দেশের বই ঈদ সাময়িকী

গোলাম কুদ্দুস চঞ্চল-এর গুচ্ছ কবিতা

শুক্রবার, ২১ মে ২০২১ | ১১:৩৫ অপরাহ্ণ | 135 বার

গোলাম কুদ্দুস চঞ্চল-এর গুচ্ছ কবিতা

গোলাম কুদ্দুস চঞ্চল-এর গুচ্ছ কবিতা


 

পতিত বীজতলা

জীবনের সকল আবাদী জমি
পতিত আজ
উল্লম্ফনে মাতাল
দখলদার উলুখাগড়ার
বেচাল বংশধর;
পলিমাটির সন্তানসম্ভবা গর্ভকে
খাবলে খেয়েছে সন্ত্রাসী ওরা
উজাড় করেছে
অংকুরিত উচ্ছল
কিশোরী বীজতলা।

 

দুঃখবিলাস

স্বরচিত দুঃখগুলি
মনের ক্যানভাসে
কষ্টের নীল আলপনা আঁকে,
স্বনির্বাচিত অপ্রাপ্তির
আটপৌরে বানোয়াট হাহাকার
জীবনের সুলভ আনন্দকে
দুর্লভ করে;
দুঃখের অস্বচ্ছ
কালো নেকাবের আচ্ছাদনে
বিফলতার বীজ বোনে
সফলতার স্বপ্নের নিলাম ডাকে!
দুঃখবিলাস এভাবেই
সুখের দরোজায় শক্ত পোক্ত
তালা আঁটে,
দুঃখের সখাবেষ্টিত হয়ে
বেতাল স্বরচিত কবিতার মতো
দর্পিত পদভারে
অজানার পথে পা বাড়ায়।

 

বসতির খোঁজ

প্রকাশ্য দিবালোকে
পশুকূলের উল্লসিত সঙ্গম
সভ্যতার চকচকে বুকে
প্রতিবাদী বীর্যপাত।
এ যেন লাশকাটা ঘরে
শব ব্যবচ্ছেদের উৎসব
সভ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার
প্রত্যয়ী মহরত।
ব্যাভিচার পরকীয়া যখন
নগ্ন প্রতিযোগিতায়
বুক ফুলিয়ে চলে,
গার্লফ্রেন্ডের শতক হাঁকানো
লম্পটের দল যখন
ক্ষমতার দম্ভে নৃত্যরত-
নির্বিবাদী সরল মানুষের বুকে
যখন তখন আলপনা হয়ে
সেঁটে যায় পিশাচ হায়েনার
রক্তভুক বর্বর হিংস্র নখরের
দাম্ভিক দুর্বিনীত ক্ষত।
বাড়ন্ত অভয়ারণ্যের
সীমানাদেয়াল টপকায় পশু
অসভ্য সভ্যতার নিগড় ভাঙে,
রাজপথে খোঁজে
বসতির অস্থায়ী ঠিকানা
সাশ্রয়ী আশ্রয়।

 

লোভের আদিম জিহ্বা

লোভের লকলকে আদিম জিহ্বার
লেলিহান শিখা
মানবিকতার চৈতন্যে অশুভ হানা দেয়
সমাজ-সংসারের অন্ত্রে
তীক্ষ্ণধার চঞ্চুর হিংস্রতা ছড়ায়,
সুখের নরম যকৃতে
লোলুপতার নৃশংস পদাঘাত হানে
এঁকে দেয় হিংস্রতার স্থায়ী বাঁকাচিহ্ন।
সুহাসিনী সখি
তোমাকেই বলি ছাই
তোমার প্রেমের সুশীতল হাওয়া
চুম্বনের মায়াজাল
এতটাই তুচ্ছ অকার্যকর তবে?
শত সিঞ্চনেও প্রশমিত হয় না প্রদাহ
থমকায় না পচন স্খলনের ধারা!

দুর্নীতি অন্যায় অসত্যের পথ
এসো পরিহার করি
লোভের শেকড় উপড়ে নিয়ে
সত্য ন্যায় আঁকড়ে ধরি।

 

মার্চ উপাখ্যান

সাতই মার্চের পদধ্বনি
শোনোনি তোমরা?
সেই বজ্রকণ্ঠের প্রতিবাদী
উচ্চারণ
সাতকোটি প্রাণে ছড়িয়ে দেয়া
অমর রণসঙ্গীত-
‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
এরই ধারাবাহিকতায়
পঁচিশের কালোরাত
বর্বর গণহত্যা
দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠন!
অতঃপর ত্রিশ লাখ শহিদের
বলিদান নৃশংসতার
কালো ইতিহাস ছিঁড়ে-খুঁড়ে
উদিত হওয়া
দীর্ঘ দুই যুগের অপেক্ষার
অবসান ঘটানো
কাঙ্ক্ষিত রক্তিম স্বাধীনতা।

 

সুদিনের অপেক্ষা

আশার আশায়
জেগে আছি
বিবর্ণ এ অচলায়তন ভাঙবে
আসবে আনন্দমুখর
সচল সময়।
আবার বাজবে বাঁশি
রাখালের ঠোঁটে
বটের ছায়ায়;
কচি বটপাতার আস্বাদ নিতে নিতে
হরিয়াল ঘুঘু
ডাকবে আনমন আয়েসে।
বন্ধু লাল পিঁপড়ের দংশনে
নিশানা হারাবে ব্যাধ
মুক্ত আকাশে উড়বে পাখি
স্বাধীন স্বপ্নডানায়।
কতটা হারিয়ে
কতটা প্রাপ্তিযোগ
সে অংক অজানা যদি বা
আশা হারায় না কস্মিনে।
এসো বন্ধুরা জেগে থাকি
সেই সুদিনের অপেক্ষায়।

 

মৃত্যুর মতো খাঁটি কবিতা চাই

জন্ম মৃত্যু সততা
ন্যায়-অন্যায়
সবেতেই যেন বিষাক্ত
ফরমালিনের সর
মৌলিক কাঁচামালহীন
যাপিত জীবন
ক্লেদাক্ত বড় দীন
সুনসান চর ভয়ংকর!

হে বিদ্যার দেবী
আমার চাই
কেবলই একটি বর
কবিতা হোক
মৃত্যুর মতো খাঁটি
সততার মতো সুন্দর।

 

Facebook Comments Box