দেশের বই ঈদ সাময়িকী

আতাউল হক মাসুম-এর ছোটগল্প ‘পার্শ্বনায়িকা’

বৃহস্পতিবার, ২০ মে ২০২১ | ১১:৪১ অপরাহ্ণ | 45 বার

আতাউল হক মাসুম-এর ছোটগল্প ‘পার্শ্বনায়িকা’

পার্শ্বনায়িকা
।। আতাউল হক মাসুম ।।


 

রাঙামাটি যে আমি এবারই প্রথম এসেছি এমন নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার এসেছি। এসব জায়গায় এলে আমার মন-মনন প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে একাত্মতা ঘোষণা করে। এবার এসে দেখি ঝুলন্ত সেতুটাকে অন্যরকম বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। হ্রদের নীলাভ জলরাশি আর দূরের উঁচু-নিচু পাহাড়ের সারি সে সৌন্দর্যে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
এবার এসেছি লিলির জন্য। চট্টগ্রামে বড় হয়েছে অথচ ও নাকি এখনও রাঙামাটি আসেনি। ওর বায়না মেটাতেই এই আগমন। লিলি আমার সমবয়সী ফুফাতো বোন। ওরা দুই ভাই দুই বোন। ভাই দুইটাই বড়। দুজনই ঢাকাতে চাকরি করে। বাড়িতে লিলি, মিলি আর ফুফা-ফুফু। আগ্রাবাদে বাসা ওদের। মিলি এবার মেট্রিক দিবে। আমার ফুফা রসায়নের অধ্যাপক। অসম্ভব ভালো মানুষ তিনি।
ছেলেবেলাতেই নাকি আমাদের নিয়ে ফুফু আর মায়ের একটা প্ল্যান ছিল। আমাদের বলতে আমাকে আর লিলিকে নিয়ে। ফুফু মাকে বলতো, ভাবি এ দুটি বড় হলে আমরা এদের জুটি বেঁধে দেব। দারুণ মানাবে, কী বলেন! মায়ের গলা কানে না এলেও আমি হাসির শব্দ শুনে বিষয়টা অনুমান করতে পারতাম। আড়ালে-আবডালে কথাগুলো শুনে আমি লজ্জায় কুঁকড়ে যেতাম। পুলকিত যে হতাম না তা নয়। এখন সে কথাগুলো আদৌ ফুফুর মনে আছে কি না জানি না। তবে লিলির মনে আছে বলেই আমার বিশ্বাস। যদিও সে সজ্ঞানে কখনো আমাকে ‘ভালোবাসি’ টাইপের রোমাঞ্চকর কথাবার্তা বলেছে কি না মনে পড়ে না। এমনকি হৃদয়ঘটিত কোনো ব্যাপার-স্যাপারও আমাদের মধ্যে নেই। সালেম-আসেম ভাই ঢাকা চলে যাওয়ার পর ওদের দু’বোনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আমাকেই পূরণ করতে হয়। শহরের কেনাকাটা থেকে শুরু করে স্কুল-ভার্সিটির ফাংশন পর্যন্ত ওদের সাথে আমাকে ছায়ার মতো লেগে থাকতে হয়। ফুফুর এই ফরমায়েশ খাটতে আমার কোনো ক্লান্তি-বিরক্তি নেই।
ক্যাম্পাসে লিলি আর আমি বেশিরভাগ সময় একসাথেই কাটাতাম। বলাবাহুল্য এটাও ছিল ফুফুরই নির্দেশ। বন্ধুদের আড্ডায় আমি কবিতা লিখে নিয়ে যেতাম আর লিলি নানান ভঙিমায় তা আবৃত্তি করে শোনাতো। ভার্সিটির বার্ষিকী কিংবা ডিপার্টমেন্টের ম্যাগাজিনে আমার কবিতা বরাবরই থাকতো। কিন্তু বড় কোনো কাগজে আমার লেখা কবিতা ছাপা হবে তা ছিল আমার চিন্তার বাইরে। লিলির কাছেই আমি তা প্রথম জানলাম। একদিন ও দৈনিক পূর্বকোণ নিয়ে এসে আমাকে চমকে দিল। কিন্তু কই! আমি তো কখনো লেখা পাঠাইনি। লিলিকে জিজ্ঞেস করলে সে ভালোমতো জবাব না দিয়েই সারা বাড়িময় ছোটখাট একটা হুলস্থুল কান্ড বাঁধিয়ে দিলো। এর একটু পরেই সে তৈরি হয়ে এসে আমার হাত ধরে বলে, চলো, ক্যাম্পাসে আজ তোমার প্রকাশিত কবিতা নিয়ে জম্পেশ আড্ডা দেব। লিলির এই একটা ব্যাপারই আমাকে অবাক করে। ও নিমিষেই বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। এমন না যে সে বিশেষ প্রসাধনী সচেতন নয়। আমি হলফ করে বলতে পারি, লিলিই আমার কবিতাটা পত্রিকার অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছিল। কেননা আমাদের বাড়িতে এলে ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আমার গোপনীয় কাগজপত্র, ডায়েরি ঘাটাঘাটি করে নির্দ্বিধায়।
