পাঠক প্রোফাইল

বাস্তব জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট লেখাই আমাকে বেশি টানে

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০ | ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ | 338 বার

বাস্তব জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট লেখাই আমাকে বেশি টানে

দেশের অন্যতম সেরা সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভাষাচিত্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, নতুনত্ব আর আদর্শিক ভাবনা থেকে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রাপথ চলমান। সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যম ফেসবুকে ‘ভাষাচিত্র বুক ক্লাব’-নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে সারাদেশের বইপ্রেমী পাঠকদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র স্থাপনের অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই গ্রুপে পাঠকদের নিয়ে একটি ইউনিক আয়োজন পাঠক প্রোফাইল। পাঠকগণ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের সম্পর্কে গ্রুপে পোস্ট দেন। নির্বাচিত পোস্টগুলো আমরা দেশের বই পোর্টাল-এ প্রকাশ করি। আজ প্রকাশিত প্রকাশিত হলো মোহাম্মদ দীদার হোসেন মাসুদ-এর প্রোফাইল

 

 

মোহাম্মদ দীদার হোসেন মাসুদ (ভার্চুয়াল জগত বা বদনবই পরিচিতি দীদার মাসুদ)।
১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৮, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলাধীন চাপরাশির হাট ইউনিয়নভুক্ত উপদ্দিলামছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) পিতা আবু বকর ছিদ্দিক ও গৃহিনী মাতা মরহুমা কাজী খালেদা আরজুমানের আট সন্তানের মধ্যে আমি দ্বিতীয়।
চাপরাশির হাট হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবিরহাট ও উত্তর চর ফকিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোম্পানিগঞ্জ, নোয়াখালী হতে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করি।
অতঃপর চাপরাশির হাট উচ্চ বিদ্যালয় হতে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি উত্তীর্ণ হই।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে জুন, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষায় নোয়াখালী ম্যাটস হতে ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) পাশ করি।
এরপর ২০০৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ২০০৮ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে সমাজতত্ত্ব ও নৃতত্ত্বে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করি।
সর্বশেষ ২০১৬ সালে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (প্রজনন ও শিশু স্বাস্থ্য) ডিগ্রি অর্জন করি।
এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের একজন অ্যালামনাই।
বর্তমানে উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে তৃণমূল চিকিৎসা সেবায় কর্মরত আছি।
সম্ভবত ১৯৮৭ সালে ডা. লুৎফর রহমান এর ‘মহাজীবন’ প্রথম পড়া বই ছিলা বলে মনে পড়ছে। মাধ্যমিক শিক্ষাজীবনে লুকিয়ে পড়তাম কাশেম বিন আবুবকর বা মাসুদ রানা সিরিজের কিংবা হাতের নাগালে পাওয়া যেকোনো বই। হুমায়ুন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের বেশ কিছু বই নাড়াচাড়া করেছি। তবে ঐ বইগুলো পড়া কখনো কখনো নেশা হয়ে ওঠে।
একসময় হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে বইকেনার অভ্যাস গড়ে উঠেছিল। সে বইগুলো দিয়ে বাড়িতে “সুহৃদ সমন্বয়” নামে একটি ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়ে তুলেছিলাম, যা সময়ের আবর্তে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি।

সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস ‘সাতকাহন’ মনে খুব দাগ কাটায় দু-তিনবার পড়া হয়েছে।
এছাড়াও পাঠ্যসূচিভূক্ত ‘জোহরা’ ও ‘লালসালু’ উপন্যাস দুটো কতবার পড়েছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
বাস্তব জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট লেখাই আমাকে বেশি টানে। সময়-সুযোগ পেলেই ঘুরতে যাওয়া ও প্রকৃতির রূপে হারিয়ে যেতে ভালো লাগে। ঘুমটাও আমার ভীষণ পছন্দের।
মেডিকেল শিক্ষাজীবনে কবিতা, বিতর্ক, পাঠচক্র, তৃণমূল সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার সাথে জড়িয়ে পড়ি। গণমাধ্যম বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টারের প্রণোদনায় বিকাশ ঘটেছে লেখালেখির। “লালানগর” ও “প্রান্তিক সাংবাদিকতার বয়ান” শীর্ষক সংকলন দুটোতে আমার লেখা স্থান পেয়েছিল। বই আকারে নিজের লেখা ঐটুকুই। তবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় বিভিন্ন সময় লেখালেখি করেছি ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। ২০০৮ সালে সরকারি চাকুরিতে যোগদানের পর থেকে লেখালেখিতে কিছুটা বিচ্ছেদ ঘটে।
আমার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠাগার স্থাপন বা সমৃদ্ধকরণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বইপড়ায় উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন লালন করছি।
আর নিজের টুকটাক লেখাগুলোকে (বিশেষত কবিতা) মলাটবদ্ধ করে পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার বাসনায় ইদানিং সাহস ও অনুপ্রেরণা খুঁজে বেড়াচ্ছি।

 


দেশের বই পোর্টালে লেখা পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments