করোনা বিকেল

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | ৬:৪৮ অপরাহ্ণ | 214 বার

করোনা বিকেল

ফ্ল্যাট ওনার্স এসোসিয়েন সিদ্ধান্ত হয়েছে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভবনের সামনের রাস্তায়ও কেউ হাঁটতে পারবে না। কয়েকজন ডায়বেটিস রোগী আছে তাদের জন্য কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট হাঁটা অতি আবশ্যক। আর ডাক্তার আবদুল্লাহ প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং-এ ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট হাঁটার উপর জোর দিচ্ছেন। অনেক অযৌক্তিক বিষয়েও যৌক্তিক জোর দিচ্ছেন সেটা তিনি দিতেই পারেন। সরকারি অনেক ব্যপার।

এই ছতলা ভবনের বারটা ফ্লাটের মানুষ হাঁটবে কোথায়! দূরত্ব বজায় রেখে মুখে মাস্ক হাতে গ্লাবস পড়ে মিটিং-এ বসে ওনার্স কমিটি। আধঘন্টার মিটিং শেষে ছাদ খুলে দেবার সিদ্ধান্ত হয়। ভাগের ছাদ খোলাই ছিল আগে। কেউ কেউ ছাদে বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছিল তাতেই নিজেদের মধ্যে রেশারেশি দেখা দেবার পর সর্ব সম্মতিক্রমে তালা পরে ছাদের সিঁড়িতে।

তার আগে ফ্ল্যাট মালিকেদের সম্পর্কের স্বচ্ছ জল যথেষ্ট ঘোলা করেই তালার নিরাপদ ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। এই করোনা কালে কোয়ারান্টাইন সময়ে তালা খুলে দেয়া হয়। ফজরের নামাজ পড়ে গেট খুলে দেয় সকালে, নয়টায় আবার তালা বন্ধ করে।
আবার আসরের আজানের আগে কেয়ার টেকার ছাদের গেট খুলে নিচে চলে আসে। মাগরেরের নামাজ শেষে তালা মেরে চাবি নিয়ে যায়।

কামরুল রাত জেগে লেখালেখি, পড়াশোনা করে। ভালো মুভি দেখে শুতে শুতে রাত তিনটা চারটা বেজে যায়। সকাল নটায় যখন কেয়ার টেকার ছাদের গেটে তালা লাগিয়ে নিচে নেমে যায় তখন কামরুল জেগে ওঠে।

সোহানা খুব করে বলছে ছাদে যাওয়ার কথা । দীর্ঘদিন ঘরে থেকে থেকে বোর হয়ে গেছে সোহানা। কামরুল নিজেও। একটু খোলা হাওয়ার জন্য মন আকুলি বিকুলি করলেও কঠিন নিয়মেই কোয়ারান্টাইন মেনে চলছে। যদিও পড়ার মতো বেশ কিছু বই জমা ছিল, কিছু লেখা জমে ছিল মাথায়। ইউনিভার্সিটির কাজও জমা ছিল। সবমিলিয়ে কোয়ারান্টাইনের অবরুদ্ধ সময় জমানো কাজ করতে করতেই কাটলো।

অন্তত আকুলি বিকুলি মনটাকে বোঝানো গেল কাজের ছুঁতোয়। শুধু নিজের দিকটা দেখলে তো সংসারে শান্তি থাকে না। আজ ওরা ছাদে যাবে। একটা লাভ হবে। কারো সাথে কারো তেমন ভাবে পরিচয় নেই সেটাও হবে। লিফটে আসা-যাওয়ায় যা চেনা। কমিটিতে আছে কামরুল, তাতে বেশিরভাগ পুরুষদের চেনে। ভাবীদের সাথেও চেনা হয়ে যাবে এবার।

ওরা ছাদে এসে দেখে। দুজন বৃদ্ধ মানুষ এসেছ। পাঁচ কাঠা জমির উপর বাড়ি। সরকারি নিয়ম মেনেই তৈরি বলে পুরো পাঁচ বাড়িতে নেই। আশেপাশে ছেড়ে ছুড়ে চার কাঠা সাড়ে চার কাঠা বাড়ির ভেতর। একটা ফ্ল্যাটের মালিক কামরুল হলেও দুটো ফ্ল্যাট মালিকের সম্মান পায় ও। ওর পাশের ফ্ল্যাটটা ছোট ভাইয়ের।

