প্রধান খবর

প্রকাশকদের স্বার্থ সংরক্ষণে দুই সমিতি একসাথে কাজ করতে চাই

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪:১৫ অপরাহ্ণ | 296 বার

প্রকাশকদের স্বার্থ সংরক্ষণে দুই সমিতি একসাথে কাজ করতে চাই

‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও করোনা মহামারিতে বাণিজ্যিকভাবে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আমরা। আমাদের প্রকাশনা শিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি। এমন একটা অবস্থায় প্রকাশকদের বাণিজ্যিক সংগঠন হিসেবে আমরা সবসময়ই প্রকাশকদের পাশাপাশি থাকতে চেয়েছি। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পাশাপাশি আমরা চেয়েছি বাংলাদেশে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতিও প্রকাশকদের স্বার্থ সংরক্ষণে একসাথে কাজ করুক। কিন্তু কেউ কেউ আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ সমন্বিত যাত্রায় বাধার সৃষ্টি করে বারবার।’

 

সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশকদের একটি মতবিনিময় সভায় এসইডিপি প্রকল্প ও সৃজনশীল প্রকাশনার সাম্প্রতিক অবস্থা সম্পর্কে কথাগুলো বলেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সভাপতি জনাব আরিফ হোসেন ছোটন। গতকাল সন্ধ্যায় বাপুস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাপুস সহ-সভাপতি শ্যামল পাল, রাজধানী কমিটির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গনি, বর্তমান সহ-সভাপতি মো. গফুর হোসেন, অগ্রজ প্রকাশক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ পাশা, বাপুস পরিচালক আলমগীর মল্লিক, আবুল বাশার ফিরোজ প্রমুখ।

 

গতকাল সভায় বাপুস সভাপতি আরও বলেন, আমি পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির দায়িত্ব নিয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলা, পাবলিক লাইব্রেরি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ অন্যান্য জায়গায় প্রকাশকদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, প্রকাশকদের উন্নয়নে প্রয়োজন দুইটি সমিতির অভিন্ন সুরে কথা বলা। আমরা চেষ্টা করেছি অতীতের ভিন্নমত ও পথ ভুলে গিয়ে একসাথে কাজ করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করার। বেশ কিছু কাজ আমরা একসাথে করেছি। কিন্তু ইদানীং আবারও বিভক্তির সুর লক্ষ্য করছি কারও কারও মধ্যে। তবে আমরা প্রত্যাশা করি এবং বিশ্বাস করি দুইটি সমিতি একসাথে কাজ করতে পারলেই প্রকাশকদের স্বার্থ সুরক্ষা করা সম্ভব হবে।

 

বাপুস সহ-সভাপতি শ্যামল পাল বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সকল পেশাদার প্রকাশকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা সরকারের সঙ্গে এসইডিপি প্রকল্প নিয়ে একাধিকবার সভা করেছি। প্রকৃত পেশাদার প্রকাশকদের অন্ততপক্ষে একটি মানসম্মত বই যাতে এই প্রকল্পে ক্রয় করা হয় সেজন্য আমরা বাপুসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ করেছি।

 

রাজধানী কমিটির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, এসইডিপি প্রকল্পে একটি সরকারি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বই ক্রয় করা হবে। কোনো সমিতির পক্ষ থেকে যদি কেউ ঘোষণা করে থাকেন, সকল প্রকাশককে একটি করে বই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দেয়া হবে- এটি একটি মিথ্যাচারমাত্র। কারণ বই নির্বাচনে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়েছে। সেখানে বিশিষ্টজন বই নির্বাচন করবেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের প্রকাশকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় বাপুসের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে প্রকৃত প্রকাশকদের বই বিবেচনায় রাখার জন্য। বাপুসের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে যাচ্ছি।

 

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গনি বলেন, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমি বাপুস সদস্যপদ হারিয়েছিলাম। বহিস্কার করা হয়েছিল আমাকে। নানান সমালোচনার মুখে আমরা পথ চলেছি। সমিতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। আজকে আমি সমিতির পদে নেই। তাতেও সমালোচনা থেমে নেই। আমাকে নিয়ে সমালোচনা ও মিথ্যাচারে একটি দল খুব সোচ্চার। তবে আমি বিশ্বাস করি, যে বা যারা কাজ করে তাদের নিয়েই সমালোচনা হয়। যারা কাজই করতে জানে না, তাদের নিয়ে তো সমালোচনাও হবার কথা না। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে, তাই আমাদের পিছিয়ে থাকা ঠিক নয়। আসুন যারা কাজ বাদ দিয়ে সমালোচনায় লিপ্ত তাদের চিহ্নিত করি, যারা মিথ্যাচার করে, পদ আঁকড়ে থাকতে চায় তাদের চিহ্নিত করার সময় এসেছে। আর সময় এসেছে পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবার।

 

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল সমিতির সহ-সভাপতি মো. গফুর হোসেন বলেন, এসইডিপি প্রকল্প আর ৯৮ জনের নাম সংবলিত একটি উড়ো চিঠি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার পায়তারা চলছে। আমরা সবই জানি এবং বুঝি। কে বা কারা প্রকাশকদের স্বার্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। আপনাদের মুখোশ খুলে যাবে। আড়ালে-আবডালে কাজ করা আর সমিতিকে পকেট সমিতি বানানোর পায়তাঁরা বন্ধ করেন। প্রকাশকরা সবই বোঝেন আর জানেন।

 

প্রকাশক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ পাশা বলেন, সৃজনশীল মানুষদের সৃজনশীল কাজের জায়গা পুস্তক প্রকাশনা। কিন্তু একটি উড়ো চিঠি আমাদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা আর আস্থার জায়গায় সংকট তৈরি করেছে, পারস্পরিক আস্থাবোধে সংকট তৈরি করেছে। এই হীন চক্রান্ত আমাদের সৃজনশীল প্রকাশনা জগতের জন্য লজ্জাজনক। আমি বারবার বলেছি, একসঙ্গে মিলে কাজ করলেই কেবল সফলতা ফিরে আসবে আমাদের প্রকাশনা জগতে।

 

বাপুস পরিচালক আলমগীর মল্লিক বলেন, নকল স্বাক্ষর আর ভুল ঠিকানা সংবলিত একটি চিঠিতে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে যা আমার জন্য খুবই বিব্রতকর এবং লজ্জাকর। আমার প্রকাশনা জীবনে আমি সাধারণ প্রকাশকদের হয়ে প্রকাশনা জগতের উন্নতির জন্যই কাজ করার চেষ্টা করেছি। এই রকম একটি ঘৃণ্য কাজ যারা করতে পারেন তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

 

পরিচালক আবুল বাশার ফিরোজ বলেন, প্রকাশনা সেক্টরকে উন্নতির দিকে ধাবিত করতে দুইটি সমিতির একযোগে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি কিছু মানুষ এই সামগ্রিক উন্নতিকে বাধাগ্রস্ত করে ব্যক্তিক উন্নতির জন্য একটি সমিতিকে ব্যবহার করছে ব্যক্তিস্বার্থে। তাদের ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক খন্দকার মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক শিহাবউদ্দিন ভুঁইয়া, প্রকাশক আসরার মাসুদ, প্রকাশক মিজানুর রহমান সরদার, প্রকাশক জাবেদ ইমন, প্রকাশক মোরশেদ আলম ও প্রকাশক গোলাম মোর্তজা প্রমুখ।

 


[বই-পুস্তক-প্রকাশনা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের যে কোনো সংবাদ প্রকাশের জন্য আমাদের ই-মেইল করতে পারেন : desherboi@gmail.com]

Facebook Comments Box