জল ও জালের তরঙ্গ- জেলে জীবনের করুণ উপাখ্যান

সোমবার, ০৮ নভেম্বর ২০২১ | ৪:১৯ অপরাহ্ণ | 63 বার

জল ও জালের তরঙ্গ- জেলে জীবনের করুণ উপাখ্যান

“প্রচুর শস্যের গন্ধ থেকে আসিতেছে ভেসে
পেঁচা আর ইঁদুরের ঘ্রাণে ভরা আমাদের ভাঁড়ারের দেশে”

জীবনানন্দ দাশের এই কথাগুলোর যথোপযুক্ত বিশেষণ যদি কোনো চিত্রপট বা কাহিনির মাধ্যমে দিতে হয় তবে সেটির উপযুক্ত উদাহরণ প্রশান্ত মৃধার ‘জল ও জালের তরঙ্গ’।

 

লেখক পরিচিতি
পেশায় শিক্ষকতা করা প্রশান্ত মৃধার জন্ম ২০ নভেম্বর ১৯৭১ সাল, বাগেরহাট জেলাতে। ২০০০ সালে কাগজ তরুণ কথাসাহিত্য পুরষ্কার ও ২০১০ সালে এইচএসবিসি-কালি ও কলম পুরষ্কার প্রাপ্ত এই লেখক প্রায় ছয়টি উপন্যাস, দশটি গল্পগ্রন্থ সহ প্রবন্ধ, কিশোর গল্পগ্রন্থ, সম্পাদনা করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।

 

কাহিনি সংক্ষেপ
গল্প শুরু গোকুল নামের এক সদ্য যুবার ত্রস্তপদে হাঁটা ও গন্তব্যে পোঁছানোর ব্যাকুলতা দিয়ে। নদীতে জাল বেয়ে, জলের সাথে যুদ্ধ করে বেড়ে ওঠা গোকুল ও গৌরী মাতৃহারা হলে তাদের বাবার কাছে তাদের অবস্হা হয় গলার কাঁটার মতো। দ্বিতীয় স্ত্রীর চাপ, সকলের অন্নাহার যোগাতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলা গণেশের জীবনের গল্পটাও বড্ড করুণ। পিতৃ ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুতে পাশে না থাকতে পারার অপরাধবোধ তাকে দংশিত করে অবিরত। দারিদ্র্য, পারিপাশ্বিকর্তা আর অদৃষ্ট যে জেলেদের নিত্যসঙ্গী তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এ উপন্যাসটি।
অসম্ভব বুদ্ধিদৃপ্ত তরুণ গোকুল জল ছেড়ে ডাঙার জীবন বেছে নিলে। অদৃষ্টের নির্মম শিকারে তার পিতা গণেশের জীবনে নেমে আসে জলের অভিশাপ। জল ও জালের প্যাঁচ থেকে টেনে তুলে গোকুল কি পারবে জীবন তরঙ্গের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন করে জলের গান গাইতে? পারবে কি গন্তব্যে পৌঁছাতে?

 

প্রতিক্রিয়া
জলের মতো সময়েরও তরঙ্গ আছে। সে তরঙ্গে প্রতিনিয়ত উদ্বেলিত হয় মানুষের জীবন। চোরাস্রোতে জীবন আটকে বাঁচার নিমিত্তে হাতড়ে ফেরে তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত। তেমনি ভাবে প্রতিমুহূর্ত জীবন হাতড়ায় এ উপন্যাসের গোকুল, গৌরী ও গণেশ। কেন এত টানাপোড়ন? কেন জীবনের এত বাঁকা স্রোত? জলের জীবন কেন ডাঙায় এসে জালের ফাঁসে হাপিত্যেশ করে? অস্তিত্বের কেন এত সঙ্কট? জীবনে কেন এত স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্নের নোনাঢেউ আছড়ে পড়ে? এত সব প্রশ্ন এসে ভীড় করবে যে উপন্যাসটি পড়লে তার নাম জল ও জালের তরঙ্গ।
জলের তরঙ্গে আছাড় খেয়ে আবার স্বপ্ন দেখাতে শেখাবে এ উপাখ্যান।

 

অসঙ্গতি
‘মন জোগাতে নয়, মন জাগাতে’ শুদ্ধস্বরের শ্লোগানে প্রথমে মন ভরে গেছে। নজরকাড়া প্রচ্ছদের বইটিতে ৯৬ পৃষ্ঠাতে গোকুল হয়ে গেছে গোলাপ আর ১০৯ পৃষ্ঠাতে ভরসায় বানানটা ভারাসায় হয়ে যাওয়া ছাড়া কোন অসঙ্গতি নজরে পড়েনি আমার।
ট্রেনের মৃদু ঝাঁকুনীতে দু’ঘন্টাতে পড়ে শেষ করেছি বইটি। আঞ্চলিক ভাষায় লিখিত না হলে সময় কিছুটা কম লাগতো। তবে বইটি একটি দীর্ঘশ্বাসের জন্ম দিয়েছে, ভাবিয়েছে খানিকক্ষণ।

 

নাম : জল ও জালের তরঙ্গ
লেখক : প্রশান্ত মৃধা
প্রকাশনী : শুদ্ধস্বর
মূল্য : ২১০ টাকা (মুদ্রিত)


[ বই-পুস্তক-প্রকাশনা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের যে কোনো সংবাদ-ফিচার-তথ্যমূলক লেখা প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট ছবিসহ আমাদের ই-মেইল করতে পারেন : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box