ছিল। তিনমাসের মাথায় ওর একটা ভালো চাকরিও হয়ে গেল। আমাদের বিয়ের পাকা কথা হলো, আংটি বদলও হলো। তবুও নিয়তির ঘোরে বিলাপঘেরা জীবনের সঙ্গী হতে হলো আমাদের।

 

চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু নিজের আবেগটুকুর গলা চেপে ধরে বসে আছি। শিশুবয়সে কান্নার বৈধতা আছে। যৌবনে আবেগের বৈধতা আছে। কিন্তু বৃদ্ধদের জন্য আবেগ বা কান্না দুই-ই যে অবৈধ। বৃদ্ধদের যে কোনো কাজই সবার চোখে জগতের একমাত্র ন্যাকামি।
আমি বাসের সিটে বসে আছি কি না জানি না! দুনিয়া ঘুরছে আমার সাথে। হঠাৎ কারো গোঙানির শব্দ পেয়ে চমকে উঠলাম। দ্রুত জানালার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে তাকালাম।

সারাটা জীবন ধরে স্বপ্নে হাতছানি দেওয়া আমার সেই মানুষটি আজ আমার সামনে বসে কাতরাচ্ছে? আমার ভেতরটা শূন্য মনে হচ্ছে, আমি কাঁপছি। হে সৃষ্টিকর্তা, এতগুলো বছর পর আবার কোন শোকের সাক্ষী তুমি করতে যাচ্ছ আমায়? ক্ষমা করো, রহম করো, আমার জীবন নিয়ে হলেও তুমি আমার এই মানুষটাকে সুস্থ করে দাও।
আমি চিৎকার করে বলছি,
‘নাবিল, নাবিল? কেমন লাগছে বলো আমাকে? এভাবে বুক ধরে রেখেছ কেন?’
এক অস্ফুট কণ্ঠে আমার মানুষটা বলে যাচ্ছে,
‘তোমাকে দেখার জন্যই হয়তো বিধাতা এতদিন ধরে আমার চোখ দুটি খুলে রেখেছিলেন। আমার দৃষ্টির মেয়াদ আজ শেষ হয়ে এসেছে। বুকে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে, শরীর ঘামছে। পলিটা সামনে ধরো সোহানা, বমি বমি লাগছে।’

আমি হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠলাম,
‘সুপারভাইজার সাহেব, গাড়ি থামাতে হবে। আমাকে এখনই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আমাকে কেউ একটা অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে দিন। নাবিল, কিছু হবে না তোমার, কিচ্ছু হবে না, কিছু না।’
কিন্তু সুপারভাইজার গাড়ি থামাতে বলছে না। বরং আগের চেয়েও দ্বিগুণ গতিতে গাড়ি চলছে। আমার চিৎকার কেউ শুনতে পাচ্ছে না। বাসজুড়ে যে যার মতো করে বাঁচতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমার সামনের সিটের লোকটি তার ছোট ছেলেটিকে জানালার কাচ ভেঙে বাইরে ছুঁড়ে দিয়ে নিজেও লাফিয়ে পড়লেন। আমি দেখছি, যে যার মতো করেই গাড়ির কাঁচগুলোকে ভাঙছে, লাফিয়ে পড়ছে।

আমার পেছনের সিটের লোকটি আমাকে বললেন, ‘আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। দোয়া-কলেমা পড়ুন, আজ বুঝি আর বাঁচতে পারলাম না!’

এদিকে নাবিলের শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে সিটে এলিয়ে পড়ছে। গোঙানির শব্দভিড়ে কেবল একটি কথাই শুনতে পেলাম,
‘আমার হাতটি শক্ত করে ধরে রাখো সোহানা। তোমার এই হাত ধরেই আমি আমার ঠিকানায় পৌঁছে যেতে চাই। সামনে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমার হাতটি তুমি আর কখনও ছেড়ে দিবে না তো!’

আমি আমার দুটি হাত দিয়ে নাবিলের হাতদুটি শক্ত করে ধরে আছি।
জানালার বাইরে গাছপালা ছুটে পালাচ্ছে আর শোঁ শোঁ শব্দ করে গাড়ি ছুটে চলছে অজানা গন্তব্যের পথে…

 

Facebook Comments Box