জীবনে রবীন্দ্রনাথের স্থান নিয়ে লিখলে পাঁচশো পৃষ্ঠার উপন্যাস হবে

সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১ | ১:৪০ অপরাহ্ণ | 492 বার

জীবনে রবীন্দ্রনাথের স্থান নিয়ে লিখলে পাঁচশো পৃষ্ঠার উপন্যাস হবে

দেশের অন্যতম সেরা সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভাষাচিত্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, নতুনত্ব আর আদর্শিক ভাবনা থেকে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রাপথ চলমান। সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যম ফেসবুকে ‘ভাষাচিত্র বুক ক্লাব’-নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে সারাদেশের বইপ্রেমী পাঠকদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র স্থাপনের অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই গ্রুপে পাঠকদের নিয়ে একটি ভিন্নধর্মী আয়োজন পাঠক প্রোফাইল। পাঠকগণ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের সম্পর্কে গ্রুপে পোস্ট দেন। নির্বাচিত পোস্টগুলো আমরা দেশের বই পোর্টাল-এ প্রকাশ করি। আজ প্রকাশিত প্রকাশিত হলো বনিতা শ্যাম প্রিয়া’র প্রোফাইল


 

আমি ডা. বনিতা শ্যাম প্রিয়া, বর্তমানে মিরপুর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে কর্মরত আছি। বই পড়ার শুরুটা সেই ছোটবেলা থেকে। ঠাকুমার ঝুলি, ঈশপের গল্প, পারস্য রূপকথা, আরব্য রজনী দিয়ে শুরু। এরপর সুকুমার রায় এর হ য ব র ল, ছেলেদের মহাভারত, জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস, শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প… এভাবেই বেড়ে ওঠা!
আমার পড়া প্রথম উপন্যাস শরতের ‘শ্রীকান্ত’। বাংলা বইয়ে এর ছোট একটা অংশ পাঠ্য ছিল (নতুনদা কে নিয়ে), ক্লাস ফোর-এ মনে হয়। এখান থেকেই উপন্যাসটা পরার আগ্রহ হয়! পড়ে বুঝলাম না, স্বাভাবিক! পরে ক্লাস সেভেনে উঠে আবার পড়ি! শ্রীকান্ত-রাজলক্ষ্মীর লং ডিস্ট্যান্স রিলেশন! ভালোবাসাগুলো কত গভীর আর কত তীব্র হতে পারে! হায়রে প্রেম!

 

‘শেষের কবিতা’ আমার পড়া রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস। তখন আমি মাত্র ক্লাস সিক্স-এ পড়ি! অমিত-লাবণ্য’র সম্পর্ক বোঝার বয়স হয়নি আমার। এই ভেবে কষ্ট পেয়েছিলাম কেন বিয়েটা হলো না!  এখন বুঝি, ভালোবাসার কত রঙ! ভালোবাসার পরিণতি মানে ঘর বাঁধা নয়, দুটো হৃদয় বাঁধায়!
রবীন্দ্রনাথের সাথে পরিচয় এই প্রথম না, আরও ছোটবেলায়! সেই পাঁচ বছর বয়সে, গানের ক্লাসে! রবির আলোয় আলোকিত হতে থাকলাম দিন দিন… আমার জীবনে রবীন্দ্রনাথের স্থান যে কোথায় তা লিখতে বসলে ৫০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস হয়ে যাবে!

 

এছাড়া বঙ্কিম, সুনীল, সমরেশ, হুমায়ুন আহমেদ, আনিসুল হক থেকে শুরু করে ড্যান ব্রাউন, পাওলো কোয়েলহো, চেতন ভগত সবই পড়েছি। ক্লাস সিক্স-সেভেনে ফেলুদা, ব্যোমকেশ, তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা প্রিয় সিরিজ ছিল। কলেজে চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ পড়ার পর, বিদ্যাপতির কবিতার ভূত চাপলো! ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে বেশিদূর যাওয়া হয়নি!
সর্বশেষ পড়েছি ‘ন হন্যতে”! এ যেন আর এক শেষের কবিতা! সত্যিকারের ভালোবাসাগুলো মনে হয় এমনই, তাই না? অনেক পোড়ায়! এখন অপেক্ষা করছি সুনীলের ‘প্রথম প্রণয়’-এর জন্য, কবে যে পার্সেল আসবে!

 

বই পড়তে ভালোবাসি, শখের বশে গান করি, আবৃত্তি করি, ছবি আঁকি… শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী মানুষ আমি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল-কলেজের অনেক বড় অবদান রয়েছে এর পেছনে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মেম্বার ছিলাম, অসম্ভব সমৃদ্ধ একটা লাইব্রেরি ছিল আমাদের স্কুল-কলেজে আর কিছু অসাধারণ বাংলা শিক্ষিকা পেয়েছিলাম, ধন্যবাদ তাদের!
ধন্যবাদ মামনিকে, ছোটবেলা থেকে প্রতি বছর ঘটা করে একুশে বইমেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য।


[ বই-পুস্তক-প্রকাশনা এবং বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের যে কোনো সংবাদ প্রকাশের জন্য আমাদের ই-মেইল করতে পারেন : desherboi@gmail.com ]

Facebook Comments Box