ভালোবাসি গান, তাই রবীন্দ্রনাথে সঁপেছি প্রাণ

প্রিয় পাঁচ বই

বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ | 454 বার

প্রিয় পাঁচ বই

ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই আমাকে নানা ধরনের বই পড়তে হয়। তবে এসব বই কখনো ‘পাঠ্যবই’ মনে হয় না। কারণ, আমার ভেতরের পাঠকসত্তার জন্ম হয়েছিল খুব ছোটবেলায়।

ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি আমার একটা গভীর কৌতূহল আছে। আমার পড়া সেরা পাঁচ বইয়ের কথা বলতে গেলে তাই প্রথমেই আসবে তাঁর একটি উপন্যাসের কথা। নাম যোগাযোগযোগাযোগ পড়তে গিয়ে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কুমুদিনীর সঙ্গে আমার যেন একটা অদ্ভুত যোগাযোগ তৈরি হয়ে গেল। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে একজন বুড়ো ধনবান লোকের সঙ্গে কুমুর বিয়ে হলো।

এরপর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে রবিঠাকুর যেভাবে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন, বেশ লেগেছে। মনে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে কুমুর চরিত্রায়ণ এবং তার অসহায় আত্মসমর্পণ। এমন করে লিখতে শুধু রবীন্দ্রনাথই পারেন।

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আরও জেনেছি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো পড়ে। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাঁর কাছে ঋণী। ইতিহাস যে এত উপভোগ্য হতে পারে, তা সুনীলের সেই সময়, প্রথম আলো, পূর্ব-পশ্চিম বইগুলো না পড়লে জানাই হতো না। কিছুটা কল্পনা আর বেশির ভাগই সত্য ঘটনা অবলম্বনে দেশভাগের সময়টা তুলে ধরেছেন তিনি। তাই আমার দ্বিতীয় পছন্দ প্রথম আলো

তৃতীয় অবস্থানে আছে জেন অস্টেনের প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস। রোমান্টিক উপন্যাসের তালিকায় এটি আমার পছন্দের শীর্ষে। গল্পের প্রধান চরিত্র এলিজাবেথ ও মি. ডারসির নাটকীয় অথচ বাস্তবতায় আবদ্ধ রোমান্স, তাদের একজনের চারিত্রিক ও মানসিক উন্নয়নে অপরের যে ভূমিকা, তার সঙ্গে যেন সহজেই নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। গল্পের শেষে এসে মি. ডারসি যেন সব নারীরই প্রিয় মানুষ হয়ে দাঁড়ায়। এই উপন্যাসের আরেকটি দিক হলো, ১৮১৩ সালে যখন নারীদের ভোটাধিকার কিংবা শিক্ষা লাভের অধিকার ছিল না, সেই সমাজের একটা চিত্র পাওয়া যায়। রোমান্টিক উপন্যাসের আড়ালে অস্টিন এই দিকটিও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন।

ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়া শুরু করার পর থেকে সাহিত্যের বিভিন্ন ধারার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মেছে। জালালুদ্দিন রুমির সুফি কবিতা ছিল এর মধ্যে অন্যতম। এলিফ শাফাকের লেখা দ্য ফরটি রুলস অব লাভ এই ধারার সঙ্গে আমাকে আরও ভালোভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়। জালালুদ্দিন রুমি, তাঁর সুফিজম, তাঁর গুরু শামস অব তাবরিজ এবং এই গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক যে কী মধুর ছিল, এবং তাদের এই সম্পর্ক যে পরস্পরের লেখনীতেও নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে; এলিফ শাফাক বইটিতে তা-ই সহজভাবে তুলে ধরেছেন।

সবশেষে বলব খালেদ হোসাইনির দ্য কাইট রানার–এর কথা। খালেদ হোসাইনির গল্পের যে জিনিসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে, সেটি হচ্ছে তাঁর লেখার সারল্য। এত সহজ কথা, অথচ মনের ভেতর এমনভাবে দাগ কাটে যে তার রেশ থাকে অনেক দিন। সহজ-সরল কাহিনির মধ্য দিয়ে তিনি বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, বিশ্বাস, অপরাধ, প্রায়শ্চিত্তের মতো গভীর বিষয়গুলো যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা সত্যি প্রশংসার যোগ্য। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানের তৎকালীন দ্বন্দ্ব, শ্রেণিব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের করুণ পরিস্থিতি এত হৃদয় নিংড়ানোভাবে তুলে ধরতে আমি খুব কম লেখককেই দেখেছি।