আমার চোখকে বয়ে বেড়াতে হবে অসংখ্য মৃত্যু

বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১ | ৩:৩৩ অপরাহ্ণ | 62 বার

আমার চোখকে বয়ে বেড়াতে হবে অসংখ্য মৃত্যু

‘প্রতিদিনের কবিতা’ দেশের বই-এর নতুন আয়োজন। এই আয়োজনে প্রতিদিন তরুণ কবিদের একগুচ্ছ কবিতা প্রকাশ করা হয়। আজ প্রকাশিত হলো দীপঙ্কর বিপু’র কবিতা


 

চোখে মাছিদের উৎসব

দৌঁড়ে চলে গেলে
অথচ আমার চোখ
তোমার ঝাপটায় পাখনা ভেজা শালিক
কিংবা তরকারি সিদ্ধ তেলাপোকা।

এটাই সত্যি যে, আমি মালুম হারিয়ে প্রতারিত প্রবাসীর মতো
জিহ্বায় কামড় দিয়ে বসে রইলাম,
তবু চলে গেলে
তোমার নরম মেঘের মতো বুক দুলিয়ে।

লক্ষ্য করলাম,
তোমার থুতনীতে তালের শাঁসের মতো স্বচ্ছ দাম্ভিকতা
যৌবনের দাড়ি-কমা এইসব লামছাম আরকি।
এটাই সত্যি যে, তোমাকে দেখতে-দেখতে ভুলে গিয়েছি
শীতল জলে ধান ভিজিয়ে রাখলে জীবন
আবারও খরগোশ হয়।

তবুও আমি চেয়েছিলাম
ডাস্টবিনে মরে পড়ে থাকা বিড়ালের মতো হলেও
তুমি আমাকে একটি বারের জন্য দেখ,
আমার চোখে মাছিদের উৎসব দেখে, আতৎকে উঠে বল-
ভালোবাসা সবার জন্য না।

বেঁচে আছি ঠুকরে খাওয়া কলিজা নিয়ে

নীম ফুলের গন্ধ সাথে নিয়ে এসেছে যে
অন্ধকারের ভিতর অস্ফূট আর্তনাদ কিংবা নিষ্প্রভ বিড়ালের চোখ
তা দেখে আমি আতৎকে উঠি। পড়ে দেখতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই রাতের ঘ্রাণ।

আমার স্যান্ডেল অর্ধেকটা ডুবে যায়
পৃথিবীর কান্নায় নরম হয়ে যাওয়া উঠানে।
হাঁটতে পারি না।
শরীর কেঁপে-কেঁপে ওঠে; যেন ধ্বংসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি।

তবু প্রকৃতির খেয়ালে ডোবার ব্যাঙ
গলা ফুলিয়ে ডাকে। অপরিচিত লাগে এই পরিচিত চারপাশ,
আতঙ্কিত বাদুরের ডানা ঝাপটানোর শব্দ।

অথচ ভাবি মৃত্যু জোনাক পোকা।
উঠান বিছানো শিউলি।
কখনো মনে হয় আকাশ যেন
অপঘাতে সিঁদুর মোছা নারী মুখ,
রিলিফের চালের জন্য মৃত্যু সমান্তরাল অপেক্ষা।

আমার কল্পলোকে চৌরাসিয়ার বাঁশি যখন
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের সাথে মিশে যেতে থাকলো,
আমি অনুভব করতে শুরু করি-
নীমের ঘ্রাণময় অন্ধকার আসলে জীবন বোধের সারাংশ,
গোয়ালা বধূর বানানো ঘী।

এই আর্তনাদ আর নীম ফুলের গন্ধমাখা রাত
আমার ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়কে জানান দেয়-
বৃত্তে বাঁধা পুরাণের শরীর- পোড়া পাখির কথা।
সেই পাখির অভিশাপে কি না, জানি না।
আমাকে বেঁচে থাকতে হয় বা হবে।
আর আমার চোখকে বয়ে বেড়াতে হবে অসংখ্য মৃত্যু;
আত্মাহুতি দেওয়া কবির মুখ।


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments