মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘জননী’

রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০ | ৭:১৯ অপরাহ্ণ | 178 বার

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘জননী’

॥ শামীমা ইসলাম ॥

বইয়ের নাম : জননী
লেখক : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশক : সালাউদ্দিন বইঘর
প্রচ্ছদ : শ্যামলী মুক্তার
মূদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা

আঁধারাচ্ছন্ন ঘরে তোরঙ্গসমেত প্রবেশ করে অথৈ জলে পড়েছিল শ্যামা। সে ঘরেই সাত বছরের বন্ধ্যাত্বের তকমা ঘুঁচিয়ে জন্ম নিয়েছিল প্রথম পুত্রসন্তান। বারোদিন আয়ুষ্মান পুত্রের পর পুনরায় মাতৃত্বের স্বাদ পেতে শ্যামাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও দু’বছর। দু’বছর পর কোল আলো করে এসেছিল বিধান, তারপর একে একে আরও তিনটি সন্তান। শেষ বয়সে তার মাতৃত্বকে পূর্ণতা দিতে এসেছিল যে কন্যা তার চোখের জ্যোতিহীনতার দুঃখে শ্যামার চোখ আর্দ্র হয়ে থাকবে জীবনভর। বধূ শ্যামা জননী শ্যামাতে পুনর্জন্ম লাভ করেছে যতবার ততবার স্বপ্ন আর সাধনায় হয়েছে পুষ্ট। লক্ষ্যে হয়েছে অবিচল।

 

স্বামী শীতল চুরির দায়ে কারাজীবন বরণ করলে কূলহীন দরিয়ায় হাবুডুবু খায় শ্যামা। জীবননদী সাঁতরে অবশেষে নন্দাই রাখালের আশ্রয় গ্রহণ করে সে। ছেলেকে মানুষ করতে দাসীবৃত্তি করতেও পিছপা হয় না। তবু ছেলে কলেজে পা দিলে অর্থকষ্টে আশার প্রদীপ দপ করে নিভে যাবার প্রাক্কালে নতুন করে স্বপ্ন দেখে সে। কারণ “মানুষের আশা এমন ভঙ্গুর নয় যে একবার ঘা খাইলে চিরদিনের জন্য ভাঙ্গিয়া পড়িবে! তবু আশাতেই আশঙ্কা বাড়ে।”
আর তাই শামুর সাথে বিধানের অবাধ মেলামেশাকে সহজে মেনে নিতে পারে না সে। পুত্র হারানোর শঙ্কাতে পুত্রবধূ সুবর্ণের সাথেও তার অলিখিত যুদ্ধ চলে একান্ত নিভৃতে।
তবুও সেই ঘরেই চলে বিধানের স্ত্রী সুবর্ণের সন্তান জন্মাবার আয়োজন।

 

প্রতিক্রিয়া
এক জননীর একক ও আত্মযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি শ্যামা। শ্যামার জননী হয়ে ওঠার পেছনে কত গল্প আর সেই গল্পের পরতে পরতে কত রং তারই সমষ্টি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জননী।
এক শিশুর জন্মের সাথে সাথে চারপাশে জন্ম নেয়া অসংখ্য স্বপ্ন, সম্পর্ক আর যুদ্ধের নাম ‘জননী’।
এ উপন্যাসের দুটি শক্তিশালী চরিত্র হারান ডা. ও বিধান। শুধু মায়ায় পর্যবসিত হয়ে মানুষ কতটা মানবিক হয়ে ওঠে তার প্রমাণ হারান ডা.। শ্যামার মাথার উপর পিতার ছায়া হয়ে সুষমা দান করেছেন সে তবে পুরোটাই খুব নিভৃতে।
অপরদিকে ছোটােবেলা থেকে টনটনে আত্মসম্মানবোধে ভরপুর বিধান খুব নীরবেই মাতৃবাৎসল্যতার পরিচয় দিয়েছে। তার জায়গায় দাঁড়িয়ে যতটা সম্ভব হয়েছে জননীর দুঃখ লাঘবের আপ্রাণ চেষ্টা করেছে সে।
ব্যক্তিগত মতামতের জায়গায় এসে যা না বললেই নয় তা হচ্ছে, আমি হয়তো জীবনের খুব ছোটাে ছোটাে গল্পগুলো ভাবতে ভাবতে মরে যাব। এই যেমন ধরুন জীবন এত যাতনার কেন কিংবা জীবন এত সুন্দর কেন?
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসমগ্র বইটির প্রথমেই যে উপন্যাসটি পড়তে আমার পাঠকমন আগ্রহী হয়ে ওঠে সেটি ‘জননী’। বইটিতে মোট ৭টি উপন্যাস আছে। অন্য উপন্যাসগুলো হলো : পদ্মানদীর মাঝি, পুতুল নাচের ইতিকথা, অহিংসা, চতুষ্কোণ, হলুদ নদী সবুজ বন এবং দিবারাত্রির কাব্য।

Facebook Comments