আমার নির্মল শৈশব এবং বাংলাদেশের অগ্নিঝরা জন্মের ইতিকথা

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০ | ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ | 88 বার

আমার নির্মল শৈশব এবং বাংলাদেশের অগ্নিঝরা জন্মের ইতিকথা

॥ আবু হাসান শাহরিয়ার ॥
আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। কিন্তু, পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতে অন্য কোনও বই এত দীর্ঘ সময় নেয়নি, যতটা ‘শৈশবের সিঁড়িগুলো : ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১’।

 

লেখার শুরু দেড় যুগ আগে। শেষ ২০১৯-এ। ‘এবছর নয়, আগামী বছর করব’ করে করে এই কালক্ষেপণ। প্রকাশক ভাষাচিত্রের কান্ডারি খন্দকার সোহেল সর্বমনে এগিয়ে না-এলে হয়তো এখনও অসমাপ্ত-অপ্রকাশিতই থেকে যেত। প্রকাশকাল— ২০২০— মুজিববর্ষ। তবে, আগের বছরই আগাম-প্রকাশ। ২৫ জুন, ২০১৯-এ আমার ৬০ পূর্তির দিন। সেদিন থেকে আগাম-বিপণনও শুরু। আমার জানামতে, মুজিববর্ষস্মারক প্রথম বই এটি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ একাধিক জনপদে অনুষ্ঠিত বইমেলায় অংশ নিয়ে ‘ভাষাচিত্র’ কাছে-দূরের অগ্রসর পাঠকের হাতে পৌঁছে দিয়েছে বইটি। পৌঁছে দিয়েছে আমার নির্মল শৈশব এবং বাংলাদেশের অগ্নিঝরা জন্মের ইতিকথা।

আমার শৈশব-কৈশোর আর ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ কালখণ্ড সমসাময়িক। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম আমার অতিপ্রিয় ‘গোলাপ নানা’। ময়মনসিংহে গোলাপ নানার বাড়ি আর আমাদের বাড়ি ছিল আনন্দমোহন কলেজলগ্ন মাঠের এপার-ওপার। বাবা তখন ওই কলেজের অধ্যক্ষ এবং মাঠপাড়ে গোলাপ নানার বাড়ি আমার রাজনৈতিক বোধোদয়ের বীজতলা। গোলাপ নানার চেয়ে বেশি সান্নিধ্য পেয়েছি আশরাফ মামার। ইয়াহিয়া খান সত্তরের নির্বাচনের ঘোষণা দিলে নানা ঢাকায় থাকতেন বেশি। সেখান থেকেই সারা ‘পূর্ব পাকিস্তান’ সফর করে বেড়াতেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। ১৯৬৯-এ পদ্মাপারের রাজশাহীতে ‘জেলের তালা ভাঙব/শেখ মুজিবকে আনব’ স্লোগানে মিছিলের স্ফুলিঙ্গ হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার পূর্বঅনাস্বাদিত রাজপথের হাতেখড়ি। বাবার চাকরিগত বদলির সুবাদে সত্তরের নির্বাচনকালে আমি ব্রহ্মপুত্রলগ্ন ময়মনসিংহে। মুক্তিযুদ্ধের শুরু ও শেষ প্রত্যক্ষ করেছি সেখানেই। ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ শত্রুমুক্ত হয়;— ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা। এই একসপ্তাহ ফারুক কমান্ডারের অধীনে প্রশিক্ষণার্থী কিশোর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলাম। একটি সশস্ত্র অপারেশনে অংশ নেওয়ার সুযোগও ঘটেছে। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্রপারের শৈশব, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মায়ের পৈতৃক গ্রাম কলতাপাড়ায় অবস্থান, সেখান থেকে বাবার সঙ্গে চৌদ্দ মাইল পথ হেঁটে সীমান্তবর্তী গ্রাম গাবরগাঁতীতে দূরসম্পর্কের এক খালার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া, হানাদার বাহিনীর গুলিতে বাবার মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া— এমন অগণন ঘটনা নিয়ে এই বই। বালক লাবলুর (‘লাবলু’ আমার ডাকনাম) নির্মল চোখে দেখা ঘটনাবলির লিপিকার হয়েছে ষাট ছুঁই ছুঁই আবু হাসান শাহরিয়ার। পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তকরণকালে প্রায় একবছর খন্দকার সোহেল আমাকে সবরকম সহযোগিতা করেছেন। ডাকলেই কাছে পেয়েছি ওকে। বইটি উৎসর্গ করেছি মহামানব শেখ মুজিব ও গোলাপ নানাকে। উৎসর্গলিপিতে লিখেছি— ‘জন্মশতবার্ষিকীতে চিরবঞ্চিতদের স্বপ্নের মহামানব শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বপ্নমানবের সতীর্থ আমার গোলাপ নানা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে’।

 


দেশের বই পোর্টালে লেখা পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments