অবৈষয়িক বোকা মানুষ লিখেই যাবেন : তৌহিদ ইমাম

সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০২১ | ৫:৫৮ অপরাহ্ণ | 432 বার

অবৈষয়িক বোকা মানুষ লিখেই যাবেন : তৌহিদ ইমাম

দেশের বইয়ের একটি নিয়মিত আয়োজন পাঁচটি প্রশ্ন। লেখক-প্রকাশকের কাছে বই প্রকাশনাসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নগুলো করা। আজকের পাঁচটি প্রশ্ন আয়োজনে আমরা মুখোমুখি হয়েছি কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক তৌহিদ ইমাম –এর

 

প্রশ্ন ১. প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

আমার প্রথম বইটি ছিল কাব্যগ্রন্থ; বেরিয়েছিল ২০১২ সালে। তখন আমি মাত্রই স্নাতক শেষ করেছি। লেখালেখি করতাম তারও এক দশক আগে থেকে। প্রথম বইয়ের পাণ্ডুলিপি গোছাতে গিয়ে দেখি, নামেই এক দশক, নিজের কবিতাগুলোকে খুবই এ্যামেচার লাগলো। প্রথমে ভেবেছিলাম, ফেলে দেবো অথবা পুড়িয়ে ফেলবো সব কবিতা; পরে ভেবে দেখলাম- অপরিণতরও একটা স্মারক-স্বাক্ষর থাকা দরকার। নইলে পরিণতর পথে এগোবো কীভাবে? সাকূল্যে চল্লিশটি কবিতা শেষতক সিলেক্ট করলাম। পাণ্ডুলিপি গোছানো শেষ হলে পড়লাম আরেক বিপদে। থাকতাম জন্মশহর রাজশাহীতে। ঢাকার কোনো প্রকাশকের সঙ্গেই চেনা-পরিচয় ছিল না। বই প্রকাশনা সম্পর্কে ধারণাও নেই । বইয়ের সেটাপ-গেটাপ, ফর্মা, প্রচ্ছদ কিছুই জানতাম না। কিন্তু ভেতরে বই প্রকাশের তাড়না ছিল তীব্র, নিজেকে গ্রন্থকার হিসেবে দেখার ছেলেমানুষী আবেগ। পরে আমার এক শিক্ষক ঢাকার বাইরের এক প্রকাশকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিলেন। ‘সবুজস্বর্গ’ নামের প্রকাশনীটির স্বত্বাধিকারী ছিলেন কবি-কথাশিল্পী লতিফ জোয়ার্দার। তার ওখান থেকেই বেরিয়েছিলো আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একটা জীবন কৃষ্ণপক্ষ’। মজার ব্যাপার হলো, আমার পরবর্তী দুটো বইও ঢাকার কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে বেরোয়নি। একটি বেরিয়েছে সিলেটের প্রকাশনী ‘চৈতন্য’ থেকে, আরেকটি চট্টগ্রামের প্রকাশনী ‘খড়িমাটি’ থেকে।

প্রশ্ন ২. লেখালেখির ইচ্ছেটা কেন হলো?

প্রশ্নটা সহজ , উত্তরটা সহজ নয়। একজন জুয়াড়ি প্রতিরাতে জুয়ার দানে হেরে গিয়ে কেন পরের রাতেই আবার জুয়ার দান চালে, একজন নাবিক কেন প্রতিদিনই উত্তাল সমুদ্র দেখেও প্রতিমুহূর্তই সমুদ্র পাড়ি দিতে চায়, কেন একজন বিবাগী ভাবুক নিশ্চিত-নিরাপদ জীবন ছেড়ে জ্যোৎস্নারাতে বেরিয়ে পড়ে অনিশ্চিত-অনিরাপদ জীবনের পথে- এই প্রশ্নগুলোর সহজ কোনো উত্তর কি আছে? লেখালেখির ইচ্ছেটাও তেমনই জটিল, তেমনই রহস্যময়।

প্রশ্ন ৩. লেখক জীবনের মজার কোনো অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

লেখালেখি করতে গিয়ে নানাবিধ অভিজ্ঞতার সঞ্চয় জমেছে জীবনে। বেশিরভাগই তিক্ততার। তেমন কোনো মজার অভিজ্ঞতা আপাতত মনে পড়ছে না।

প্রশ্ন ৪. বাংলাদেশে সৃজনশীল লেখালেখির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।

তার আগে আমি জানতে চাই, সৃজনশীল লেখালেখি বলতে ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন? মননশীল লেখালেখিই বা কাকে বলে? সবই লেখা, সবইতো সৃষ্টি-সৃষ্টিশীলতা। ঠিক আছে, আপনাদের বিভাজনের সংজ্ঞাটি অক্ষুণ্ন রেখেই বলছি, সৃজনশীল বা মননশীল- সব ধরনের লেখালেখির ভবিষ্যতই উজ্জ্বল। মানুষের মানবিক অনুভূতি, জ্ঞানপিপাসা, সংবেদনশীলতা যতদিন থাকবে, একশ্রেণির অবৈষয়িক বোকা মানুষ লিখেই যাবেন। লেখালেখির মাধ্যম বিবর্ততি হতে পারে, কিন্তু মানুষের সৃষ্টিশীলতা অনন্ত উৎসারী।

প্রশ্ন ৫. লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন?

লেখালেখি নিয়ে আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বিপুল, আকাশছোঁয়া। এখন পর্যন্ত সাহিত্যের দুটো মাধ্যমেই কাজ করেছি আমি- কবিতা আর প্রবন্ধ। এখন খুব ইচ্ছে করে ফিকশন নিয়ে কাজ করতে। যাপিত জীবন নিয়ে লিখতে চাই। আর যদি অন্তত বছর তিরিশেক আয়ু পাই, গোটা পঞ্চাশেক উপন্যাস লিখে যাব। জীবন, শুধু জীবনই হবে সেসবের উদ্দিষ্ট। হবে জীবনতৃষ্ণাসায়র!


দেশের বই পোর্টালে লেখা পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box