দেশের বই ঈদ সাময়িকী

পিংকী দাস-এর দুইটি কবিতা

শনিবার, ০৭ মে ২০২২ | ৯:০২ অপরাহ্ণ | 300 বার

পিংকী দাস-এর দুইটি কবিতা

ভাষাচিত্র বুক ক্লাব আয়োজিত শুক্রবারের কবিতা শীর্ষক আয়োজন থেকে বাছাইকৃত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে “দেশের বই ঈদ সাময়িকী”। আজ প্রকাশিত হলো পিংকী দাস-এর দুটি কবিতা।


 

[১]
প্রতিবাদী শব্দ

অবাক পৃথিবী বড় বিস্ময়ে ভাবি আমি
কে করেছিলো জাত-পাত,
উঁচু-নীচু ধনী-গরিবের সংবিধান।
কে করেছিলো প্রথম সাদা-কালোর পার্থক্য
কে করেছিলো জাত-পাত নিয়ে অহংকার
পোশাক-আশাক আর প্রতিপত্তির গরিমা।
মরে গেলেই যদি সব পরে থাকবে
তবে কেন এত যুদ্ধবিগ্রহ?
মানুষে-মানুষে হানাহানি আর রক্তাক্ত প্রান্তর।
চারদিকে বাজছে রণ ডঙ্কা
আকাশ-বাতাস হচ্ছে ভারী,
পান থেকে চুন খসলেই বেজে উঠছে যুদ্ধের দামামা।
রণভূমি হয়ে যাচ্ছে রক্তে রঙিন,
গোলাবারুদের তাণ্ডবে সব হয়ে যাচ্ছে ধ্বংসস্তুপ,
বেড়ে যাচ্ছে লাশের মিছিল।
তিলে-তিলে গড়ে ওঠা শহর নিমিষেই
ধুলোয় মিশে পৌছে যাচ্ছে শূন্যের দোরগোড়ায়।
নীরব শ্রোতা হয়ে অসহায়ের মতো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে কালের সভ্যতা।
খাদ্যবস্ত্র চিকিৎসা সংকট পৌঁছে যাবে চরমে।
আর আমি নীরব মূর্তি, নিষ্ক্রিয় দর্শক
কিছুই কি করার নেই?
নিজের প্রতি প্রবল ঘৃণা আর আক্ষেপে
আমি তিল তিল করে হয়ে যাচ্ছি নিঃশেষ
এই ভেদাভেদের গণ্ডি পেরোতে
আমি হাতে তুলে নিয়ছি সংগ্রামী কলম,
করে চলেছি শব্দ দিয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই।
চূর্ণবিচূর্ণ করে পদতলে পিষ্ট করে
ভেঙ্গে ফেলতে চাই এই ভেদাভেদের প্রাচীর।
তাই কর্কশ শব্দে করে চলেছি তীব্র প্রতিবাদ।
করে চলেছি প্রতিবাদী শব্দের বীজ বুনন
এ শব্দের স্রোতে যদি হয় কারো বিবেক জাগ্রত ,
মনের জমিনে যদি উঁকি দেয় প্রতিবাদী শব্দের কুঁড়ি,
যদি হয় চিন্তা-চেতনার বোধোদয়
তবেই এই কলঙ্কের দায় হতে আমি পেতে পারি দুদণ্ড স্বস্তি।
স্বপ্ন দেখতে পারি ধনী-গরীব বৈষম্য কমে
আর সকল ভেদাভেদ ভুলে পৃথিবীর মানুষ
একদিন নেবে ভালোবাসার অমৃত স্বাদ।

 

 

 

[২]

হাপিত্যেশ

বিষণ্নতা ভর করেছে মনে আর আবেগগুলো
দিশেহারা হয়ে ছুটছে দিগ-বিদিক।
শব্দগুলো হয়ে যাচ্ছে বাক্শূন্য
প্রচন্ড অভিমানে কবিতাগুলো উড়ে গেছে
দমকা হাওয়ায়।
একটা অভিমানী মেঘ কালবৈশাখী হয়ে
তাণ্ডবলীলা চালিয়ে করে দিয়েছে সব লণ্ডভণ্ড।
ভরা বর্ষা, ভরা যৌবন আর আগের মতো
জাগায় না কোনো উন্মাদনা,
উদাসী হাওয়ায় জাগে না কোনো শিহরণ।
যেন মনের বাগানের সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল
হয়ে গেছে মলিন।
বিবর্ণ হয়ে গেছে সবটুকু ফেলে আসা স্মৃতি
যেন সুখগুলো নিয়েছে কারাবাস।
যন্ত্রণাগুলো দিন দিন হয়ে উঠেছে রুদ্ধশ্বাস।
হাপিত্যেশ ভর করছে এই ক্ষীণ জীবনে।
মাঝে মাঝে মনে হয় কষ্টগুলোকে
দূরন্ত বলাকার পিঠে ভর করিয়ে পাঠিয়ে দেই
দূর পরবাসে,
ছুটি দিয়ে দেই মন খারাপের সব কারণগুলিকে।
আর রাজহংসকে বলি সাত সমুদ্র তেরো নদী
সাঁতরিয়ে ফিরিয়ে আনো আমার হারানো
কবিতাগুলোকে।
শিল্পীকে বলি সুনিপুণ হাতে রংতুলির আঁচড় দিয়ে রাঙিয়ে দাও আমার ভুবন,
যেখানে প্রজাপতি থাকবে, বৃষ্টি শেষে চকচকে
রংধনু ছড়িয়ে দিবে আভা,
ভরা বসন্তে কোকিল ডাকবে ,
নরম তুলতুলে দূর্বাঘাস থাকবে
আর থাকবে আমার কবিতার বর্ণ ও শব্দগুলো।
যেন আমি কলমের খেলায় মেতে উঠে
শব্দ ও বর্ণগুলোকে নিয়ে লিখে যেতে পারি
হৃদয়ছোঁয়া হাজারও কবিতা।
আমি যেন হিমেল হাওয়ার পরশে মন ভরে
নিতে পারি দীর্ঘশ্বাস।

Facebook Comments Box