পাঠক প্রোফাইল

অনেক ভালো বই পড়া বাকি আছে তাই নতুনদের বই পড়া হয় না

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫:৪১ অপরাহ্ণ | 197 বার

অনেক ভালো বই পড়া বাকি আছে তাই নতুনদের বই পড়া হয় না

দেশের অন্যতম সেরা সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভাষাচিত্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজস্ব চিন্তা-চেতনা, নতুনত্ব আর আদর্শিক ভাবনা থেকে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রাপথ চলমান। সামাজিক যোগাযোগ্যমাধ্যম ফেসবুকে ‘ভাষাচিত্র বুক ক্লাব’-নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে সারাদেশের বইপ্রেমী পাঠকদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র স্থাপনের অক্লান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই গ্রুপে পাঠকদের নিয়ে একটি ভিন্নধর্মী আয়োজন পাঠক প্রোফাইল। পাঠকগণ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নিজের সম্পর্কে গ্রুপে পোস্ট দেন। নির্বাচিত পোস্টগুলো আমরা দেশের বই পোর্টাল-এ প্রকাশ করি। আজ প্রকাশিত প্রকাশিত হলো ইসমত জাহান লিমা’র প্রোফাইল


 

আমি ইসমত জাহান লিমা। জন্ম দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ২নং সাতনালা গ্রামে। পাড়াগাঁয়ের প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনার হাতেখড়ি। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকও শেষ করেছি গ্রামের অখ্যাত স্কুল-কলেজ থেকে। বর্তমানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। বই পড়ার শুরু বলতে আমার যেখানে বেড়ে ওঠা সেখানে সাহিত্য বই পড়ার কোনো সুবিধা ছিল না। আর বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলার মতোও কেউ ছিল না।
অর্থাৎ আশেপাশে বই পড়ুয়া কেউ কিংবা লাইব্রেরি কোনোটাই ছিল না। পাশাপাশি যেসব স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছি সেখানেও সে সুবিধার বালাই ছিল না। কিন্তু, কোথাও কোনো ছেঁড়া পত্রিকার পাতা পেলেই খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। হোক তা গল্প, কবিতা বা সংবাদ। সেই সাথে যে কারো একাডেমিক বাংলা বই পেলেই তার গল্প-কবিতা পড়ে ফেলতাম । প্রাইমারিতে থাকাকালীন খুব সম্ভবত ক্লাস ফোরে কোনো এক বান্ধবীর থেকে নেওয়া “অন্য দেশের রূপ কাহিনী” ও “সুকুমার রায়ের ছোটদের সেরা গল্প” বই দুটো ধার নিয়েছিলাম। (একটা আরেক বান্ধবী ধার নিয়ে ওর কাছে আছে আর একটা এখনও আমার কাছে আছে।)
বলা যেতে পারে এই দুটোই ছিল আমার পড়া প্রথম বই। বই দুটো পড়ে এতো বেশিই উৎসাহ পেয়েছিলাম যে ক্লাস ফাইভে নিজেও ২/৩টা গল্প লিখে ফেলেছিলাম।

এরপর ক্লাস সেভেনে ভাইয়ের একাডেমিক সিলেবাসের “হাজার বছর ধরে” উপন্যাসটা চুপিচুপি পড়েছিলাম। যদিও তখন বয়স কম কিন্তু উপন্যাসটা এত বেশিই পড়েছিলাম যে এখনও প্রায় পুরো কাহিনি অবিস্মৃত আছে। ক্লাস নাইনে ভাইয়ের বইয়ের পদ্মানদীর মাঝি, তিতাস একটি নদীর নাম এবং নাটক জমিদার দর্পন ও রক্তাক্ত প্রান্তর ঠোঁটস্থ করে ফেলি। মামা বাড়িতে গিয়ে মামাতো ভাইয়ের বইয়ের তলা থেকে দু’জন কবির “শূন্যতার মাঝে তোমাকে খুঁজি” কবিতার বই পেয়ে বাড়ি নিয়ে আসি।কবিতাগুলো পড়ে ভাবি আরে এদের চেয়ে তো আমিই ভালো কবিতা লিখতে পারবো। তখন কয়েকটা কবিতা লেখার অপচেষ্টা করি। এই ছিল আমার বই পড়া আর লেখালেখি।
এর বাইরে কোনো বই ছোঁয়াই হয়নি। যদিও আপুদের (কাজিন) চুপিচুপি ২/১টা উপন্যাস পড়তে দেখতাম। কিন্তু তারা ছোটদের ধরতে দিত না। তাদের লুকিয়ে পড়া “বোরখা পড়া সেই মেয়েটি” আর “মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেম” এই দুটো উপন্যাসের নাম মনে আছে।

কলেজে উঠে আর কোনো বই পড়া হয়নি। তবে, আবার কবিতা লিখি। ভার্সিটিতে উঠে নিজের ফোন ও ফেবু একাউন্ট পেলাম।অনেককেই দেখি গল্প, কবিতা লিখতে। এগুলো দেখে নিজেও আবার লেখা শুরু করলাম। বিভিন্ন বইয়ের গ্রুপে যুক্ত হয়ে বইয়ের উপর আকর্ষণ বাড়লো। প্রথম প্রথম দুই একজনের কাছ থেকে ধার নিয়ে পড়লেও পরে নিজে বই সংগ্রহ শুরু করলাম।এখন পড়ার পাশাপাশি লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।বছর দেড়েক জাতীয় পত্রিকাসহ দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প, কবিতা লিখেছি (এখন অবশ্য লেখা পাঠাই না)। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখি একজন লেখক ও কবি হওয়ার। যদিও একে সাধ্যের চেয়ে সাধ বেশি বলা যেতে পারে।
আমার পড়া ভালো লাগার মতো উপন্যাস হলো বরফ গলা নদী, নৌকাডুবি, তিতাস একটি নদীর নাম, সাতকাহন, আদর্শ হিন্দু হোটেল, শাপমোচন ইত্যাদি। পছন্দের কবিতা অনেক তাই নাম বললাম না।
তাছাড়া এখনো অনেক সেরা লেখকদের বই পড়া হয়নি তাই প্রিয় লেখকের তালিকা দিতে ব্যর্থ হলাম। পুরনো লেখকদের অনেক ভালো বই পড়া বাকি আছে তাই নতুনদের বই পড়া হয় না।
আর বই নিয়ে প্রাপ্তি বলতে লেখালেখির সুবাদে এ পর্যন্ত আট কিংবা দশবার পুরষ্কার পেয়েছি। স্বপ্ন দেখি নিজের ব্যক্তিগত সেল্ফ ভর্তি বই থাকবে। সেখানে যখন তখন বইয়ের মাঝে ডুব দেব। সাধ্যমতো ছড়িয়ে দেব বইয়ের কথা।


দেশের বই পোর্টালে লেখা ও খবর পাঠাবার ঠিকানা : desherboi@gmail.com

Facebook Comments Box