ফেসবুক থেকে

আমার ভাষা ভাবনা

সোমবার, ১৭ মে ২০২১ | ১১:৫০ অপরাহ্ণ | 314 বার

আমার ভাষা ভাবনা

।। চাণক্য বাড়ৈ ।।


 

বাংলা
এই নব্বইয়ের দশকেও বাংলায় একটি গান গাওয়ার জন্য বোম্বাইয়ের হেবিওয়েট শিল্পীরা মুখিয়ে থাকতেন। উদিত নারায়ণ, অনুরাধা পাড়োয়াল, সনু নিগম, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, অলকা ইয়ানগিনক আরও কত নাম। ঢাকা-কলকাতার ছবিতে অথবা সলো, ডুয়েট, মিক্স অ্যালবামে কি পুজো কি ঈদে তাঁরা সরব হয়ে উঠতেন। বাংলা নিয়ে সেই আগ্রহ আছে তাঁদের?
তারও আগে হিন্দি গানের সফল শিল্পীরা হিন্দির পর বাংলায় গান গাইতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি বোধ করেছেন। লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার প্রমুখরা মাতৃভাষার মতোই গেয়েছেন বাংলা গান।
কেন? বাংলা তখন একটি আভিজাত ভাষা! (সম্মান, সাম্মানী, শ্রোতাপ্রিয়তা, শ্রুতিমধুরতা, ভাষার গভীরতা সবমিলিয়ে।)
বাংলার পুরোধা সাহিত্যিকদের জীবৎকাল (গুরুত্বপূর্ণ সময়) কেটেছে ব্রিটিশ আমলে। ইংরেজি দিয়ে শুরু হলেও বাংলাতেই তাঁরা সাহিত্য সাধনা করে গেছেন আজীবন। মাইকেল, বঙ্কিম, বেগম রোকেয়া, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, পঞ্চপাণ্ডব প্রত্যেকেই বলতে গেলে অন্ধের দেশে আয়না বিক্রির মতো নিরক্ষর বাঙালিরা কোনো এক কালে শিক্ষিত হবে, তাঁদের লেখা পড়বে, এই আশায় (?) লিখে রেখে গেছেন। এটা আমাদের সৌভাগ্য। আমরা এখনও এসব নিয়েই গর্ব করে যাচ্ছি।
অথচ, অমিতাভ ঘোষ, ঝুম্পা লাহিড়ীসহ আরও অনেকে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন, বাংলায় লেখেন না বলেই। হ্যাঁ, এটাই বাস্তবতা।
নতুন শতকের শুরুতে অসংখ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে আমাদের দেশে। বাংলা বিভাগ আছে একটাতেও? কাল যদি জানা যায়, এ দেশের স্কুল আর কলেজগুলোতে বাংলার শিক্ষক পরিপূর্ণ (অর্থাৎ চাকরি নেই), তাহলে কজন বাংলা বিষয়ে পড়তে আগ্রহী হবে?
এখনও মুসলমানদের (মোটাদাগে) কাছে বাংলা হিন্দুদের ভাষা, ব্রাহ্মণদের কাছে নিচু জাতের ভাষা, কর্পোরেটদের কাছে খ্যাতদের ভাষা।
অথচ, বাংলা ভাষার নির্মাণে বিদেশিরা (পর্তুগিজ, ইংরেজ, অন্যান্য) অনেক খেটেছেন। আমাদের পূর্বসূরিরা এ ভাষাকে দান করে গিয়েছেন ঐশ্বর্য্য। আমাদের প্রজন্ম এই ভাষাকে নিয়ে যাচ্ছে পতনের দিকে! তবু, প্রতি ফেব্রুয়ারিতে গেয়ে উঠি, ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফ্রেব্রুয়ারি…’
মূলত, এক-একটি ভাষা এক -একটি মাছ। Golbal Village-এর মতো ভাষার ক্ষেত্রে এ বিষটিকে আমি বলতে চাই #Global_Language_Pond, মানে #বিশ্ব_ভাষাপুকুর। এই পুকুরের বড় মাছটি ছোট মাছটিকে খেয়ে ফেলছে।
বাংলা ভাষার বড় মাছটি খাদ্য-পুষ্টির অভাবে ছোট পুঁটিমাছে রূপান্তরিত হয়েছে ইতিমধ্যেই। ভাষা-বোয়াল তো তাকে খাবেই। রুখবে কে?

Facebook Comments Box