দেশের বই ঈদ সাময়িকী

ফাল্গুনী ডি কস্তার দুইটি কবিতা

সোমবার, ০৯ মে ২০২২ | ৪:৫১ অপরাহ্ণ | 89 বার

ফাল্গুনী ডি কস্তার দুইটি কবিতা

ভাষাচিত্র বুক ক্লাব আয়োজিত শুক্রবারের কবিতা শীর্ষক আয়োজন থেকে বাছাইকৃত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে “দেশের বই ঈদ সাময়িকী”। আজ প্রকাশিত হলো ফাল্গুনী ডি কস্তা-এর দুটি কবিতা


 

 

[১]
মনের আর্শিতে

সেদিনের স্মৃতির আকাশের,
গুমোট অন্ধকাচ্ছন্ন মেঘগুলো
মৃদু সমীকরণে ,
মনের উতলা চঞ্চল আবেশের ছোঁয়ায় উড়ে গিয়ে,
স্পষ্ট দুচক্ষুর আর্শিতে ভেসে উঠলো,
পুরনো দিনের মধুর স্মৃতি পুঞ্জ পুঞ্জ ।
কী অসম্ভব, দুর্দান্ত ভালোবাসা ছিল দুজনার।

তোমার ভালোবাসার বাঁধভাঙ্গা পাগলামিতে,
ভীষণ মুগ্ধতায় হারিয়ে যেতাম মেঘবালিকা হয়ে,
মেঘেদের দেশে।
ভেতরে জমে থাকা না বলা, ভালোবাসাগুলো যেন হিমালয়ে জমে থাকা বরফের মতোই,
গলে গলে নীল সাগরে মিলতো, আলিঙ্গনের উন্মাদনায়।

কিন্তু,
অপরদিকে মনের কোণে সর্বদাই অজানা আশঙ্কার,
প্রলঙ্করী ঝড় বয়ে যেত ।
যেন তছনছ করে দিতো হদয়ের বন্দরে, নোঙর করা ভালোবাসা।

ভালোবাসার প্রতি বরাবরই সম্মান তোমার ছিল ,
পাহাড়সম মজবুত ও দৃঢ়।
তাইতো তুমি তোমার পবিত্র ভালোবাসাকে,
কখনোই কলঙ্কিত করতে চাওনি । তুমি জানতে সে শুধুই তোমার।
একান্তই আপনার।

তোমার চোখ দুটো উজ্জ্বল তারার মতোই জ্বলজ্বল করে উঠতো,
ভালোবাসাকে একটু ছুঁয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।
তোমার অধরগুলো চঞ্চল থাকতো একটু উষ্ণতা পাবার জন্য।
তোমার হাত দুটো নিশপিশ করত, আর উত্তেজনায় ঘেমে উঠতো
তোমার সুউচ্চ নাকের ডগা ,
আর ঔ প্রশস্ত কপালখানি ,
দূরন্ত স্পর্শের উত্তেজনায়।

কিন্তু, তুমি সমুদ্রের বিশালতার মতোই প্রসারিত করতে নিজেকে।
একটি দিনের জন্য না দেখলে ,
যে তুমি, চঞ্চল আনমনা হতে,
অথচ আজ সেই তুমিই,
সেই চঞ্চলতা, ব্যাকুলতা, উৎকণ্ঠা, উন্মত্ততা লুকিয়ে রেখে,
কি নিদারুণ কষ্টের হাসির আড়ালে,
তোমার জগতে করছো দিনাতিপাত।
আর আমি আমার ভূবনে মহাসমারোহে,
দিন, কাল, বছর করছি পার।
আমি বহুদূর থেকে তোমার হৃদয় জ্বলে অঙ্গার হওয়া,
যেন স্পষ্ট দেখতে পাই ।
তোমার হৃদয়ের চাপা আগ্নেয়গিরির লাভাগুলো যেন টগবগ করে ফুটতে ফুটতে,
পৃথিবীর উপরে শান্ত পরিবেশে উদগিরিত হতে চাইছে ।
কি নিষ্ঠুর, নির্মম!
না পাওয়ার সেই
অস্পর্শীয় ভালোবাসা।

এ যেন জীবিত থেকেও মৃত,
যা মনের অনুভবের স্তূপের তলায় চাপা পড়ে থাকবে চিরজীবন।
মাঝে মাঝে বিচ্ছেদ ভাবনারা
ভূগোলের সমস্ত মানচিত্র ছাড়িয়ে
যেতে চায় অনন্ত অসীমে,
অনন্ত আকাশে।

 

[২]
মায়ের কাছে ছেলের চিরকুট

মাগো, তুমি দুঃখ করো না,
ছেলের শোকে চোঁখের জল
আর ফেলো না ।
আমার কথা ভাবছো,
মনে পড়ছে আর অশ্রু ঝরছে?
ছেলে কোথায় আছে!

দেখো তাকিয়ে,
পূর্ব আকাশের বুক চিরে ঊষার আলো পৃথিবীকে আলোয় আলোকিত করেছে।
সেইতো তোমার বুকের আদরের সূর্যসন্তান।
আকাশে-বাতাসে বারুদের ঝাঁঝালো গন্ধ আর লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে,
কিছুকাল আগেও,
আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল,
পৃথিবীর ফুসফুসে বাসা বেঁধেছিল মরণব্যাধী পরাধীনতার ক্যান্সার।

আজ সেই আকাশ, বাতাস,
পলাশ, শিমুল আর মহুয়ার গন্ধে
মৌ মৌ করে।
তোমার বুকের ধন মানিক রতন,
আজ মুক্ত নীল আকাশে,
উড়োজাহাজ চালিয়ে নিশ্চিন্তে উড়ে,
দেয় সাতসাগর পাড়ি।

আজ আমাদের জলসীমায় বড় বড় জাহাজের মাস্তুলের হাল ধরে আছে,
বাংলার সোনার ছেলেরা।

বই পুস্তকের কোনো লেখাই বুঝি না,
নিজের ভাষায় কথা বলতে পারি না,
মাকে, মা বলে ডাকতে পারি না,
তা কী হয় মা?

মাঠের পর মাঠগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখো,
যেখানে হামাগুড়ি দিয়ে তোমার আদরের ছেলেরা,
শটগান, মেশিনগান, বুলেট, গ্রেনেড বিস্ফারিত করে,
দূরন্ত দুর্বার গতিতে শত্রুকে দমন করেছিল, পরাজিত করেছিল,
আজ সেখানেই কি সুন্দর সোনালী শস্যে ভরেছে মাঠ।
কানায় কানায় ভরপুর প্রতিটি শূন্য গোলা।

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন রক্তাক্ত মানচিত্র,
প্রেম পূর্ণ ভালোবাসার রক্তে অবগাহন,
পবিত্র, স্নিগ্ধ ভূমি, পুন্য মাতৃভূমি দেখেছে কি কখনো কেউ?

আমার কথা মনে হলেই,
পাখিদের কলতানে ভরো মন,
ঝিলে বিলে শাপলা পদ্ম ফোঁটে ক্ষণ,
মেঠোপথ, গাছগাছালি পথে
নিজজন।
সবাই, সবই আজ তোমার আপনজন।

Facebook Comments Box