আড্ডায় আমি সপ্রতিভ হতে পারি না। আনন্দের ঘোর তখনও কাটেনি। বারবার কাগজের দিকে তাকাই। দেশের খ্যাতনামা কবি-সাহিত্যিকদের ভিড়ে আমার নামটা মুখস্ত করে ফেলি। যখন বন্ধুদের সামনে ঘোষণা করলাম, লিলিকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার হয়ে এমন একটা কাজ করে দেওয়ার জন্য। নইলে এই সাহস অর্জন করতেই হয়তো আমার কয়েক বছর লেগে যেত। তখন হঠাৎ আজমেরি নামের আমার এক ক্লাসমেট কী একটা অজুহাত দিয়ে আসর ত্যাগ করে চলে গেল। ও একটু এমনই! সবসময় দলছুট থাকতে পছন্দ করে। আমরা যখন সেকেন্ড ইয়ারে, তখন আমাকে প্রেম নিবেদন করেছিল আজমেরি। কিন্তু আমি তো লিলির প্রেমে বুদ। বাল্যকালের অবুঝ প্রেম। শুনে হয়তো কষ্ট পেয়েছিল আজমেরি। কিন্তু আমার কীই বা করার ছিল! আমি ভেবেছিলাম সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে, সব ভুলে গেছে আজমেরি। কিন্তু না, দিনকয়েক আগে ও আবার আমাকে একটা চিরকুট দিয়েছে। দেখার প্রয়োজন বোধ করিনি, ফেলে রেখেছি কোথায়।
সেদিন বিকেলে লিলিদের বাড়িতে গেলে লিলি আমাকে সেধে দু’কাপ চা খাওয়ালো। ও জানে এই জিনিসটাতে আমার কোনো অরুচি নেই। আর আমিও জানি চা দেওয়ার পরই লিলি নতুন কোনো বায়না উপস্থাপন করবে। যথারীতি লিলি বলতে থাকে, ‘অনি ভাইয়া, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।’ ও এমনভাবে কথাগুলো বলে যেন পরের বাক্যটাতেই বলবে আমি তোমাকে প্রচন্ড ভালোবাসি…। আমি ওর লজ্জা লজ্জা অনুভূতি উপভোগ করতে থাকি। তা কী এমন গোপন কথা ম্যাডাম? মুখে বলি, ‘খুব গোপনীয় কিছু বুঝি!’
‘না, মানে… একটু গোপন তো বটেই। কিন্তু কীভাবে যে কথাটা বলি! সাহসই পাচ্ছি না।’ আমতা আমতা করতে থাকে লিলি।
আমি ভাবি যেহেতু ব্যাপারটা আমি আন্দাজ করতে পারছি, তাই ওটা গোপনই থাকুক না! শুনে ফেললে তো আর মজাই থাকলো না। ওকে নিবৃত্ত করার জন্য বলি, ‘বেশি গোপন হলে থাকুক না, গোপন কথা এত দ্রুত প্রকাশ না হওয়াই উত্তম। আগে সাহস সঞ্চয় করে নে, তারপর না হয় বলিস। আমি তো আর হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছি না।’ বলে আমি দুষ্টুমির হাসি হেসে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওর দিকে তাকাই।
লিলি কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে হঠাৎ বলে, ‘দাড়াও তোমার জন্য আরেক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আসি।’
ভালোবাসার মাত্রা কোন লেবেলে আছে ঠাহর করতে হিমশিম খাই আমি। হেসে বলি, ‘হ্যাঁ, এটা করতে পারিস। তবে চিনি কম।’ পরিবেশটা হালকা করার জন্যই শেষের বাক্যটা বলা। যখন কেউ থাকে না তখন আমি সাধারণত চিনি ডুবিয়ে চা খেতেই পছন্দ করি।
রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রীজের পাদদেশে ছেলেটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় লিলি। ওর নাম নাদিম। একটা বিদেশি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার। বেশ মোটা অঙ্কের বেতন পায়। কোম্পানি থেকে বাড়ি-গাড়িও নাকি দিয়েছে। লিলিকে ওর সাথে যেচে কথা বলতে দেখে বুঝে যাই এর আগেও ওদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। এখানে আসার প্ল্যানও নিশ্চয় আগেই করেছিল। লিলিকে আস্তে করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ওর কথা আমাকে আগে জানাসনি কেন?’
‘আমি তো বলতেই চেয়েছিলাম অনি ভাইয়া। কিন্তু তুমিই তো শুনতে চাওনি। তাছাড়া আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়তো কোনোভাবে আমাদের ব্যাপারটা জেনে গেছো। কবিদের ইনটুইশন ক্ষমতা নাকি প্রবল হয়ে থাকে।’ বলে রহস্যজনকভাবে কপালের চুলগুলো সরায় লিলি।
সন্দেহ নেই লিলিটা অনেক চালাক হয়েছে। গুছিয়ে বলতেও শিখেছে। ঘুণাক্ষরেও আমি ধরতে পারিনি এমন একটা ঘটনা সে ঘটিয়ে বসে আছে। আমি আর কিছুই ভাবতে পারি না। আমার পরিচিত পৃথিবীটা এলোমেলো হয়ে গেছে মুহুর্তেই। হ্রদের নীল পানির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অনুভব করি, আমি নায়ক নই। লিলি আচমকা আমার হাতটা ধরে বলল, ‘আম্মুকে একটু ম্যানেজ করে দাও না প্লিজ!’ আমার চোখের সামনে ফুফু আর মায়ের চেহারা ভেসে ওঠে। তারা হয়তো আমাদের নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে এসেই গিয়েছিলেন।
আমি প্রশ্রয় এবং সমর্থনের ভাব ফুটিয়ে বলি, ‘কোনো চিন্তা করিস না, আমি সবাইকে ম্যানেজ করে দেব।’ একটু থেমে হাসা হাসা মুখে বলি, ‘লিলি, সাহস নিয়ে কথাটা আমাকে আগে বললেই পারতি! এত লুকোচুরির কী কোনো প্রয়োজন ছিল।’ লিলি লজ্জা পায়। আমি পাই ততোধিক। কিন্তু ওকে বুঝতে দেই না। আমি অনাহত আগন্তুক না সেজে কেটে পড়ার তাগাদা অনুভব করি। লিলির লজ্জার রেশ কাটতে না কাটতেই বললাম, ‘তোরা তাহলে কথা বল। আমি একটু ওদিক থেকে ঘুরে আসি।’
‘ওদিকে আবার কোথায় যাবে?’ কপট গার্জিয়ানি ফলাতে চাইলো লিলি। জানি সে অখুশি হয়নি।
‘চায়ের তেষ্টা পেয়েছে। দেখি কোথাও মেলে কি-না।’ বলে নাদিমের সাথে হাত মিলিয়ে হাঁটতে থাকি তবলছড়ির দিকে। মনের অজান্তেই গুণগুণ করতে থাকি, ‘চান্দের বাত্তির কসম দিয়া ভালবাসিলি, সূর্যের আলোয় ঝলমলাইয়া আমায় পোড়াইলি…!’ গানটা ক্যাসেটে তুলতে হবে।
বাড়ি ফিরে আকাশ-পাতাল অনেক কিছু ভাবতে থাকি। লিলি তাহলে এই বলতে চেয়েছিল। অযথাই কেন যেন বারবার আজমেরির কথা মনে পড়ে যায়। হঠাৎ ওর সেই চিরকুটটার কথা মনে পড়ল। তন্নতন্ন করে খুঁজে বের করে পড়তে গিয়ে আমার চক্ষু চড়কগাছ। ‘লিলির কাছ থেকে তোমার একটা কবিতা নিয়ে আমার মামাকে পাঠিয়েছি। আমার মামা দৈনিক পূর্বকোণের সাহিত্য সম্পাদক। সাহিত্য পাতায় চোখ রেখো।’ আমার মাথায় তখন অনেক চিন্তা কিলবিলিয়ে ওঠে। ওটা তাহলে ছিল আজমেরির কাজ। সেদিন ও তাহলে এজন্যই আসর ত্যাগ করেছিল। নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে হয়। ইশ্ আমি আজমেরিকে কেন যে ভুল বুঝেছিলাম! প্রকৃত ভালোবাসা এড়িয়ে এক মিথ্যা আশায় বুদ হয়েছিলাম। নিজের মাথার চুল টেনে ছিড়তে ইচ্ছা করে আমার।
