প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক কবিতাগুচ্ছ

সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১ | ৪:৫৩ অপরাহ্ণ | 236 বার

প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিক কবিতাগুচ্ছ

‘প্রতিদিনের কবিতা’ দেশের বই-এর নতুন আয়োজন। এই আয়োজনে প্রতিদিন তরুণ কবিদের একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হয়। আজ প্রকাশিত হলো স্বপঞ্জয় চৌধুরীর কবিতা


 

হেঁশেল

মাটির হেঁশেলে বানাই জলবায়ু পিঠা
আরব্য ধূলিকণার মতো দলা পাকিয়ে
আকাশে পালিয়ে যাচ্ছে উগ্রবাদী ধোঁয়া,
শর্ষে আর হলুদের ভেতর পড়াই
সাম্যবাদী বিয়ে, ফিঙের লেজের আদলে
তুলি ভিজিয়ে ভিঞ্চিদা আঁকায় মগ্ন
বাংলার লিসামোনা, চক আর স্লেটের মেলামেশার
ফলস্বরূপ দেখা গেল জীবন+সাথী, জে+এস
বেতারের তরঙ্গ থেকে অন্তর্জাল অবদি
পুকুর ঘাট থেকে সেগুনের দেহ অবদি
কেবল পাখি আর পাখিনীর নাম।

নাম চর্চার কৃত্রিম ব্যবহার শেষে
তারা শিখে ফেলে মিথ ও মিথ্যে
হেঁশেলের উগ্রবাদী ধোঁয়ার মতো
তারাও কুণ্ডলী পাকাতে পাকাতে
মনহীন মিহি ধূলো হয়ে আশ্রয় নেয় বায়ুতে।

জঙ্গলনামা

জঙ্গলে বসে দেখি প্রেমিক বাঘ আর শাখামৃগের যুদ্ধ
মৎস, কুমিরানী আর ব্যাঙের ক্রীড়াযজ্ঞ শেষে
জল শিকারী হরিণীর পেট থেকে বের হয়ে আসে
সিংহের হা, অজগরের নিশ্বাস।

সাতকরা দিয়ে জাল দেয়া সালুনের ঝোল
চেখে দেখছে মামুনির বড় মামা হাবুল
বাহ! আজ হরিণের গোসটা ভালোই পাকিয়েছিসরে বোশেখি
তেতুলের চাটনি আর বাঘের দুধ ঘোটা দিয়ে
তৈরি করা হচ্ছে তেতুলের বোরহানি,
কী আশ্চর্য হাবুল মামার চুলগুলো তখনও
কেশরের মতো হাওয়ায় উড়ছিল।

ঢাক-ঢোল ঝাঁঝড় বাজে

আজান শেষ হলে ঢোলে বাড়ি পড়বে
ঢোলের বাড়ি শেষ হলে আজান শুরু হবে,
আল্লাহু আকবার বলা হলে উলু ধ্বনি শুরু হবে
উলু ধ্বনি শেষ হলে আল্লাহু আকবার বলা শুরু হবে

আর চারিদিকে ঝাঁঝড় বাজিয়ে বাজিয়ে
চাঁদমুখগুলো ভাত-রুটি খুঁজে খুঁজে হয়রান হবে
ঢোলে বাড়ি পড়লে নাচ শুরু হবে
নাচ শুরু হলে ঢোলে বাড়ি পড়বে

এক দুই তিন, তিন দুই এক, দুই এক তিন
গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়বে পাগলা সোনাই
চট হতে ভেসে আসবে উগ্র গন্ধ
এখানে স্যানিটাইজেশন নেই,
ফুটপাত আর প্রশাবখানাগুলো উপাসনাগার হয়ে উঠছে
উপাসনাগারগুলো ফুটপাত আর প্রশাবখানা হয়ে উঠছে
আর ঠিক তখনই চারিদিকে উলুধ্বনির পরে শুরু হবে আজান
আজানের পরে শুরু হবে উলুধ্বনি।

কুকুর কদাচিৎ কামড়ায়

বোবা কুকুর ঘেউয়ানো কুকুর অপেক্ষা ভয়ংকর,
শীতাকালীন বারান্দাযাপন শেষে এই গবেষণার ফলপ্রসূতায় প্রমাণিত হলো যে
সঙ্গিহীন মানুষ বোবা কুকুরের ন্যায় ভয়ঙ্কর
তার লিলিপুট চিন্তার মেমরিতে গাদাগাদা কবিতা
একেকটা ঘাসাবৃত মিউজিয়ামের মতো বেকার হাহুতাশ ছড়াচ্ছে,
তার পাশ ঘেঁষে চলে যায় অনুভূতির শ্যামলা কালারের চাঁদ,
নিপাট অক্ষমতায় সে প্রতিনিয়তই
পরাজিত হচ্ছে আর লেজ গুটিয়ে বালিশের ভেতর
নিরাপদ আশ্রয়ে গুজে থাকছে,
তার পিঠ ভর্তি বিষণ্নতার ঘামাচি
হুল ফুটাচ্ছে আর ক্রমাগত বর্জন ও বিসর্জনের
গল্প ফেদে ফেদে তাকে বিভ্রান্ত করছে,
টুথব্রাশের ঘনিষ্ঠ ঘষাঘষি শেষে হা হা করে
সেও চেখে নেয় সুবাসিত নিশ্বাস।
নিশ্চয়ই তুমি শীত ভালোবাসো
তাই গরম লেপের নিচে বসে ওম পোহাও
আর ঘন কুয়াশাক্রান্ত কুকুরকে দেখে বল- এ বার্কিং ডগ সেলডম বাইট।

গন্দম

এখন আর গন্দম ফল খাইনা,
নিজেই গন্দম ফলের চাষ করি।
দেবরাজ্যে আমার গন্দম ফলের ব্যাপক সুনাম
পৃথিবীতে দেবদূতের আগমন ঘটে
প্রতি সন্ধ্যায় আমার গন্দম বাগিচা থেকে
তারা ছিড়ে ছিড়ে খায় তান্ত্রিক মাদকতা
আর দেবরাজ্যে বুদ হয়ে একে একে সব
দেবতা ঘুমিয়ে পড়ে, যমদূত ভুলে যায়
আত্না শিকারের কৌশল
কতিপয় আমারা তখন
গন্দম চাষের ব্যবসায়িক সাফল্য শেষে
জীবনের উৎকর্ষতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি।


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box