ঈশ্বর কিংবা হিরন্মবালা ও ঘোর

শনিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২:৫১ অপরাহ্ণ | 234 বার

ঈশ্বর কিংবা হিরন্মবালা ও ঘোর

‘প্রতিদিনের কবিতা’ দেশের বই-এর নতুন আয়োজন। এই আয়োজনে প্রতিদিন তরুণ কবিদের একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হয়। আজ প্রকাশিত হলো সাজেদুর আবেদীন শান্ত’র কবিতা


 

 

ঈশ্বর— প্রেম না বন্ধুত্ব?

তোর চোখ সমুদ্র
আমি তাকিয়ে থাকি
একবুক তৃষ্ণা নিয়ে।

আমি মরুভূমি, তুই পানি
তোকে পাওয়ার জন্য
ছটফট করে আমার মন।

কিন্তু কাছে যেতেই উধাও
মরিচীকার মতো।
নষ্ট মগজ গলে পরতে থাকে চেতনা—

তোকে পাওয়া হয় না আর
অজানা ভালোলাগা থেকে
আমি আবার কাছে যাই
ঈশ্বর ভ্রু কুচকে তাকায়
বলে ওঠে,
সাবধান! প্রেম না, তোমায় দিলাম বন্ধু—

বন্ধুত্বের অধিকার নিয়ে কাছে যাই
তৃষ্ণা নিবারণ করি।
সুউচ্চে চিৎকার দিয়ে বলি
ঈশ্বর প্রেম না সদা সত্য
বন্ধুত্ব।

হিরন্মবালা

তোমার নাকের নোলকে বাধা
আমার জীবনের আয়ু

চোখের দীর্ঘ কাজলে
পৃথিবী থেকে মুর্ছা যাই আমি

তোমার চোখের চাহনিতে,
হৃদয়ের যে ব্যকুলতা—
তা আমাকে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে মৃত্যুর দিকে
একধাপ করে এগিয়ে নেয়।

তোমার কপালের দিগন্তে ছোট টিপ
যেন আমার হৃদপিণ্ডের ক্ষত

তুমি হাসতে থাক, হিরন্মবালা
তুমি হাসতে থাক
তোমার হাসিতে বিধ্বস্ত হতে চাই আমি।

ঘোর

আমি তন্দ্রাঘোরে যে মেয়েটিকে দেখছি
নীল শাড়ি পরা,
হাতে কাচের চুরি-নীল,
নীল টিপ

চোখে গাঢ় কাজল,
এলো চুলগুলো বাতাসে উড়ছে
দুই একটা চুল তার ঠোঁটে, মুখে এসে পড়ছে
তখন অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে যে মেয়েকে
কসম সে মেয়ে আমার না, সে আমার ঘোর।

আমি ঘোর হতে বাস্তবে ফিরি
আবার খুঁজে পাই সেই মেয়েকে
আমার সামনে দাঁড়িয়ে
বেহায়ার মতো হাসছে সে

চুপ করে থাকি
শুধু তাকিয়ে দেখি তাকে
মনে হয়, ছোঁয়া যাবে না তাকে
ছুলেই উবে যাবে কর্পুরের মতো।


দেশের বই পোর্টালে লেখা পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box