তখন থেকেই আমি আজমেরির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু যা শুনি তাতে আমার আক্কেল গুড়ুম অবস্থা। আজমেরি চট্টগ্রাম থেকে অনার্স করেই ঢাকা চলে গেছে। আমাদের সাথে আর এমএসসি তে ভর্তি হয়নি। এর বেশি কেউ বলতে পারলো না।
দুই বছর পরের কথা। আমি পাকাপাকিভাবে ঢাকা চলে এসেছি। এর মাঝে ঘটা করে লিলির বিয়েটা হয়ে গেছে। শুনেছি বছরের শুরুতে নাদিম সাহেব মিলিকে নিয়ে দুবাই উড়াল দিয়েছেন। এবার বাংলা একাডেমি বইমেলায় আমার দুইটি কাব্যগ্রন্থ বেরিয়েছে। ফেব্রুয়ারির এক বিকেলে প্রকাশনির স্টলে বসে আছি। হাতে আল মাহমুদের ‘দ্বিতীয় ভাঙন’। হঠাৎ অপরিচিত এক নারী কণ্ঠ আমার খোঁজ করায় সচকিত হলাম।
‘এক্সকিউজ মি. ভাইয়া, কবি অনিকেত রহমান কি এখানে বসেন?’
‘জি, ওই তো উনি।’ স্টলের ছেলেটি আমার দিকে ইঙ্গিত করে বলে। বইয়ে চোখ রেখেই অনুধাবন করি মেয়েটি আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি আচানক বই থেকে মুখ তুলেই চমকে উঠি। আরে এ যে আজমেরি। কতই না খুঁজেছি ওকে।
‘কেমন আছো কবি?’ বলে স্মিত হেসে আমার দিকে তাকালো আজমেরি।
‘ভালো।’ মৃদু ভঙ্গিমায় জবাব দেই।
‘একটা অটোগ্রাফ দাও।’ আজমেরি হাতের বইটি বাড়িয়ে দেয় আমার দিকে। আমার এই বইমেলায় প্রকাশিত বই ‘বিদায়ের সুর বেদনার’। আমি ওর দিকে একবার তাকিয়ে লিখে দেই, ‘শুভেচ্ছা শুভ কামনায় হৃদয় থেকে হৃদয়ে’। আজমেরি চলে যাবার প্রস্তুতি নেয়। আমি বলি, ‘দাঁড়াও আজমেরি।’
তারপর আমি আর ও হাঁটতে থাকি।
‘অনেকদিন পর দেখা তাই না?’
‘হ্যাঁ।’ ছোট্ট জবাব ওর।
‘তুমি ঢাকাতে কী করছো এখন?’
‘একটা ব্যাংকে ঢুকেছি।’
হাঁটতে হাঁটতে আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে পড়ি। সন্ধ্যার রক্তরাঙা আলোয় আজমেরিকে অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে। আমরা একটু নিরিবিলি জায়গা দেখে বসে পড়ি। অনেক কথাবার্তা হয় আমাদের। একসময় উঠে আবার আমরা বাংলা একাডেমির দিকে হাঁটা দেই।
‘গত বছর লিলির বিয়ে হয়ে গেছে আজমেরি, জানো।’
‘হুম, আমাকে বলেছিল। ব্যস্ততার কারণে যাওয়া হয়নি।’
‘বলো কি! তুমি জানতে? তোমাদের যোগাযোগ হয়!’ আকাশ থেকে পড়ি আমি।
‘হ্যাঁ, আমি আরও অনেক কিছুই জানি।’
‘তার মানে আমি যে তোমাকে হন্যে হয়ে খুঁজেছি সেটাও জানতে!’
‘হুম।’
‘তাহলে সাড়া দাওনি কেন?’
আজমেরি উত্তর দেওয়ার আগেই কোথা থেকে কয়েকজন সাংবাদিক এসে হাজির! কখন যে আমাদের হাত দুটি ঘনিষ্ঠ হয়েছিল খেয়াল করিনি। সম্বিৎ ফিরে পেয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে মাথা চুলকাতে লাগলাম। তার আগেই ক্যামেরার ক্লিক-ক্লিক শব্দ।
‘ওনার সাথে আপনার সম্পর্ক কী, অনিকেত সাহেব?’
আচমকা এমনতর প্রশ্নে ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে লাগলাম আমি। ইচ্ছে করছে প্রচন্ড এক ঘুষি মেরে ওর দাঁত-মুখ থেতলে দিয়ে সাংবাদিকতার সাধ বের করে দেই।
আজমেরি আমার অবস্থা বুঝে ফেলে। সে গলা খাকাড়ি দিয়ে দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করে, ‘আমি ওনার হবু স্ত্রী।’ আমি চমকে আজমেরির দিকে তাকাই। ওর চোখে পেয়ে যাই আমার দীর্ঘদিনের জমানো কিছু প্রশ্নের উত্তর।

Facebook Comments Box