বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক নাদিরা মজুমদার পেলেন অনন্যা সাহিত্যপুরস্কার ১৪২৬

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | 173 বার

বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক নাদিরা মজুমদার পেলেন অনন্যা সাহিত্যপুরস্কার ১৪২৬

বিজ্ঞানবিষয়ক লেখায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘অনন্যা সাহিত্যপুরস্কার-১৪২৬’ পেলেন লেখক নাদিরা মজুমদার। ২৯ ডিসেম্বর, রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইব্রাহিম। সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক মালেকা খান।
অনুষ্ঠান শুরু হয় নাদিরা মজুমদারের ওপর সাংবাদিক-নির্মাতা তাপস কুমার দত্তের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মধ্যদিয়ে। পুরস্কার প্রদান পর্বে নাদিরা মজুমদারকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সভাপতি মালেকা খান। তাঁর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং সনদ ও সম্মাননা অর্থ হিসেবে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন বিশেষ অতিথি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

নাদিরা মজুমদার তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বিশুদ্ধ সাহিত্যের গণ্ডিকে ভেঙে দিলো অনন্যা। আজ এই মঞ্চে নন-ফিকশনধর্মী বিজ্ঞান ও রাজনীতি বিষয়ক লেখাকে সাহিত্যের অংশ হিসেবে সম্মানিত করে সাহিত্যের মহত্ত্বকে তুলে ধরা হয়েছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, বিজ্ঞান-সাংবাদিকতায় নতুন দিক উন্মোচন করেন নাদিরা। তিনি সত্তর দশকে সাইকেল চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস করতেন। শ্রেণিকক্ষে আমি তাঁকে বিজ্ঞানবিষয়ে পাঠদান করলেও তাঁর কাছ থেকে আমি জেন্ডারবিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি।

আলোচনাপর্বে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ৩২ বছর ধরে অনন্যা একটা বড়ো ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাসমিমা হোসেনকে অভিনন্দন জানাই। তিনি নানা প্রতিকূল অবস্থায় পত্রিকাটি টিকিয়ে রেখেছেন।
পুরস্কৃত লেখক সম্পর্কে তিনি বলেন, নাদিরা ভিন্নধারার লেখক। তিনি বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়টি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছেন। বিদেশে থাকলেও তাঁর বিজ্ঞানচর্চার ফল পাচ্ছি আমরা। তাঁর অনুসন্ধানী বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের নানানভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, আমরা একটা পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করি। নাদিরা এই গণ্ডিকে ভেঙেছেন। বাংলাবাজারের মেয়েটি তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে নীরব বিদ্রোহ করে যাচ্ছেন।

সভাপতির ভাষণে মালেকা খান বলেন, বিজ্ঞান আমাদের আয়ত্ত করা দরকার। বিজ্ঞানের সঙ্গে আমাদের বিরোধ নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। নাদিরার মতো বিজ্ঞানমনষ্ক হতে হবে।

উল্লেখ্য, নাদিরা মজুমদার অনেক বছর ধরে চেক প্রজাতন্ত্রে বসবাস করছেন। জন্ম ১৯৫৩ সালের ১ মে ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একাউন্ট্যান্ট, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজার, চেক প্রজাত্রন্ত্রের নীতি-নির্ধারক ইত্যাদি। প্রাগস্থ জাতিসংঘের উদ্বাস্তু কমিশনের বহিরাগত কনসালট্যান্টও ছিলেন। নাদিরা মজুমদারের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে : ‘এই আমাদের পৃথিবী’, ‘একমেরু বনাম বহুমেরু’, ‘মহাবিশ্বে আমরাও আছি’, ‘বিমান’, ‘কৃত্রিম উপগ্রহ’, ‘আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পের কাহিনি’, ‘নানারঙের বিজ্ঞান’, ‘আইনস্টাইন সুপারস্টার’, ‘সময়, তুমি কে?’ ইত্যাদি।

বাংলা ১৪০১ সন (১৯৯৩ সাল) থেকে অনন্যা সাহিত্যপুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রতিবছর একজন নারী-সাহিত্যিককে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ-পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ-পর্যন্ত যাঁরা এই পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁরা হলেন- সেলিনা হোসেন, রিজিয়া রহমান, নীলিমা ইব্রাহিম, দিলারা হাশেম, রাবেয়া খাতুন, সন্জীদা খাতুন, শহিদ জননী জাহানারা ইমাম (মরণোত্তর), নূরজাহান বেগম, রাজিয়া খান, রুবী রহমান, পূরবী বসু, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মকবুলা মনজুর, ঝর্ণাদাশ পুরকায়স্থ, সালেহা চৌধুরী, নূরজাহান বোস, মালেকা বেগম, কাজী রোজী, নিয়াজ জামান, জাহানারা নওশিন, সোনিয়া নিশাত আমিন, বেগম আকতার কামাল, বেগম মুশতারী শফি ও আকিমুন রহমান।

Facebook Comments