অমর একুশে গ্রন্থমেলার আদ্যোপান্ত

শনিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ | 627 বার

অমর একুশে গ্রন্থমেলার আদ্যোপান্ত
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ করেন বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এই বইমেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। ২০১৪ সালের আগে প্রতি বছর পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে এই মেলা বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতো। ২০১৪ সাল থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাংলা একাডেমির পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ মেলার পরিসর এবার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে বইয়ের স্টল নিয়ে বসা প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা। এবারের গ্রন্থমেলার প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে ‘বিজয়: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’।

স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চিত্তরঞ্জন সাহা ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণের বটতলায়। কালক্রমে যা বর্তমানে আমাদের প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে আজকের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। বই মেলার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকাশকদের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। পরে ২০১৪ সাল থেকে বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়।

এবারের বই মেলায় সব মিলিয়ে ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭০টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৪টি প্রতিষ্ঠান ১৫০টি ইউনিট নিয়ে তাদের বইয়ের পসরা সাজিয়েছে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬২০টি ইউনিট নিয়ে বসেছে ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের দোকান। পাশাপাশি বহেরা তলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৮০টি লিটল ম্যাগাজিনকে ১৫৫টি স্টল দিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

এবারও মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে রয়েছে ‘শিশু চত্বর’। খুদে লেখকদের জন্য এবার শিশু চত্বরে ‘তারুণ্যের বই’ নামে একটি নতুন আয়োজন থাকছে। ‘শিশু চত্বর’ অংশে শিশুকিশোরদের জন্য বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সাজানো হয়েছে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও প্রতি শুক্র ও শনিবারে একটি সময়কে ঘোষণা করা হবে ‘শিশু প্রহর’ হিসেবে।

এ বছর বইমেলায় ‘লেখক বলছি’ নামের নতুন মঞ্চ হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃত্রিম ঝর্ণার পাশে এই মঞ্চে প্রতিদিন পাঁচজন লেখক যোগ দেবেন এবং তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে কথা বলবেন; পাঠকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেবেন। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা সবার জন্য খোলা। এছাড়া শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং একুশে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে ।

২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে হবে সেমিনার। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং সমকালীন বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হবে সেখানে। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবি কণ্ঠে কবিতা পাঠসহ শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

Facebook Comments