পাঠক প্রোফাইল

বর্তমানের ৬০ ভাগ লেখকের লেখার মাঝে তেমন কিছু খুঁজে পাচ্ছি না

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১১:১০ অপরাহ্ণ | 173 বার

বর্তমানের ৬০ ভাগ লেখকের লেখার মাঝে তেমন কিছু খুঁজে পাচ্ছি না

দেশের অন্যতম সেরা সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভাষাচিত্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, নতুনত্ব আর আদর্শিক ভাবনা থেকে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রাপথ চলমান। সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যম ফেসবুকে ‘ভাষাচিত্র বুক ক্লাব’-নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে সারাদেশের বইপ্রেমী পাঠকদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র স্থাপনের অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই গ্রুপে পাঠকদের নিয়ে একটি ইউনিক আয়োজন পাঠক প্রোফাইল। পাঠকগণ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের সম্পর্কে গ্রুপে পোস্ট দেন। নির্বাচিত পোস্টগুলো আমরা দেশের বই পোর্টাল-এ প্রকাশ করি। আজ প্রকাশিত প্রকাশিত হলো  জান্নাতুল কলির প্রোফাইল

 

ভাষাচিত্র গ্রুপে আমার প্রথম পরিচয় আমি ভাষাচিত্রী ১০১। কাগজ কলমে জান্নাতুল কলি হলেও ‘কলি’ নামেই সবার কাছে পরিচিত। ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৯ সালে রাজবাড়ী জেলাতে জন্ম। পরিবারের সবার ছোটো হওয়ায় শাসন, আদর সবটাই একটু বেশিই পেয়েছি। ছোটো থেকে শিক্ষকদের থেকে পুরস্কারস্বরূপ বই প্রাপ্তির কারণে বইয়ের প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা ছিল। আমার নিজের লক্ষ্য ছিল ক্যাডার হওয়ার। কিন্তু সে লক্ষ্যের প্রথম ধাপে হেরে যাওয়ায় যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম, তখনই বই আমাকে আপন করে নিয়েছে। মাত্র এক বছর হয়েছে অনলাইনে বইয়ের জগতে এসেছি। সন্ধান পেয়েছি শত শত লেখক, পাঠক, প্রকাশকদের। এই স্বল্প সময়ে বইয়ের মাধ্যমে সাফল্যের খাতায় যুক্ত হয়েছে একের পর এক বিজয়ের মুকুট। অনেক অজানা বই সম্পর্কে জেনেছি। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো প্রিয় লেখক রাখতে পারিনি। কারণ কারো লেখা গল্প, কারো বা উপন্যাস, কারো কবিতা আমার প্রিয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আমাকে অন্য জগতে নিয়ে যায়। বই যে মানুষের কতটা আপনজন হতে পারে, সেটা একমাত্র বইপ্রেমীই বোঝে। কোনো গল্প/কবিতা মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কোনো গল্প পড়ে মন ভালো হয়ে যায়। যতদূর মনে পড়ে ২০০৪ সালে “শেয়ালের জন্মদিন” বইটি প্রথম পড়া বই। তবে গল্পটি এখনো সম্পূর্ণ মনে আছে। শত শত বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত সেরা কবিতা “সোনার তরী”, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেরা উপন্যাস “হাজার বছর ধরে” জহির রায়হান। জীবনে অনেক বই পড়তে চাই। বই নিয়ে অনেক স্বপ্ন আছে। তবে কখনোই লিখতে চাই না। বরং সব লেখকদের বই সম্পর্কে জানতে চাই। যদিও মনে হয় বর্তমানের ৬০% লেখকের লেখার মাঝে তেমন কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। ২০২০ সালে নিজ জেলার একুশে বইমেলাতে প্রতিভা প্রকাশ প্রকাশনীর স্টল দিয়েছি। ইচ্ছা আছে প্রতি বছর কোনো না কোনো প্রকাশনীর স্টলে থাকবো। নিজের জেলায় পাঠক বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যখন আমি বড়ো হবো, যদি নিজের ছোটোবেলার স্বপ্ন পূরণ হয় তবে অবশ্যই নিজ জেলায় বৃহত্তর লাইব্রেরি গড়ে তুলবো। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎতে জানি না কী হবে!!!
আমরা সবাই জানি “ভাষাচিত্র” ভাষাকে বই এর পাতায় চিত্রায়ণের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নানা ঘটনা প্রবাহের জন্য কালের মহাসমুদ্রে বেয়ে চলা অন্যতম এক তরী।
তরী যেমন তার আয়ুষ্কালে মহাসমুদ্রে ভেসে চলে যাত্রী নিয়ে থাকে না স্থবির হয়ে, ঠিক তেমনি “ভাষাচিত্র” এক জায়গা স্থবির না থেকে ঘুরছে সারা পৃথিবীতে।
সেই “ভাষাচিত্র” আজ আমাকে নিজের সম্পর্কে জানাতে এতো সুন্দর আয়োজন করায় ভাষাচিত্রকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অনেকদিন রিডিং ব্লকে থাকার পর মাত্র কয়েকদিন আবার বই পড়া শুরু করেছি। কিন্তু করোনা আমাকে আবার থামিয়ে দিয়েছে। জানি না আর কখনো বই পড়ার সুযোগ হবে কি না!
দু’চোখ জুড়ে শত শত স্বপ্ন,
হয়তো সত্যি হওয়ার নয়।

 


দেশের বই পোর্টালে লেখা পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments