ইচ্ছে হইলে লিখি, না হলে লিখি না : উপল বড়ুয়া

মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২১ | ৯:৩৮ অপরাহ্ণ | 294 বার

ইচ্ছে হইলে লিখি, না হলে লিখি না : উপল বড়ুয়া

দেশের বইয়ের একটি নিয়মিত আয়োজন পাঁচটি প্রশ্ন। লেখক-প্রকাশকের কাছে বই প্রকাশনাসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নগুলো করা। আজকের পাঁচটি প্রশ্ন আয়োজনে আমরা মুখোমুখি হয়েছি তরুণ কবি উপল বড়ুয়া-এর

 

প্রশ্ন ১। প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা তেমন চমকপ্রদ নয় আমার। পনেরোর বইমেলায় টাকা-পয়সা দিয়ে হুট করে বই করছিলাম। প্রথম কাব্যগ্রন্থ- কানা রাজার সুড়ঙ্গ। বইয়ে প্রচুর বানান ভুল ও বাঁধাই ছিল যাচ্ছেতাই। সম্ভবত ১৭-১৮ কপি বিক্রি হইছিল বা আরও কম হতে পারে।

প্রশ্ন ২। লেখালেখির ইচ্ছেটা কেন হলো?

আমার বাবাকে দেখতাম লেখালেখি করতে। এটা অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। বেশি কিছু নয়। বাড়িতে মোটামুটি বইপত্র ছিল। পড়তাম। মিউজিক শোনা হইতো। এসব করতে যাইয়া লেখালেখি। আমি আসলে ফুটবলারই হইতে চাইতাম শৈশবে। রবিন হুড হওয়ারও স্বপ্ন ছিল। পরে কেমনে কেমনে জানি লেখালেখিতে জড়ায়া গেছি।

উপল বড়ুয়ার প্রথম বই

প্রশ্ন ৩। লেখক জীবনের মজার কোনো অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

মজার অভিজ্ঞতা আসলে তেমন নাই। তবে লেখালেখি করে অনেকের ভালোবাসা পাইছি এটাই বড় বিষয়। বেশ কয়েক বছর আগে কবি কোলরীজ-জিম মরিসন-সিড ব্যারেটের জীবন দ্বারা খুব প্রভাবিত হয়ে অনেক ধরনের নেশাদ্রব্য নিতাম রেগুলার। এসব করতে যাইয়া একবার পূর্ণিমায় একা শশ্মানে রাত কাটাইছিলাম। আমার ঐ সময় ভূতের চেয়ে মানুষকে ভয় লাগতেছিল ভীষণ। এটারে হয়তো এখন মজার ঘটনা বলা যায়।

প্রশ্ন ৪। বাংলাদেশে সৃজনশীল লেখালেখির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।

ভবিষ্যৎ তো আসলে কেউ বলতে পারে না। অনুমান করা যায় কিঞ্চিৎ। আমি আসলে বাংলাদেশে সৃজনশীল লেখালেখির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী-হতাশাবাদী কিছুই নই। এটা অনেকটা নদীর মতো চলতে থাকবে। কোথাও চর জাগবে। কোথাও ভাঙবে। তবে প্রবাহমানতা থামবে না।

প্রশ্ন ৫। লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন?

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আসলে আমি কখনও ভাবি নাই। মৃত্যুর পর মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকার বিষয়েও নয়। বাংলা বা বিশ্ব সাহিত্য কতদূর আগায়া যাইতেছে তা নিয়েও মাথাব্যথা নেই। এমনি, ইচ্ছে হইলে লিখি। না হলে লিখি না। খুব একটা সিরিয়াস নই, কোনো কিছুতে। ফেমাস হওয়া বা পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়েও আগ্রহ নাই। যদি অ্যাক্সিডেন্টলি পুরস্কার পাইও তবে তার সব অর্থ বনাঞ্চল ও প্রাণী রক্ষায় দিয়ে দেবো।

Facebook Comments