এই ছাদটা চৌকোনা। মাঝামাঝি সিঁড়ি। সিঁড়ির শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে দেখছিল চারপাশ। তখনি সিঁড়িতে কারো পদশব্দে সরে ছাদের মাঝখানে দাঁড়ায়। পাঁচতলার স্বামী স্ত্রী এলো। কামরুল হাফ ছেড়ে বাঁচে। আশেপাশের ছাদে প্রচুর মানুষ। ভদ্রলোকের সাথে সৌজন্যমূলক কথা শেষ করে ভাবীর সাথেও কথা হয়। লিফটে দেখা আর খোলা আলোতে দেখার মাঝে বিস্তর প্রার্থক্য বুঝতে পারে ভাবীকে দেখে।

মহিলা এতো সুন্দরী! ছাদের চারপাশ জুড়ে হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করে সোহানা ভদ্রমহিলার সাথে মজে গেছে। সবাই দূরত্ব বজায় রেখে যার যার মত করেই হাঁটছে। কামরুল চারপাশে দৃষ্টি বুলায়।

এ বাড়িটা বড় রাস্তার একটু ভেতরে। বড় রাস্তার ওপারে মসজিদ। এ বাসার উত্তর দিকে হলুদ রঙের ছতলা পশ্চিমদিকের বাড়িটার বহিরাঙ্গ নীলচে টাইলসে ঢাকা। পূর্বদিকের বাড়িটা বেগুনি রঙের আবরন। দক্ষিণের বাড়িটা কমলা রঙে পথচারী দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
চারপাশের ছাদে অনেক মানুষ। ছাদে কি প্রতিদিন বিকেলে এতো মানুষ আগেও উঠতো! নাকি এই করোনা কালে অবরুদ্ধ সময়ে মানুষ বিনোদন বা বাইরে আবহাওয়ার ছোঁয়া নিতে ছাদে উঠছে!

কোনো কোনো ছাদে গাছপালাও আছে। আকাশে চোখ রাখে কামরুল। চোখ নামিয়ে হাঁটতে শুরু করে অন্যদের থেকে দূরত্ব মেনেই।

আশপাশের ছাদের আনন্দ আওয়াজ কানে আসছে। সারাদিন মানুষ কত ব্যাস্ত। কত মানুষের সাথে যোগাযোগ হয়। যোগাযোগের হরেক মাধ্যম। হরেক আয়োজন। তবুও পাশের ফ্ল্যাটের মানুষের সাথেই যোগাযোগ হয় না। টুকরো টুকরো কথা ভেসে আসছে। তাতে বোঝা তাই।

হেঁটে হেঁটে ছাদের একদম কিনারে আসে নীলচে টাইলসে যে বাড়িটার বাইরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে সেটার ছাদে চোখ যায়। দুটো শিশুর হাত ধরে হাঁটছে এক দম্পতি। হঠাৎ নারীটির হাঁটার ভঙ্গিটা খুব চেনা মনে হয়। মাঝখানে গলিপথ, তারপর ঐ বাড়ি। কাছে হলেও কিছুটা দূরত্ব আছেই।

কামরুল হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে শিশুটার হাত ধরে হাঁটতে থাকা নারীটার দিকে নজর থাকে। মাগরিবের আজানের সাথে সাথে নেমে পড়ে সবাই ছাদ থেকে। পরদিন গোলাপি সালোয়ার কামিজ পড়ে হাঁটছে কালকের নিয়মে। আজ হাঁটতে হাঁটতে এ বাড়ির দিকে চোখ যায়। ততোক্ষণে কামরুল কিনারের কাছাকাছি থেকে একটু দূরে। যতবার কিনারের কাছে যেয়ে দাঁড়িয়েছে ততোবারই গোলাপি বসন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্বামীর পিঠে ভালোবাসার কিল দিতেই চিনে ফেলে কামরুল। নাসরিন! নাসরিন!!

