মুক্তকলাম

প্রকাশক প্রিন্টিং প্রেস আর বই বিক্রেতার কাজটিই করে যাচ্ছেন

বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১ | ৬:৫৭ অপরাহ্ণ | 313 বার

প্রকাশক প্রিন্টিং প্রেস আর বই বিক্রেতার কাজটিই করে যাচ্ছেন

খন্দকার সোহেল


 

পাণ্ডুলিপি যাচাই-বাছাই, তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ কিংবা সংযোজন-বিয়োজনের জন্য যোগ্যতা ও ক্ষমতাসম্পন্ন এডিটরস প্যানেল, বুক ডিজাইন, মুদ্রণশৈলীর জন্য আর্টিস্টিক টিম, পাবলিসিটি ও ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ক্রিয়েটিভ/ব্র্যান্ডিং টিম, ক্রেতা ও প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারণার জন্য মার্কেট রিসার্চ টিম, সেলস টিমসহ নিদেনপক্ষে ১৫-২০ জনের একটি টিম নিয়ে বাংলাদেশে একটি সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন এমন প্রকাশক আঁতশকাচ দিয়ে খুঁজতে হবে।

 

বাংলাদেশে বলা হয়ে থাকে, জুতা সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ অর্থ্যাৎ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কাজ একজন প্রকাশকই সম্পাদন করে থাকেন।
আজকাল অনেক প্রকাশক সরলভাবে স্বীকারোক্তি করেন, বাংলাদেশে প্রকাশক কোথায়? আমরা হলাম বইয়ের দোকানদার। কেউ কেউ বলেন, আমরা বই ছাপার কাজ করি। আমার এক ঘনিষ্ঠ প্রকাশক বন্ধু আছেন যার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্লোগান হলো, লেখক নয় লেখা ছাপি আমরা। তার মানে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে ছাপাখানার কাজটিই করছেন গর্ব নিয়ে।

 

কিছুদিন আগে নামকরা সাংবাদিক তুষার আবদুল্লাহর সঙ্গে আলাপকালে তার টেবিলে রাখা তারই লেখা একটি বই উলটেপালটে দেখছিলাম। শেষ ফ্ল্যাপে তার লেখক পরিচিতিটি আনমনে পড়ছিলাম। খুব খারাপ লাগল অল্প কথায় লেখা ফ্ল্যাপেই বেশ কিছু বানান বিভ্রাট নজরে আসায়! তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এই অবস্থা কেন? উত্তরে তিনি বললেন, আরে ধুর রাখেন এইসব। আসলে বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত বা ভাবিত নন। এটা সহজাত। এবং মনে হলো সহজাতভাবেই এটা তিনি মেনেই নিয়েছেন তার লেখকযাত্রায়। উল্লেখ্য, বইটি বাংলাদেশের একটি বড়ো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি বইয়ের স্ক্রিনশট দিয়ে একজন তরুণ লেখক পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি প্রচুর বানান ভুল ধরিয়ে দিয়ে পোস্টটি দিয়েছেন। পোস্টে তিনি এটিও উল্লেখ করেছেন, বইটি বহুবার মুদ্রিত। বলাবাহুল্য এই বইটিও প্রকাশ করেছে দেশের বড়ো একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
এমন উদাহরণ কি একটি-দুটি? উত্তরটি অবশ্যই নাবোধক। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের একটি চিহ্নিত এবং নিয়মিত সমস্যা বানান বিভ্রাট আর সু-সম্পাদনার অভাব। আর এই অবস্থা ও বাস্তবতায় বই সম্পাদনার চিন্তা করাটা বহুদূরের পথ হিসেবেই চিহ্নিত আমাদের কাছে।
একেবারে সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলো বাংলাদেশের কয়েকটি প্রকাশনার অনুবাদকর্ম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে তারা উল্লেখ করেছে, বইগুলো ভারতের বিভিন্ন অনুবাদ বই থেকে সরাসরি কপি করা!
এবং ভালো করে খোঁজ করলে সহজেই বের করা যাবে বাংলাদেশের নব্বই ভাগেরও বেশি অনুবাদ বইয়ে অনুবাদকের পরিচিতি নেই!

 

আসলে কী হচ্ছে বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা জগতে? কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা?
উত্তরে একজন তরুণ প্রকাশকই মন্তব্য করলেন, প্রকাশনা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে নয় আমরা বই ছাপা আর বিক্রিতে এগিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। অর্থাৎ একজন প্রকাশক প্রিন্টিং প্রেস আর বই বিক্রেতার কাজটিই করে যাচ্ছেন! প্রকাশকের মূল কাজটি বা কাজগুলো আড়ালে থেকে যাচ্ছে…

Facebook Comments Box