সমাজকে জ্ঞানের আলোয় রাঙাতে চাই পাঠাগারের মাধ্যমে

মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১ | ৭:২৬ অপরাহ্ণ | 289 বার

সমাজকে জ্ঞানের আলোয় রাঙাতে চাই পাঠাগারের মাধ্যমে

গতবছর আমরা কজন তরুণ সম্মিলিতভাবে একটি পাঠাগার করার উদ্যোগ নিই। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী তীরবর্তী ঘাগটিয়া গ্রামে পাঠাগার করা সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। জনসাধারণের সাহায্য-সহযোগীতায় অবশেষে ৩ আগস্ট ২০২০ খ্রি. ‘ঘাগটিয়া গণগ্রন্থাগার’ নামে পাঠাগারের যাত্রা শুরু হয়।

 

পাঠাগারের প্রথম দিকে আমরা এলাকার স্থানীয় বাজারে একটি ভাড়াটে ঘরে শুরু করেছিলাম। পরবর্তীতে আমাদের নানা চেষ্টায় অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই সরকার কর্তৃক (এলজিএসপি প্রকল্প-৩ এর মাধ্যমে) একটি ঘর নির্মাণের জন্য ৬ লক্ষ টাকা পাঠাগারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঘরটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। পাঠাগারের জন্য ভূমি দান করেন আমাদেরই এলাকার মহৎ মানুষ ডা. তোয়াজ আলী। আমরা তার কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

ইতোমধ্যে ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়ে উঠেছে প্রায়— তবে বর্তমানে আমাদের পাঠাগারটি পূর্বের ভাড়াটে ঘরেই রয়েছে। আশাকরি আমরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই আমাদের ঘাগটিয়া গ্রন্থাগারের জন্য নির্মিত ঘরটিতে পাঠাগারটি স্থানান্তর করতে পারব।

আমাদের পাঠাগারের ঘর নির্মাণের জন্য সরকার কর্তৃক বাজেট পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে যারা শ্রম দিয়েছেন, তাদের নাম না বললেই নয়। জনাব কাশমির রেজা, মকতুবুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, আবুল কাশেম, প্রমূখ ব্যাক্তিবর্গ— তাদের অপরিসীম প্রচেষ্টার ফলে পাঠাগারটি দিন দিন সমৃদ্ধতা লাভ করে চলছে। তাদের পাশাপাশি পাঠাগারের বিভিন্ন কাজ ও তত্ত্বাবধানে আমিসহ পাঠাগারটির আহ্বায়ক অমিও হাসান, সদস্য সচিব নাসরুল হাসান তাহসিন, কামরুল ইসলাম বিপ্লব, মাহতির মো. রাফি, কামরান আহমেদ লিমন, সাজ্জাদ হোসাইন, রানা আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান অপু এবং অন্যান্য সদস্যদরা নিয়মিত নিয়োজিত রয়েছেন।

সম্প্রতি আমাদের বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাতশতাধিক। দিন দিন আমরা বই বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি অবিরাম। শুধু বই বৃদ্ধির প্রচেষ্টাতেই আমরা আটকে নেই— আমরা পাঠক বৃদ্ধির অভিমুখেও ঝুঁকছি। পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসছি। বই সম্পর্কে মানুষকে জানাচ্ছি, বুঝাচ্ছি। বই পড়ার অপরিসীম গুরুত্বের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরছি। বিভিন্নভাবে মানুষকে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করছি। আমাদের প্রচেষ্টায় পাঠাগারটি সফলতার পথে চলতে শুরু করেছে— দিন দিন পাঠক বৃদ্ধিও হচ্ছে। এই অল্প সময়েই অসংখ্য বই পাঠাগার থেকে পঠিত হয়েছে।

আমরা আমাদের বই পড়ার উৎসাহ থেকে— মানুষকে সতেজ করতে, স্বপ্নের দেশে ভাসিয়ে দিতেই পাঠাগারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা মানুষকে ভালো কিছু দিতে চাই, সমাজকে জ্ঞানের আলোয় রাঙাতে চাই। চাই  ‘জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম’।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটা পাঠাগার করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিশ্বাস করি পাঠাগারটি সবার ভালোবাসায় টিকে থাকবে হাজার বছর। আমাদের সকলের মৃত্যুর পরেও পাঠাগারে বসে বই পড়বে আমাদের সন্তান। আমি মনে করি পাঠাগারটি আমার দ্বিতীয় সংসার।


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box