গ্রন্থমেলায় শিশু প্রহরে আনন্দের ছড়াছড়ি

শুক্রবার, ১১ মে ২০১৮ | ৩:৩১ পূর্বাহ্ণ | 714 বার

গ্রন্থমেলায় শিশু প্রহরে আনন্দের ছড়াছড়ি

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আজ ছিল শেষ শুক্রবারের শিশু প্রহর। সকাল ১১টায় মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণ খুলে দেওয়ার সাথে সাথেই শিশু চত্বরে উপচেপড়া ভিড় তৈরি হয়। শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয় অন্যরকম এক আনন্দঘন পরিবেশ। শিশুদের বইগুলো যে কোনও দিনের চেয়ে এদিন বিক্রি হচ্ছে বেশি। তবে বেশি দাম রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
বাংলা একাডেমির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রন্থমেলা প্রতি শুক্রবার ও শনিবার শিশু প্রহর উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকে উন্মুক্ত করা হয়। বাকি দিনগুলোতে বিকেল ৩টায় উন্মুক্ত করা হয়।
সে অনুযায়ী আজকে সকাল ১১টায় গ্রন্থমেলার শিশু প্রহর উন্মুক্ত করা হয়। ছুটির দিন হওয়ায় ১১টার আগে থেকেই বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলায় গেটের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে শিশুরা। মেলা প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিশু চত্বরে উপচেপড়া ভিড় তৈরি হয়।
সরেজমিন বেলা ১২টার দিকে শিশু চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ‘প্রত্যেকটি স্টলে ছিল বাবা-মায়ের সাথে শিশুদের ভিড়। ছোট শিশুরা বিশেষ করে কার্টুন বা চমৎকার প্রচ্ছদ দেখেই বই কিনতে বায়না ধরছে। আর বাবা-মা তাদের সেই আবদারগুলো পূরণ করছে। বিক্রেতারাও জানালেন বিগত যে কোনও দিনের চেয়ে গ্রন্থমেলায় বেঁচা কিনা বেশি হচ্ছে। তবে ক্রেতারা জানালেন বইয়ের মূল্য বেশি রাখা হচ্ছে।
বাসাবো এলাকা থেকে শিশুকে নিয়ে গ্রন্থমেলায় এসেছিলেন লিটন। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আপনি দেখেন একটি আত্মজীবনী, গল্প বা উপন্যাসের বই কিনতে যান। সেখানে দুই-তিনশ টাকার মধ্যে কেনা যাবে। কিন্তু শিশুদের ছোট ছোট বইগুলোর দাম তার তুলনায় অনেক বেশি।’
অবশ্য ক্রেতাদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছোট শিশুদের বই নিয়ে কাজ করা মাহী প্রকাশনীর শিপন। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘শিশুদের বই নিয়ে ক্রেতাদের বরাবরই অভিযোগ এমন। এটা ঠিক না। কেননা একদিকে যেমন কাগজের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে শিশুদের বইতে গ্রাফিক্সের কাজ, কনটেন্ট, কালার ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন দিক থাকে। যেগুলো করতে আমাদের অতিরিক্ত খরচ হয়। যার কারণে বইয়ের দাম একটু বেশি থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণত শিশু প্রহরগুলোতে শিশুদের বইগুলো বেশি বিক্রি হয়। তবে আজকে একটু বেশিই বেচাকেনা হচ্ছে।
তবে দাম কমবেশি এমন নিয়ে চিন্তা বা বুঝার সময় নেই শিশুদের। মেলায় পছন্দের বই পেলেই কিনে দিতে আবদার করছে তারা। আর সন্তানের দাবি পূরণে ব্যস্ত বাবা-মা।
এমনই একটা ঘটনা দেখা গেল। একটা ছোট্ট শিশু মায়ের কোলে মুখ বুজে আছে। দেখেই বুঝা গেল মন খারাপ, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তার বাবা এলসা-এলানার ‘তুষার অভিযান’ বইটি নিয়ে এসে শিশুটির হাতে দিল। প্রচ্ছদে কার্টুন ভর্তি ছবি দেখেই মনটা আনন্দ ভরে উঠলো শিশুটির।
একইভাবে ধানমন্ডি এলাকা থেকে বাবা-মায়ের সাথে এসেছেন সামারা ও তার ছোট ভাই আইয়ান।
সামারা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সে পরিবর্তন ডটকমকে বলেছে, আমি সিসিমপুরের একটি বই কিনেছি। আর গ্রন্থমেলা ঘুরে দেখছি ও মজা করছি।
সাথে তার ছোট্ট ভাই আইয়ান জানায়, ‘আমি মিনার একটি বই কিনেছি।’
গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে তিন বছরের ছেলে নাকিবকে নিয়ে এসেছেন শামীম আহমেদ। নাকিব জানায়, ‘আমি ডায়নোসরের একটি বই কিনেছি। আরো অনেক বই কিনবো।’
নাকিবের বাবা শামীম আহমেদ বলেন, ‘মেলায় শিশুকে নিয়ে এসেছি, যাতে করে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ হয়। কেননা আমরা তো ইন্টারনেটের মধ্যে পড়ে থাকি, পড়াশোনা করতে চায় না। তাই ছেলেকে নিয়ে এসেছি, যাতে তার মধ্যে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়।’
শিশু প্রহরে বই কেনার পাশাপাশি সিসিমপুরের অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ থাকে বেশি। তাই অধিকাংশ শিশুই যেন সিসিমপুরের মঞ্চে যেতে আগ্রহী। শিশুরা সেখানে উঠে নিজেদের মতো লাফালাফি ও মজা করছে।
এদিকে, শিশু প্রহরে শিশুদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে উপস্থিত হয়েছিলেন সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। তিনি আবদার পূরণে তাদের সাথে সেলফি তোলেন ও আটোগ্রাফ দেন।

#

Facebook Comments