দক্ষিণের খোলা বারান্দায় বসে। রাস্তাটা নেতিয়ে পড়ে আছে। অথচ একমাস আগেও এই রাস্তা দিয়ে বেশ রাত অবধি জনসমাগত থাকে। নিরব রাস্তাটার দিকে তাকিয়ে এখন বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে।

সোহানা বড় মগে ভেষজ চা দিয়ে যায়। সোহানা জানে কামরুল দুধ চা ছাড়া অন্য চায়ে ঠোঁট ভেজায় না অথচ এখন তিন বেলা এই ভেষজ চা পান করে। মানুষ আসলে পানির মতো, যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। যেমন করে ওরাও বদলে নিচ্ছে ওদের জীবন প্রণালী।

কামরুল ঘরের কাজে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। ওর দায়িত্ব যে কাজগুলো ছিল সেগুলো করা হয়ে গেছে। এখনকার কাজগুলো সোহানার। রাতে খাবার পর প্লেট পাতিল ধোঁয়ার দায়িত্ব কামরুলের।

কামরুল ওর ছোট ভাই আর বোনটা আরো ছোট তখন ওর বাবা মারা যায়। মা ওদের নিয়ে নানার কাছে চলে আসে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয় নানা। সাথে ওর মায়েরও বিয়ে দিয়ে দেয়। মা চলে গেলেও ওদের কোন সমস্যা হয় না। নানা-নানির আদর তিন মামার আদর সবমিলিয়ে ভালোই ছিল ওরা। তিন মামারও একে একে বিয়ে হয়ে গেলে তারাও তাদের সংসার নিয়ে ঢাকা চলে আসে। নানার বাড়িতে ওদের তিন ভাইবোনকে নিয়ে নানা নানুর দিন চলে যাচ্ছিল সময় স্রোতে। মায়ের স্বামী মারা গেলে সেই স্রোত বাঁধাগ্রস্থ হয় তবে মাকে এবার তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফিরতে হয় না। ভদ্রলোকের বড় সংসারে তার আগের ঘরের ছেলেমেয়েদের দেখাশুনার জন্য থাকতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হতেই নানা মারা যান। ছোট মামা বোনটাকে তার কাছে এনে স্কুল ভর্তি করে দেয়। মাকেও ফিরতে হয় কারণ ঐখানে তার আর জায়গা হয় না। আগের ঘরের পুত্রের বৌ সংসারের দায়িত্ব নিজ হাতে নিয়েছে। বাইরের কারো খবরদারী সে মানবে না। ছোট ভাইটাও চলে আসে তলপিতল্পা গুটিয়ে ঢাকায়।

ওরা দুই ভাইই দারুণ মেধাবী। নিজের খরচ চালাবার জন্য টিউশনি করতো কামরুল। সেখানে পরিচয় হয় নাসরিনের সাথে। ওর ছাত্রীর পাশের বাড়ির মেয়ে। পরিচয় হবার পর দেখা হলো জানা হলো ওদের ভার্সিটিতে পড়ে তবে কামরুলের চেয়ে তিন ক্লাস জুনিয়র। প্রেমটা হয়ে যায়। প্রেম হবার পর কামরুলের কাছে এতোদিনের চেনা পৃথিবী বদলে যায়। মরুময় জীবনে প্রথম ফুলের সৌরভ বুঝতে পারে। নিস্ব পৃথিবীতে এই প্রথম একান্ত একজন ওর আছে এই বোধ বদলে দেয় ওকে। কথা থাকে চাকরি পাবার পর মামা-মামিকে নিয়ে যাবে নাসরিনদের বাসায়।

একরাতে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল কামরুল। বুঝতে পারে ওকে নিয়ে কথা হচ্ছে। সচকিত হতেই উপরের ছাদটা যেন হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ওর মাথায়। বড় মামার দীর্ঘকালের পরিকল্পনা কামরুলের সাথে তার বড় মেয়ের বিয়ে দিয়ে ব্যাবসার দায়িত্ব দেয়া। মামির পূর্ণ সমর্থন। এবার মায়ের সাথে বিষয়টা পাকাপোক্ত করতে মাকে ঢাকায় আনানোর বিষয়ে কথা বলছে দুজন।

