কী ছিল আপনার মধ্যে লুৎফর ভাই?

রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০ | ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ | 90 বার

কী ছিল আপনার মধ্যে লুৎফর ভাই?

॥ মিনার মনসুর ॥

কী ছিল আপনার মধ্যে লুৎফর ভাই?
না, কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না লুৎফর ভাই। যাব তো আমরা সবাই। কিন্তু এভাবে, এমন নিভৃতে চলে যেতে হয়! কয়েকদিন আগেই তো কথা হলো। অন্য একজন প্রকাশকের অসুস্থতার কথা বললেন। জানালেন তার বিপর্যয়কর অবস্থার কথা। বারবার অনুরোধ করলেন, সম্ভব হলে তার পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু কই, নিজের অসুস্থতার কথা তো কিছুই বললেন না! হালকা একটু কাশির শব্দ পাচ্ছিলাম সেল ফোনে। জিজ্ঞেস করার পর বলেছিলেন, ও কিছু না! গ্রন্থকেন্দ্রে আসতেও চাইলেন। আমি সরাসরি বারণ করলাম। বললাম, এখন কোথাও যাবেন না। পদে পদে ঝুঁকি।

 

এখন তো আমাদের দিনরাত্রি সবই মৃত্যুময়। সংবাদ মানেই মৃত্যুসংবাদ। তারপরও, প্রিয় লুৎফর ভাই, কেন জানি না আপনার এই আকস্মিক চলে যাওয়া আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। কী ছিল আপনার মধ্যে? কিছু একটা যে ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
কত স্মৃতি আপনার সঙ্গে! সব একসঙ্গে হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় যাব। হাতে সময় খুবই কম। পরদিনই ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট।বিস্তর কাগজপত্র দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজটি হলো আমন্ত্রণপত্র। সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক হিসেবে আপনি বলতে গেলে সারারাত কম্পিউটারের সামনে বসে, ক্রমাগত ফোন করে, আমাদের সবকটি আমন্ত্রণপত্র নিশ্চিত করলেন।
বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির একটি প্রশিক্ষণে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য আপনি মাসখানেক আগে থেকেই তাগাদা দিতে শুরু করেছিলেন। আমিও নিশ্চিত করেছিলাম। কিন্তু কী আশ্চর্য, আমি তারিখ গোলমাল করে ফেললাম। বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠান। ঠিক সাড়ে চারটায় আপনার ফোন। বললেন, সবাই অপেক্ষা করছেন। বড়াে বিব্রতকর অবস্থা! কোনো প্রস্তুতি নেই। তারপরও ছুটতে হলো। সেই প্রশিক্ষণের স্মৃতি আমার বহুদিন মনে থাকবে।
একই অবস্থা হলো গত ফেব্রুয়ারিতে। শহীদ বাকি পাঠাগার আয়োজিত বইমেলা। আমার তখন দম বন্ধ করা ব্যস্ততা। কিন্তু আপনাকে ‘না’ বলি কীভাবে! অফিস থেকে পড়িমরি করে ছুটলাম। আধাঘণ্টার পথ পেরোতে লেগে গেল প্রায় দু’ঘণ্টা। কিন্তু বিন্দুমাত্র বিরক্তি ছাড়াই অদ্ভুত এক আন্তরিকতা নিয়ে আপনি তখনও গেটে দাঁড়িয়ে।
কী ছিল আপনার মধ্যে লুৎফর ভাই? কিছু একটা নিশ্চয় ছিল, যা এখন লুপ্তপ্রায়। আপনাকে বিদায় বলবো না। আপনি আমার মতো অনেকের ভালোবাসার মধ্যে বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন।

[ফেসবুক পোস্ট থেকে]


মিনার মনসুর
কবি, সাংবাদিক ও লেখক
পরিচালক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র

Facebook Comments