অন্যরকম / ভিন্নরকম

লেখার পাশাপাশি লেখক যখন নিজেই বই বিক্রেতা

মঙ্গলবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১:২১ অপরাহ্ণ | 164 বার

লেখার পাশাপাশি লেখক যখন নিজেই বই বিক্রেতা

দেয়া-নেয়ার হিসেবে ‘৭১ এর সমকক্ষ আর কোনো সময় হতে পারবে না। ‘৭১ নিয়েছে রক্ত, জীবন, সম্ভ্রম, স্বপ্ন, সংসার। দেবার বেলাতেও কার্পণ্য করেনি, দিয়েছে বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। এই ‘৭১ রমা দি’কে দিয়েছে কাঁধে ঝোলা, খালি পা আর দুঃসহ একাকিত্ব। সেই দুঃসহ একাকিত্ব, সন্তান হারানোর যন্ত্রণা আর পুঁজিবাদি সমাজের বিপণনযোগ্য মুক্তিযুদ্ধের দগদগে স্মৃতি নিয়ে তিনি লিখতে শুরু করলেন।

লেখক জীবনের শুরুতে একটি পাক্ষিক পত্রিকায় লিখতেন। সম্মানীর বিনিময়ে পেতেন পত্রিকার ৫০টি সংখ্যা। সেই পত্রিকা বিক্রি করেই চলত রমা চৌধুরীর জীবন-জীবিকা। পরবর্তী সময়ে গল্প-কবিতা ও উপন্যাস লিখতে শুরু করেন তিনি। প্রায় ২০ বছর লেখ্যবৃত্তিকে মূল পেশা হিসেবে চালিয়েছেন। ২০ বছরে লিখেন ২০টি বই, যে বইয়ের উপজীব্য ছিল তার বিদগ্ধ জীবনালেখ্য। তাঁর লেখা বইগুলো হচ্ছে, [ উপন্যাস ] ‘একাত্তরের জননী’, ‘লাখ টাকা’, ‘হীরকাদুরীয়’; [ কাব্যগ্রন্থ ] ‘স্বর্গে আমি যাব না’, ‘শহীদের জিজ্ঞাসা’, ‘১০০১ দিন যাপনের পদ্য’; ‘নীল বেদনার খাম’ [ পত্রসংকলন ]; ‘সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘স্মৃতির বেদন অশ্রু ঝরায়’-স্মৃতিকথা; [ গল্প সংকলন ] ‘আগুন রাঙ্গা, আগুন ঝরা’ ‘অশ্রুভেজা একটি দিন’।

কাঁধে ঝোলা নিয়ে রোজ সকালে বেরিয়ে পড়তেন বই ফেরী করতে, নিজের বই নিজেই বিক্রি করতেন তিনি। তিনি নিজেকে বলতেন বইয়ের ফেরিওয়ালা। এ সময় ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকতেন তাঁর ২০টি বইয়ের প্রকাশক, আলাউদ্দিন খোকন। প্রকাশককে সাথে নিয়ে লেখককে যখন পথে নামতে হয় বই বিক্রি করতে তখন দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা প্রকৃত অর্থেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিপণনে নেমে আসা আঁধার দেখে বারবার মনে হয়, ‘এ আলো জ্বালবো মোরা কেমন করে’…

মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে একজন বীরাঙ্গনা লেখকের এমন দৃষ্টিকটু বিক্রয় পদ্ধতি চোখে আঙুল দিয়ে পুস্তক বিপণনের অব্যবস্থাপনাকে নির্দেশ করে।

Facebook Comments Box