পরদিন ওদের মাস্টার্সের রেজাল্ট বের হয়। ভালো রেজাল্ট সেলিব্রেট করে নাসরিন। সুযোগ বুঝে মামির পরিকল্পনা নাসরিনকে বলে। সব শুনে নাসরিন মামার সাথে সরাসরি কথা বলতে চায়। কামরুল নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে। ছোটবেলা থেকে মামার বাড়িতে থাকছে তিন ভাইবোন। কখনও কোনো দিন মামার কথার উপর কথা বলার সাহস হয় নি।

মায়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চায় নাসরিন। কামরুল জানে শুধু জন্ম দেয়া ছাড়া আর কোনো ভূমিকা নেই মায়ের।

চার বছরের গভীর প্রেমে কামরুলের এই কথাগুলোকে প্রত্যাখান বলে মনে হয় নাসরিনের কাছে। কাধের ব্যাগটা ঘাসের উপর রেখে কথা বলছিল নাসরিন। চলে যাবার জন্য উঠে দাঁড়াতেই হাত ধরে ওকে বোঝাতে চেষ্টা করে কামরুল। হাতটা ছাড়িয়ে ঠাটিয়ে একটা চড় বসিয়ে চলে যায় নাসরিন।

-প্রতারক
গালে হাত ছোঁয়াতেই কামরুলের সমস্ত অনুভবে একটা সত্য প্রকট হয়। এতোটা দাবি নিয়ে কেউ কখনও ওর পাশে দাঁড়ায়নি।

কিন্তু কামরুল তো প্রতারক নয়? এতোটা দাবি নিয়ে কেনো বলে গেল প্রতারক? আজ মামাকে জানাবে কুহেলিকে কামরুল বিয়ে করতে পারবে না। ও নাসরিনকে বিয়ে করবে।

বাসায় ফিরে দেখে মা এসেছে গ্রাম থেকে। মামার খুব প্রিয় বোন মা। মামিও আজ বেশি বেশি যত্ন করছে। চির দুঃকি মা খুব উপভোগ করছে। সারাটা জীবন নিজের মন্দ ভাগ্যের জন্য কখনও মুখ তুলে দাঁড়াতে পারেনি মা বাপের বাড়িতে। রাতে এক ঘরে মা ছেলের ঘুমানোর ব্যবস্থা হয়। শুতে গিয়ে বুঝতে পারে মাকে এখনও কিছু জানানো হয় নি। মাকে নিজের কথা মামার ইচ্ছার কথা খুলে বলে কামরুল। নিজের সন্তানদের অভিভাবক কখনো হয়ে ওঠতে পারেনি। দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে হয়েছে। দীর্ঘকাল পরে শুধুমাত্র জন্ম দেবার কারণে তার অভিভাবকত্বের মূল্যায়ন হচ্ছে। মা হতবিহবল হয়ে তাকিয়ে থাকে অনেকক্ষণ কামরুলের মুখের দিকে। একদিকে ছেলের ভালোবাসা! অন্যদিকে দীর্ঘকালের ঋণ পরিশোধের সুযোগ! এবং তার অভিভাবকত্বের মূল্যায়ন!

কামরুলের দুহাত তুলে নেয় নিজের হাতে। কামরুল দীর্ঘদিন পর মাকে অনুভব করে। মায়ের জন্য ভেতরটা কেঁপে ওঠে। কান্নায় ভিজে যায় মন। বাবা তুই কাল নাসরিনের কাছে যাবি কথা কবি। ওরে তুই বিয়া কর।
তুমি মামাদের কাছে ছোটু মেঝ মামার বাড়ি আমি মামার বাড়িতে সারাজীবন এতো ঋণ।
সেটা আমি বুঝে নিব তুই তোর কথা ভাব।
জীবনের প্রথম মাকে জড়িয়ে ধরে কামরুল।
পরদিন খুব ভোরে মামির ডাকে ঘুম ভাঙে। দরজা ঠেলে ঘরে ঢোকে মামি। কুহেলি রাতে পালিয়েছে।
খোঁজ খবর করে জানা গেল মহল্লার মাস্তান টাইপ এক ছেলের সাথে দীর্ঘদিন প্রেম ছিল।

