ভাবভাষা-প্রকাশে ‘নিউ ডাইমেনশন’ যুক্ত হচ্ছে : সৈকত ধারা

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | ৪:৫২ অপরাহ্ণ | 445 বার

ভাবভাষা-প্রকাশে ‘নিউ ডাইমেনশন’ যুক্ত হচ্ছে : সৈকত ধারা

দেশের বইয়ের একটি নিয়মিত আয়োজন পাঁচটি প্রশ্ন। লেখক-প্রকাশকের কাছে বই প্রকাশনাসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নগুলো করা। আজকের পাঁচটি প্রশ্ন আয়োজনে আমরা মুখোমুখি হয়েছি তরুণ কবি –সৈকত ধারা-এর


 

 

প্রশ্ন ১। প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

‘মজ্জায় মেঘনীল’ নামে আমার দ্বিতিয় পাণ্ডুলিপিটাই প্রথম প্রকাশ পেয়েছে। আর ‘মারম্যানের হারানো জগৎ’ নামে প্রথম পাণ্ডুলিপিটা এখনও অপ্রকাশিত। তার মানে আমার একটাই বই। কবিতার। প্রত্যেকটা ১৮ লাইনের মাত্র ১৮টা কবিতা নিয়ে ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বইটা প্রকাশিত হয়। এক ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল কবিতা বলা যায়। কিন্তু কিছুটা বিপণনগত সমস্যা এবং আমার নিস্পৃহতার কারণে বইটা পাঠকের হাতে খুব-একটা পৌঁছেনি।

প্রশ্ন ২। লেখালেখির ইচ্ছেটা কেনো হলো?

প্রথমত শব্দের প্রেমে পড়ে। দ্বিতিয়ত, পরিত্রাণ খুঁজতে গিয়ে নিজের মধ্যে একটা প্রবণতা তৈরি হয়। যা আমাকে লেখা অর্থৎ কবিতার দিকে নিয়ে আসে।

প্রশ্ন ৩। লেখক জীবনের মজার কোনো অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

আমার কোনো লেখক-জীবন নেই। তেমন কোনো মজার অভিজ্ঞতাও নেই। তবে একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে। আমি তখন বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্পের পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী। সেখানে দেশের নামকরা কবি-সাহিত্যিকরা ক্লাস নিতেন। একদিন শ্রদ্ধেয় সৈয়দ শামসুল হক ক্লাস নিতে এলেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের ভাষা ও ফর্ম নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘এই সময়ে এসে আমরা নতুন বা আলাদা রকমের সাহিত্য করতে গেলে রবীন্দ্রনাথের ফর্মটাকেই শুধু নিতে পারি, কিন্তু তার ভাষাটা কোনো ভাবেই নিতে পারি না।’

তখন আমি অনেকটা না বুঝেই প্রশ্ন করে ফেললাম, ‘শুধু তার ভাষাটা বাদ দিলেই কি নতুন সাহিত্য করা সম্ভব?’ তখন তিনি কিছুটা ক্ষেপে গিয়ে ভরাট কণ্ঠে বললেন, ‘না বুঝে প্রশ্ন করলে তোমাকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হবে।’ তারপর আমি একেবারেই চুপ হয়ে গেলাম এবং কিছুটা মন খারাপও হয়েছিল সেদিন। কিন্তু এখন সেটা মনে পড়লে বেশ মজাই লাগে।

প্রশ্ন ৪। বাংলাদেশে সৃজনশীল লেখালেখির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।

শুধু লেখালেখি নয়, যে কোনো কর্মের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গেলে আমরা শুধু তার সম্ভাবনার কথাই বলতে পারি। তবে বর্তমানের দিক থেকে বলা যায়, এ সময়ে শিল্পচিন্তা ও তার ভাবভাষা-প্রকাশে ‘নিউ ডাইমেনশন’ যুক্ত হচ্ছে। এই একটি ব্যাপারই যদি ধরি, তাহলে, ভবিষ্যতে সৃজনশিল লেখালেখির ব্যাপারে নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

প্রশ্ন ৫। লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন?

লেখালেখির বিষয়ে আমার কোনো ‘স্বপ্নটপ্ন’ নেই। লেখালেখির কাজটা আমার কাছে মনোযোগ ও চেষ্টার সমন্বয়। যেহেতু প্রবণতা ক্রিয়াশিল, এখন/তখন মনোযোগ ও চেষ্টা থাকলে হবে, না হলে হবে না। এইতো।


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box

দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় শওকত হোসেন লিটু