সবমিলিয়ে তিন-চারদিন খুব চাপের মধ্যে কাটলো। অনেক সূত্র ধরে ধরে কুহেলির খবর পাওয়া গেলেও ধরা যায় না। দায়িত্ব থাকলো কামরুলের উপর। ভার মুক্ত কামরুল খুঁজে আনে ওদের। দুই পরিবারকে এক করে পারিবারিকভাবে আয়োজন করে সামাজিকরণ করে ওদের বিয়ে।

প্রচণ্ড ঝামেলায় কেটে যায় পনেরো দিন। নাসরিনের খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে ও ঢাকায় নেই। বোনের বাসায় গেছে। বারবার ফোন দিয়ে ব্যার্থ হয়েও আশা নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। একটা চাকরিও জুটিয়ে ফেলে। প্রাথমিকভাবে চাকরির অবস্থান খারাপ না।

নাসরিনের বান্ধবী একদিন নাসরিনের বিয়ের কার্ড দিয়ে যায়। কিছুদিন পর একটা বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ে ছাত্র পড়ানোর দায়িত্ব পায়। সেখানেই পরিচয় হয় সোহানার সাথে। সোহানার বিয়ে হয়েছিল এক প্রবাসীর সাথে। দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিছিন্ন তারপর ডিভোর্স। সবমিলিয়ে এক দুঃখি মেয়ে। কলিগের বোন সোহানার সাথে বিয়ে।

দুজনের জমানো টাকা এবং ব্যাংক লোন নিয়ে এই ফ্ল্যাট। পাশের ফ্ল্যাট মূলত মায়ের। দ্বিতীয় স্বামী তাকে বেশ বড় অংকের টাকাই দিয়েছে। বেশ আছে এখন ওরা। সোহানার অতীত জানিয়েই কামরুলের জীবনে এসেছে সোহানা। কামরুলের নিজস্ব জীবন একদম আড়ালেই আছে।

এতোদিন পর সেই অতীত সামনে এলে কীভাবে রিয়্যাক্ট করবে সোহানা। নাসরিনও নিশ্চয়ই ওর অতীত গোপন করেই আজকের সুখি জীবন যাপন করছে। দেখা যাক কাল বিকেলে ছাদে গিয়ে বিষয়টা কতদূর এগুতে পারে। নাসরিন ওকে না চেনার ভান করবে নাতো।
ভান করার কি আছে কামরুল তো আর পুরানো দাবি নিয়ে সামনে দাঁড়াবে না। একই শহরে থাকছে একই ভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছে চেনা তো থাকতেই পারে উভয়ের সাথে।

পরদিন নাসরিনদের ছাদে কাউকেই দেখা যায় না। আজকাল ঘুম ভাঙতেও দেরি হয়ে যায় কামরুলের। আজ মাইকের আওয়াজে ঘুম ভাঙে। ওদের এলাকা লক ডাউন করা হয়েছে। এই এলাকায় করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। ভেতরে ভয়টা জেঁকে বসে। মৃত্যু এতো কাছে।

সোহানা ভোরের চা হাতে ঘরে ঢোকে। কার বাড়িতে করোনা রোগী টিভিতে দেখাচ্ছে কিছু। মেজপা ফোন দিয়েছে তার দেবরের পরিচিত এক ভদ্রলোক আর তার স্ত্রীর করোনা ধরা পড়েছে। আমাদের পেছনের বাসায় থাকে তার করোনা। টিভিতে দেখাচ্ছে। টিভি খুলে বুঝতে পারে ওটা নাসরিনদের বাসা। কার হলো করোনা, নাসরিনের! ওর স্বামীর! অজান্তে চায়ের কাপটা তুলে মুখের কাছে ধরতেই মিহি ধোয়ার তাপটা নাকে ঢুকে যায়…


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box

বিষয় :